ঢাকা , শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

সদরপুরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্যপন্ন মানা হচ্ছেনা মিয়মনীতি

শিমুল তালুকদারঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়াইরশি গ্রামের ‘মেসার্স মা বাবার দোয়া’ বেকারিতে কোনো ধরনের নিয়মনীতি ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানে নোংরা ও খালি হাতে বিস্কুট, রুটি, কেক, ক্রিমরোল, বাটারবন ও টোস্ট বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি এবং প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

 

​সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারির মালিক মো. ফারুকের নির্দেশনায় শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খালি হাতেই এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করছে বলে জানান শ্রমিকরা।

 

​বিএসটিআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের সময় শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। এমনকি উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করার নিয়ম থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বেকারির মালিক ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, “এগুলো লাগে না, কারণ আজ তৈরি করলে কালকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।”

 

​ অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভেজাল উপাদান মিশিয়ে এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। যেমন, সকল প্রকার পাওরুটি তৈরী করতে মেশানো হুয় ইস্ট বার্মা, সকল প্রকার বিস্কিট তৈরিতে মেসানো হয় বিসাক্ত এমোনীয়া, খাইসোডা ও বিসাক্ত এমোনীয়া মিক্সড করে তৈরি করা হয় বেকিন পাউডার। তারপর সেই বিসাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি খাদ্যপন্ন খেয়ে শিশুদের মারাত্বক স্বাস্থঝুকি রয়েছে। এসব খাবার খেয়ে এলাকার শিশুরা নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

​অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়মানুযায়ী বেকারিতে কর্মরত শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মালিকের কাছে কোনো শ্রমিকেরই এনআইডির কপি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকদের সঠিক পরিচয় বা নথি না থাকায় তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

 

​এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বেকারিতে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা এবং সতর্ক করলেও বন্ধ হয়নি ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। ​সদরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “অবশ্যই খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্যাকেটজাত করার সময়ে শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস থাকা বাধ্যতামূলক।”

 

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অবিলম্বে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর বেকারির সব কাগজপত্র যাচাই করে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আ’লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে জামায়াতের আমির মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেঃ -রাশেদ খান

error: Content is protected !!

সদরপুরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাদ্যপন্ন মানা হচ্ছেনা মিয়মনীতি

আপডেট টাইম : ১০ ঘন্টা আগে
শিমুল তালুকদার, বিশেষ প্রতিনিধি :

শিমুল তালুকদারঃ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়াইরশি গ্রামের ‘মেসার্স মা বাবার দোয়া’ বেকারিতে কোনো ধরনের নিয়মনীতি ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানে নোংরা ও খালি হাতে বিস্কুট, রুটি, কেক, ক্রিমরোল, বাটারবন ও টোস্ট বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি এবং প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

 

​সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বেকারির মালিক মো. ফারুকের নির্দেশনায় শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খালি হাতেই এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করছে বলে জানান শ্রমিকরা।

 

​বিএসটিআইয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যপণ্য প্রস্তুতের সময় শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। এমনকি উৎপাদিত পণ্যের প্যাকেটে উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করার নিয়ম থাকলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বেকারির মালিক ফারুকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান, “এগুলো লাগে না, কারণ আজ তৈরি করলে কালকের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়।”

 

​ অভিযোগ রয়েছে, রাতের আঁধারে বিভিন্ন ভেজাল উপাদান মিশিয়ে এসব খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়। যেমন, সকল প্রকার পাওরুটি তৈরী করতে মেশানো হুয় ইস্ট বার্মা, সকল প্রকার বিস্কিট তৈরিতে মেসানো হয় বিসাক্ত এমোনীয়া, খাইসোডা ও বিসাক্ত এমোনীয়া মিক্সড করে তৈরি করা হয় বেকিন পাউডার। তারপর সেই বিসাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি খাদ্যপন্ন খেয়ে শিশুদের মারাত্বক স্বাস্থঝুকি রয়েছে। এসব খাবার খেয়ে এলাকার শিশুরা নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

 

​অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নিয়মানুযায়ী বেকারিতে কর্মরত শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি সংরক্ষণ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মালিকের কাছে কোনো শ্রমিকেরই এনআইডির কপি নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রমিকদের সঠিক পরিচয় বা নথি না থাকায় তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালেও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না।

 

​এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বেকারিতে কয়েক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা এবং সতর্ক করলেও বন্ধ হয়নি ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। ​সদরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “অবশ্যই খাদ্যপণ্য তৈরি এবং প্যাকেটজাত করার সময়ে শ্রমিকদের হাতে গ্লোভস থাকা বাধ্যতামূলক।”

 

​স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অবিলম্বে এই অবৈধ ও অস্বাস্থ্যকর বেকারির সব কাগজপত্র যাচাই করে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করা প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।