রাজনীতি ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়কে কোনো নির্দিষ্ট দলের ভোটব্যাংক হিসেবে না ভেবে দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরের একটি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সরকার পরিবর্তনের পর দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ বা বিভাজন রাষ্ট্র কখনোই সমর্থন করে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যেমন সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রক্ত দিয়েছেন, ঠিক তেমনি চব্বিশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও সবার সরব অংশগ্রহণ ছিল। বাংলাদেশে কাউকে সংখ্যালঘু হিসেবে ছোট করে দেখতে চায় না সরকার, বরং সবার একক পরিচয় হবে গর্বিত বাংলাদেশি নাগরিক। এছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও বৈদিক ঐতিহ্যকে যথাযথ সম্মান জানানোর ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে সনাতন সম্প্রদায়ের ওপর চলা নানা অনিয়ম ও অবিচারের কঠোর সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন যে, ১৯৭২ সালের পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বহু সম্পত্তি জবরদখল করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের বেআইনি দখলের ঘটনা ঘটলেও ভুক্তভোগীরা ভয়ে অনেক সময় তা প্রকাশ করতে চাননি বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব পুরোনো বঞ্চনা ও অধিকার হীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এর দায় দলটির ওপর বর্তায় না। দেশের সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার মেলবন্ধনে একটি নতুন এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শুধু কথার কথা নয়, বরং বাস্তবে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। পরিশেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত ও পূজারিদের শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 






















