ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ফরিদপুরে শ্বশুরকে হত্যার দায়ে জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে শ্বশুর তোতা মিয়াকে হত্যার দায়ে জামাতা একই জেলার সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়রশি গ্রামের বাসিন্দা আমিন ভূঁইয়াকে (৪১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক শিহাবুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার শিকার তোতা মিয়া জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের গফুর মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। গত ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে বারোটার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গফুর মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে তোতা মিয়া বাড়িতে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তোতা মিয়ার মেয়ে আজুফা বেগমের (৩৮) সঙ্গে আমিন ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আমিন বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করে আসছিল। সর্বশেষ জুয়া খেলা ও মাদকের টাকার জন্য আজুফার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলে। এতে আজুফা অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আমিন।

এ নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ফরিদপুরের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আমিনকে তালাক দেয় আজুফা। এ ঘটনা জানার পরে আমিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ২০ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়িতে এসে আমিন ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে বারোটার দিকে তার শ্বশুর তোতা মিয়াকে টিউবয়েলের মাথা দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। ওইদিনই (২১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শহরের রাজবাড়ির রাস্তার মোড় এলাকায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদী হয়ে ২২ জানুয়ারি আমিন ও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেনে।

 

 

হত্যা মামলাটি প্রথমে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল কুমার বিশ্বাস পরে সিআইডি ফরিদপুর জোনের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম এবং সর্বশেষ সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফসার উদ্দিন তদন্ত করে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর আমিনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন বলেন, ১৮৬০ সালের ফৌজদারি আইনের ৩০২ ধারায় এ রায় প্রদান করা হয়। এ রায়ের ফলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৪ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০২৩

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

দেশজুড়ে নানা কর্মসূচিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে শ্বশুরকে হত্যার দায়ে জামাতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩
শেখ মফিজুর রহমান শিপন, যুগ্ম সম্পাদক :

ফরিদপুরে শ্বশুর তোতা মিয়াকে হত্যার দায়ে জামাতা একই জেলার সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়রশি গ্রামের বাসিন্দা আমিন ভূঁইয়াকে (৪১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক শিহাবুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

রায় প্রদানের সময় আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ প্রহরায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার শিকার তোতা মিয়া জেলার সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের গফুর মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। গত ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে বারোটার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গফুর মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামে তোতা মিয়া বাড়িতে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তোতা মিয়ার মেয়ে আজুফা বেগমের (৩৮) সঙ্গে আমিন ভূঁইয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আমিন বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের টাকার জন্য তাকে নির্যাতন করে আসছিল। সর্বশেষ জুয়া খেলা ও মাদকের টাকার জন্য আজুফার বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে বলে। এতে আজুফা অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আমিন।

এ নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ফরিদপুরের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে আমিনকে তালাক দেয় আজুফা। এ ঘটনা জানার পরে আমিন আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর ২০ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়িতে এসে আমিন ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে বারোটার দিকে তার শ্বশুর তোতা মিয়াকে টিউবয়েলের মাথা দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। ওইদিনই (২১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফরিদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শহরের রাজবাড়ির রাস্তার মোড় এলাকায় মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদী হয়ে ২২ জানুয়ারি আমিন ও অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে সদরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেনে।

 

 

হত্যা মামলাটি প্রথমে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অখিল কুমার বিশ্বাস পরে সিআইডি ফরিদপুর জোনের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম এবং সর্বশেষ সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফসার উদ্দিন তদন্ত করে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর আমিনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ওই আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সানোয়ার হোসেন বলেন, ১৮৬০ সালের ফৌজদারি আইনের ৩০২ ধারায় এ রায় প্রদান করা হয়। এ রায়ের ফলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৩৪ ঘণ্টা, জুন ১৫, ২০২৩