ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন মুকসুদপুরের কৃষকরা

বাদশাহ মিয়া:

 

কয়েক বছর আগেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে অর্থকরী ফসল আখের চাষ হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের আখ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেলেও সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।

 

কৃষকদের দাবি, আখ চাষে সরকারি সহায়তা, সার-কীটনাশক ও উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদিত আখের বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা হলে এ ফসলের চাষ আবারও সম্প্রসারিত হতে পারে।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টেংরাখোলা, পশারগাতী, গোবিন্দপুর, মহারাজপুর, বাটিকামারী ও বাহিরবাগ গ্রাম একসময় আখ চাষের জন্য পরিচিত ছিল। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এসব এলাকায় প্রচুর আখ চাষ হতো। তবে বর্তমানে উপজেলায় মাত্র ৩৫ জন কৃষক আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

 

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে।

 

উপজেলার কদমপুর গ্রামের আখচাষি মো. ইদ্রিস মোল্যা বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে আখ চাষ করছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভও ভালো। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে চাষিদের তেমন খোঁজখবর নেওয়া হয় না। অন্যান্য ফসলের মতো আখচাষিদের বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক দেওয়া হলে আগের মতো এ ফসলের সুদিন ফিরতে পারে।’

 

টেংরাখোলা গ্রামের আখচাষি মোক্তার শেখ বলেন, ‘আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও ফলন ভালো হয়। এ বছর এক একর জমিতে আখ চাষ করেছি। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। তবে এলাকায় কোনো সুগার মিল না থাকায় হাট-বাজারে নিয়ে আখ বিক্রি করতে হয়। সুগার মিল কর্তৃপক্ষ যদি সরাসরি কৃষকের জমি থেকে আখ কিনত, তাহলে চাষিরা আরও উৎসাহিত হতেন।’

 

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকল কর্তৃপক্ষ, কৃষি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তবে মুকসুদপুর অঞ্চল কোনো চিনিকলের আওতাভুক্ত না হওয়ায় এখানকার আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। কৃষকরা আখ চাষের বিষয়ে কোনো পরামর্শ চাইলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয়

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আসমানখালী পুলিশ ক্যাম্পে পুলিশ সুপারের বার্ষিক পরিদর্শন

error: Content is protected !!

সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন মুকসুদপুরের কৃষকরা

আপডেট টাইম : ৮ ঘন্টা আগে
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

বাদশাহ মিয়া:

 

কয়েক বছর আগেও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে অর্থকরী ফসল আখের চাষ হতো। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ অঞ্চলের আখ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেলেও সরকারি সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা।

 

কৃষকদের দাবি, আখ চাষে সরকারি সহায়তা, সার-কীটনাশক ও উন্নত জাতের বীজ সরবরাহের পাশাপাশি উৎপাদিত আখের বাজারজাতকরণে সহযোগিতা করা হলে এ ফসলের চাষ আবারও সম্প্রসারিত হতে পারে।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, টেংরাখোলা, পশারগাতী, গোবিন্দপুর, মহারাজপুর, বাটিকামারী ও বাহিরবাগ গ্রাম একসময় আখ চাষের জন্য পরিচিত ছিল। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এসব এলাকায় প্রচুর আখ চাষ হতো। তবে বর্তমানে উপজেলায় মাত্র ৩৫ জন কৃষক আখ চাষের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

 

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে।

 

উপজেলার কদমপুর গ্রামের আখচাষি মো. ইদ্রিস মোল্যা বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে আখ চাষ করছি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভও ভালো। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে চাষিদের তেমন খোঁজখবর নেওয়া হয় না। অন্যান্য ফসলের মতো আখচাষিদের বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক দেওয়া হলে আগের মতো এ ফসলের সুদিন ফিরতে পারে।’

 

টেংরাখোলা গ্রামের আখচাষি মোক্তার শেখ বলেন, ‘আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও ফলন ভালো হয়। এ বছর এক একর জমিতে আখ চাষ করেছি। এতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আখ বিক্রি করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। তবে এলাকায় কোনো সুগার মিল না থাকায় হাট-বাজারে নিয়ে আখ বিক্রি করতে হয়। সুগার মিল কর্তৃপক্ষ যদি সরাসরি কৃষকের জমি থেকে আখ কিনত, তাহলে চাষিরা আরও উৎসাহিত হতেন।’

 

মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকল কর্তৃপক্ষ, কৃষি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আখ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তবে মুকসুদপুর অঞ্চল কোনো চিনিকলের আওতাভুক্ত না হওয়ায় এখানকার আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। কৃষকরা আখ চাষের বিষয়ে কোনো পরামর্শ চাইলে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয়