ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

৬ মাসেই অকেজো রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম

আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর সোলার প্যানেল প্রকল্পে দুরবস্থা। উচ্চ মূল্য নিম্নমানের সোলার প্যানেল বসানোয় এঅবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজশাহীর একেকটি উপজেলায় সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা। সেই পরিকল্পনা থেকেই রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও একটি থানা এলাকায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
২০২৩ সালে আট হাজার ৩১টি সোলারই অকেজো পাওয়া যায়। সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি(কাবিখা) কাজের বিনিময়ে টাকা(কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ হয় এসব সোলার। তিন বছর ওয়ারেন্টির মেয়াদে দেওয়া হবে সব ধরনের সার্ভিসিং সেবার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এসব স্থাপনার অধিকাংশই টেকেনি ছয় মাসের বেশি।
জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় অর্ধশত আট হাজার ৩৭৪টি সোলার হোম সিস্টেম, ছয় হাজার ৯৮৩টি সড়ক সৌরবাতি, ২৫৮টি এসি সিস্টেম, ২৮টি ডিসি সিস্টেম ও ৯০৩টি উন্নত সোলার চুলা স্থাপন হয়। এর জন্য প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।
সৌরবাতির অধিকাংশই ছয় মাসও টেকেনি। সাধারণ সময়ের পাশাপাশি তারা লোডশেডিং হলে এসব সোলার ব্যবহার করতেন। বাসাবাড়িতে দেওয়া সোলার হোম সিস্টেম নষ্ট হলে বাড়ির লোকজন কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে মেরামত করে নিয়েছেন। কিন্তু যাদের সাধ্য নেই তাদের অধিকাংশই মেরামত করেননি।
এদিকে ২০২৩ সালে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছিলেন সালাহ উদ্দিন আল ওয়াদুদ। তিনি এখন ঢাকা জেলার একই পদের কর্মকর্তা। তিনি ওই বছর রাজশাহী জেলার সচল ও অচল সোলার নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনে মোট ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলারের মধ্যে আট হাজার ৫১৫টি সচল এবং আট হাজার ৩১টি সোলার অচল বলে উল্লেখ করেন।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হোম সোলার সিস্টেমগুলো ভালো সার্ভিস দেয়নি। সড়কবাতিও বেশি দিন জ্বলেনি। স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপনের পর কোনো খোঁজ রাখেনি। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কিছু চালু রেখেছেন।
রাজশাহীর পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের সমেজের মোড়ে দুটি এবং তাহেরের মোড়ে দুটি সৌরবাতি স্থাপন করা হয়। এর কয়েকটি এক বছর, কয়েকটি ছয় মাস ভালো ছিল। এরপর নষ্ট হয়ে যায়। কেউ মেরামত করতে আসেনি।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘এগুলো অনেক আগের প্রকল্প। তখন আসলে কী হয়েছিল তা জানি না।’
রাজশাহীর পবা উপজেলায় চার কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে ৮৫৫টি সোলার সিস্টেম প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টের বরাদ্দ ধরা হয় ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা।
পবার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশে বেশ কয়েকটি সড়কবাতি লাগানো হলেও সেগুলো বেশিদিন জ্বলেনি। বিকল থাকার বিষয়টি উপজেলা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। কিন্তু তা ঠিক করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল বাসির বলেন, স্থাপনের তিন বছর পরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায় নেই। নতুন বরাদ্দ এলে আবার নতুন করে স্থাপন করা হবে।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইডকলের সহযোগী বিভিন্ন কোম্পানি এসব সোলার স্থাপন কাজ করে। এগুলো বাসাবাড়ি, মসজিদ ও মন্দিরে স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টির মেয়াদ ছিল তিন বছর। সে সময় কোম্পানিগুলো সার্ভিস দেওয়ার কথা। তবে তখন তিনি এখানে দায়িত্বে ছিলেন না।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি: দিলারা চৌধুরী

error: Content is protected !!

৬ মাসেই অকেজো রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম

আপডেট টাইম : ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
আলিফ হোসেনঃ
রাজশাহীর সোলার প্যানেল প্রকল্পে দুরবস্থা। উচ্চ মূল্য নিম্নমানের সোলার প্যানেল বসানোয় এঅবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজশাহীর একেকটি উপজেলায় সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা। সেই পরিকল্পনা থেকেই রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও একটি থানা এলাকায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
২০২৩ সালে আট হাজার ৩১টি সোলারই অকেজো পাওয়া যায়। সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি(কাবিখা) কাজের বিনিময়ে টাকা(কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ হয় এসব সোলার। তিন বছর ওয়ারেন্টির মেয়াদে দেওয়া হবে সব ধরনের সার্ভিসিং সেবার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এসব স্থাপনার অধিকাংশই টেকেনি ছয় মাসের বেশি।
জানা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় অর্ধশত আট হাজার ৩৭৪টি সোলার হোম সিস্টেম, ছয় হাজার ৯৮৩টি সড়ক সৌরবাতি, ২৫৮টি এসি সিস্টেম, ২৮টি ডিসি সিস্টেম ও ৯০৩টি উন্নত সোলার চুলা স্থাপন হয়। এর জন্য প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।
সৌরবাতির অধিকাংশই ছয় মাসও টেকেনি। সাধারণ সময়ের পাশাপাশি তারা লোডশেডিং হলে এসব সোলার ব্যবহার করতেন। বাসাবাড়িতে দেওয়া সোলার হোম সিস্টেম নষ্ট হলে বাড়ির লোকজন কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে মেরামত করে নিয়েছেন। কিন্তু যাদের সাধ্য নেই তাদের অধিকাংশই মেরামত করেননি।
এদিকে ২০২৩ সালে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছিলেন সালাহ উদ্দিন আল ওয়াদুদ। তিনি এখন ঢাকা জেলার একই পদের কর্মকর্তা। তিনি ওই বছর রাজশাহী জেলার সচল ও অচল সোলার নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনে মোট ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলারের মধ্যে আট হাজার ৫১৫টি সচল এবং আট হাজার ৩১টি সোলার অচল বলে উল্লেখ করেন।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের(ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হোম সোলার সিস্টেমগুলো ভালো সার্ভিস দেয়নি। সড়কবাতিও বেশি দিন জ্বলেনি। স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপনের পর কোনো খোঁজ রাখেনি। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কিছু চালু রেখেছেন।
রাজশাহীর পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের সমেজের মোড়ে দুটি এবং তাহেরের মোড়ে দুটি সৌরবাতি স্থাপন করা হয়। এর কয়েকটি এক বছর, কয়েকটি ছয় মাস ভালো ছিল। এরপর নষ্ট হয়ে যায়। কেউ মেরামত করতে আসেনি।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘এগুলো অনেক আগের প্রকল্প। তখন আসলে কী হয়েছিল তা জানি না।’
রাজশাহীর পবা উপজেলায় চার কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে ৮৫৫টি সোলার সিস্টেম প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টের বরাদ্দ ধরা হয় ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা।
পবার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশে বেশ কয়েকটি সড়কবাতি লাগানো হলেও সেগুলো বেশিদিন জ্বলেনি। বিকল থাকার বিষয়টি উপজেলা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। কিন্তু তা ঠিক করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল বাসির বলেন, স্থাপনের তিন বছর পরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায় নেই। নতুন বরাদ্দ এলে আবার নতুন করে স্থাপন করা হবে।
রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইডকলের সহযোগী বিভিন্ন কোম্পানি এসব সোলার স্থাপন কাজ করে। এগুলো বাসাবাড়ি, মসজিদ ও মন্দিরে স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টির মেয়াদ ছিল তিন বছর। সে সময় কোম্পানিগুলো সার্ভিস দেওয়ার কথা। তবে তখন তিনি এখানে দায়িত্বে ছিলেন না।