ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ওসমানী উদ্যান: ৯ বছরের আধুনিকায়ন শেষে খুলল উদ্যান

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে চলা সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ শেষে অবশেষে নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হলো রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানে নতুন রূপে সাজানো এই উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ২২ একর আয়তনের এই উদ্যানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রাজধানীবাসীর হাঁটাচলা ও বিনোদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল। পার্কটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাঁরা আবার প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

উদ্বোধনের পর উদ্যানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির নতুন গাছপালা লাগানোর পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও শরীরচর্চার জন্য নানা অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুদৃশ্য হাঁটার পথ, জলাশয়, বসার স্থান এবং আধুনিক জিমনেসিয়াম। ২০১৭ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ নানা জটিলতার কারণে কাজটি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং সম্প্রতি এর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়।

নবরূপায়িত এই উদ্যানের অন্যতম প্রধান সংযোজন হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে ৯০ ফুট উঁচু এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ৮৩৪ জনের নাম খোদাই করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও সংগ্রাম এই স্মৃতিস্তম্ভের ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্যানের প্রবেশপথগুলোও নতুন নক্সায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষ হলেও উদ্যানের কিছু অংশের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতরে হাঁটার পথের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং একটি লেকে পর্যাপ্ত পানি না থাকার মতো কিছু ত্রুটিও রয়েছে। এ ছাড়া নগর-পরিকল্পনাবিদদের একাংশ অতিরিক্ত কংক্রিট ব্যবহারের ফলে উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পার্কটি উন্মুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে শিশু-কিশোর ও নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় উদ্যানটি মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

ওসমানী উদ্যান: ৯ বছরের আধুনিকায়ন শেষে খুলল উদ্যান

আপডেট টাইম : ৫৪ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় নয় বছর ধরে চলা সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজ শেষে অবশেষে নগরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হলো রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ওসমানী উদ্যান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক অনুষ্ঠানে নতুন রূপে সাজানো এই উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রায় ২২ একর আয়তনের এই উদ্যানটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় রাজধানীবাসীর হাঁটাচলা ও বিনোদনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল। পার্কটি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাঁরা আবার প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

উদ্বোধনের পর উদ্যানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির নতুন গাছপালা লাগানোর পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও শরীরচর্চার জন্য নানা অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুদৃশ্য হাঁটার পথ, জলাশয়, বসার স্থান এবং আধুনিক জিমনেসিয়াম। ২০১৭ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল এবং ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসহ নানা জটিলতার কারণে কাজটি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় এবং সম্প্রতি এর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হয়।

নবরূপায়িত এই উদ্যানের অন্যতম প্রধান সংযোজন হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে ৯০ ফুট উঁচু এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে আন্দোলনে শহীদ ৮৩৪ জনের নাম খোদাই করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও সংগ্রাম এই স্মৃতিস্তম্ভের ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্যানের প্রবেশপথগুলোও নতুন নক্সায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষ হলেও উদ্যানের কিছু অংশের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতরে হাঁটার পথের কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে এবং একটি লেকে পর্যাপ্ত পানি না থাকার মতো কিছু ত্রুটিও রয়েছে। এ ছাড়া নগর-পরিকল্পনাবিদদের একাংশ অতিরিক্ত কংক্রিট ব্যবহারের ফলে উদ্যানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পার্কটি উন্মুক্ত হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে শিশু-কিশোর ও নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় উদ্যানটি মুখরিত হয়ে উঠতে শুরু করেছে।