ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, হত্যা, মন্দির ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, হত্যা, মন্দির ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে সম্মিলিত হিন্দু সমাজের উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
 আজ শনিবার বিকেল তিনটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ফরিদপুরের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা ও  বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন ‌ শ্রীধাম শ্রী অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ডক্টর নির্মল বন্ধু ব্রহ্মচারী, ননীগোপাল রায় , ডাক্তার প্রকাশ স্বরূপ অপু, অজয় কুমার রায়, রাম দত্ত, শ্যামল কর্মকার, শিপ্রা গোস্বামী, সিতাংশু মিত্র কিংকর, সুকেশ সাহা প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
এছাড়াও তারা সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ৯ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো-
১। গত কয়েকদিনে দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর ভাঙচুর, লুটপাট নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা এবং নিরীহ সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২। সীমান্ত সংলগ্ন যেসব অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্তে চলে যাওযার তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সম্মানের সহিত নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনা। প্রয়োজনবোধে সরকারি উদ্যোগে তাদের গৃহ নির্মাণ ও পূনর্বাসন করা।
৩। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পূর্ণাঙ্গ রূপে হিন্দু ফাউন্ডেশন হিসেবে নিবন্ধন এবং তার সামগ্রিক কর্মপরিসর ও অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি করে, কোনো প্রকার দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ব্যক্তি ব্যতীত নিরপেক্ষ ও সনাতনীদের প্রকৃত শুভচিন্তক ব্যক্তিদের দ্বারা পুনর্গঠন।
৪। সরকারের সকল পর্যায়ে সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৫। বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ন্যায় পৃথক, স্বতন্ত্র “জাতীয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন” গঠন, যা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতনের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তাপূর্বক ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সাহায্য করবে।
৬। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান এবং আক্রমণের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন। পরিস্থিতি পূর্ণরূপে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান।
৭। বিশেষ “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সংখ্যালঘুদের মন্দির, ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাটে দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শান্তি গ্রহণ।
৮। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব নির্বিঘ্নে যথাবিধি পালন হওয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান।
৯। পূর্ববর্তী সরকারের আমলসহ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্ধাতন, ধর্ষণ, অগ্নিযোংগের বিচার চাই।
এর আগে একাধিক স্থান থেকে বিভিন্ন মিছিল ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়। এটি শহর প্রদক্ষিণ  শেষে গোয়ালচামটের শ্রীধাম শ্রী অঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে আগামীকাল রবিবার  বিকেল তিনটায় একই দাবিতে মানববন্ধন ও  বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে  সংগঠকেরা জানান।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, হত্যা, মন্দির ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, হত্যা, মন্দির ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে সম্মিলিত হিন্দু সমাজের উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
 আজ শনিবার বিকেল তিনটায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ফরিদপুরের বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা ও  বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য রাখেন ‌ শ্রীধাম শ্রী অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ডক্টর নির্মল বন্ধু ব্রহ্মচারী, ননীগোপাল রায় , ডাক্তার প্রকাশ স্বরূপ অপু, অজয় কুমার রায়, রাম দত্ত, শ্যামল কর্মকার, শিপ্রা গোস্বামী, সিতাংশু মিত্র কিংকর, সুকেশ সাহা প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
এছাড়াও তারা সংখ্যালঘুদের রক্ষায় ৯ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো-
১। গত কয়েকদিনে দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর ভাঙচুর, লুটপাট নির্যাতনের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা এবং নিরীহ সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী ও জনসাধারণকে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২। সীমান্ত সংলগ্ন যেসব অঞ্চলের মানুষের ঘরবাড়ি ছেড়ে সীমান্তে চলে যাওযার তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ও সম্মানের সহিত নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনা। প্রয়োজনবোধে সরকারি উদ্যোগে তাদের গৃহ নির্মাণ ও পূনর্বাসন করা।
৩। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে পূর্ণাঙ্গ রূপে হিন্দু ফাউন্ডেশন হিসেবে নিবন্ধন এবং তার সামগ্রিক কর্মপরিসর ও অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি করে, কোনো প্রকার দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ব্যক্তি ব্যতীত নিরপেক্ষ ও সনাতনীদের প্রকৃত শুভচিন্তক ব্যক্তিদের দ্বারা পুনর্গঠন।
৪। সরকারের সকল পর্যায়ে সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
৫। বিদ্যমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ন্যায় পৃথক, স্বতন্ত্র “জাতীয় সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন” গঠন, যা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতনের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করে আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তাপূর্বক ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সাহায্য করবে।
৬। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনায় বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান এবং আক্রমণের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন। পরিস্থিতি পূর্ণরূপে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে এই ব্যাপারে দায়িত্ব প্রদান।
৭। বিশেষ “সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিশেষ গুরুত্বের সাথে সংখ্যালঘুদের মন্দির, ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাটে দ্রুততম সময়ে বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শান্তি গ্রহণ।
৮। সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব নির্বিঘ্নে যথাবিধি পালন হওয়ার ব্যাপারে উপযুক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান।
৯। পূর্ববর্তী সরকারের আমলসহ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, নির্ধাতন, ধর্ষণ, অগ্নিযোংগের বিচার চাই।
এর আগে একাধিক স্থান থেকে বিভিন্ন মিছিল ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে উপস্থিত হয়। এটি শহর প্রদক্ষিণ  শেষে গোয়ালচামটের শ্রীধাম শ্রী অঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়।
এদিকে আগামীকাল রবিবার  বিকেল তিনটায় একই দাবিতে মানববন্ধন ও  বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে  সংগঠকেরা জানান।