ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে জাতীয় প্রেস ক্লাব

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশের সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতার এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। গত ১৯৫৪ সালের দিকে ভাষা আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক যুগান্তকারী প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর গঠনতন্ত্রে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, পেশাগত উৎকর্ষ এবং সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং নীরবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে গণমুখী করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন, যা উপমহাদেশে অত্যন্ত বিরল ও গৌরবোজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্য উভয়ের মাধ্যমেই মূলত মানুষের মনোজগতে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়। ফরাসি পত্রিকা ল্য মোন্দ-এর প্রতিষ্ঠাতা উব্যের দ্য ব্যোভ মেরির মতে, গণমাধ্যম হলো এমন একটি যৌথ স্বপ্ন যা মানুষ প্রতিনিয়ত অবলোকন করে। অন্যদিকে সাহিত্যের স্বপ্ন প্রকাশের পরিধি কিছুটা সীমিত ও নির্জন হলেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব মানবজীবনকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। সংবাদকে অনেক সময় ত্বরিত সাহিত্য বা লিটারেচার ইন হারি বলা হয়ে থাকে, যা কেবল তথ্যই দেয় না বরং সমাজ জীবনে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের বার্তা বয়ে আনে।

সাংবাদিকতার ভাষা সাধারণত নিরাভরণ ও তথ্যবহুল এবং সাহিত্যের ভাষা কল্পনাশাশ্রয়ী হলেও উভয়ের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এই ভূখণ্ডের লেখকরা। কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা জীবন এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে তার সম্পাদকীয় রচনায় কবিতার মতো তেজদীপ্ত ও লাবণ্যময় ভাষার প্রকাশ দেখা যায়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত তার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ভাষার যে তেজ ও সাহিত্যিক গুণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, তা আজও সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মেলবন্ধনের এক অনন্য ইতিহাস হয়ে রয়েছে।

এই উপমহাদেশে সংবাদপত্রের সূচনা হয়েছিল মূলত ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। হিকির গেজেট কিংবা পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের হাত ধরে বাংলা ভাষায় মুদ্রণমাধ্যমের বিকাশ ঘটে, যা সরাসরি জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ সাংবাদিকতাকে আত্মসম্মান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের শীতল ছায়ায় বেড়ে ওঠা এই সাংবাদিক-সাহিত্যিকরা বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় রচনা করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যে জাতীয় প্রেস ক্লাব

আপডেট টাইম : ৪৬ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ দেশের সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতার এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে। গত ১৯৫৪ সালের দিকে ভাষা আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার এক যুগান্তকারী প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর গঠনতন্ত্রে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম, পেশাগত উৎকর্ষ এবং সাহিত্য সংস্কৃতির বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, বরং নীরবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে গণমুখী করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন, যা উপমহাদেশে অত্যন্ত বিরল ও গৌরবোজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্য উভয়ের মাধ্যমেই মূলত মানুষের মনোজগতে স্বপ্নের বীজ বপন করা হয়। ফরাসি পত্রিকা ল্য মোন্দ-এর প্রতিষ্ঠাতা উব্যের দ্য ব্যোভ মেরির মতে, গণমাধ্যম হলো এমন একটি যৌথ স্বপ্ন যা মানুষ প্রতিনিয়ত অবলোকন করে। অন্যদিকে সাহিত্যের স্বপ্ন প্রকাশের পরিধি কিছুটা সীমিত ও নির্জন হলেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব মানবজীবনকে গভীরভাবে আলোড়িত করে। সংবাদকে অনেক সময় ত্বরিত সাহিত্য বা লিটারেচার ইন হারি বলা হয়ে থাকে, যা কেবল তথ্যই দেয় না বরং সমাজ জীবনে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের বার্তা বয়ে আনে।

সাংবাদিকতার ভাষা সাধারণত নিরাভরণ ও তথ্যবহুল এবং সাহিত্যের ভাষা কল্পনাশাশ্রয়ী হলেও উভয়ের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন এই ভূখণ্ডের লেখকরা। কাজী নজরুল ইসলামের সাংবাদিকতা জীবন এর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে তার সম্পাদকীয় রচনায় কবিতার মতো তেজদীপ্ত ও লাবণ্যময় ভাষার প্রকাশ দেখা যায়। ১৯২২ সালে প্রকাশিত তার ‘ধূমকেতু’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ভাষার যে তেজ ও সাহিত্যিক গুণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল, তা আজও সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের মেলবন্ধনের এক অনন্য ইতিহাস হয়ে রয়েছে।

এই উপমহাদেশে সংবাদপত্রের সূচনা হয়েছিল মূলত ঔপনিবেশিক শাসনের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। হিকির গেজেট কিংবা পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদপত্রের হাত ধরে বাংলা ভাষায় মুদ্রণমাধ্যমের বিকাশ ঘটে, যা সরাসরি জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ সাংবাদিকতাকে আত্মসম্মান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের শীতল ছায়ায় বেড়ে ওঠা এই সাংবাদিক-সাহিত্যিকরা বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায় রচনা করেছেন।