ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: জাহেদ উর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনাপর্ব থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি মূলত গণতান্ত্রিক চর্চাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল বাহাত্তরের সংবিধান ও তিয়াত্তরের নির্বাচন নিয়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সে সময়কার নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের কোনো ন্যূনতম সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ছিল না। তা সত্ত্বেও কেন সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও বুঝতে পেরেছিলেন যে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে তাঁর দলের নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে। এই আশঙ্কা থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। অথচ নিশ্চিত বিজয় জেনেও শেখ মুজিব প্রথম নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন যে, একটি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে অনেকে রাজনৈতিক দল বিএনপিকে শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য প্রকারান্তরে সাধারণ জনগণের মৌলিক ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে হলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐকমত্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন কমিশন নানা বিষয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত পোষণের বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে তাঁরা সাধুবাদ জানালেও বিদায়ের আগে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে যেভাবে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে অপহরণের ১০ ঘণ্টা পর উদ্ধার ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা, গ্রেপ্তার ৩

error: Content is protected !!

শেখ মুজিবের হাতেই স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ধ্বংসের সূচনা: জাহেদ উর রহমান

আপডেট টাইম : ৫০ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

রাজনীতি ডেস্ক: স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনাপর্ব থেকেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির মাধ্যমে তিনি মূলত গণতান্ত্রিক চর্চাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

সেমিনারের আলোচ্য বিষয়বস্তু ছিল বাহাত্তরের সংবিধান ও তিয়াত্তরের নির্বাচন নিয়ে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সে সময়কার নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের পরাজয়ের কোনো ন্যূনতম সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ছিল না। তা সত্ত্বেও কেন সেই নির্বাচনে ভোট কারচুপি করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাও বুঝতে পেরেছিলেন যে নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে তাঁর দলের নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে। এই আশঙ্কা থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারগুলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার উদ্দেশ্যে পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। অথচ নিশ্চিত বিজয় জেনেও শেখ মুজিব প্রথম নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

নির্বাচনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা আরও বলেন যে, একটি দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার বা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রকাশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সময়ে অনেকে রাজনৈতিক দল বিএনপিকে শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু এ ধরনের বক্তব্য প্রকারান্তরে সাধারণ জনগণের মৌলিক ভোটাধিকারকেই অস্বীকার করার শামিল। জনগণের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করতে হলে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় ঐকমত্য ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন কমিশন নানা বিষয়ে আলোচনা করলেও চূড়ান্ত জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় নোট অব ডিসেন্ট বা দ্বিমত পোষণের বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল। দেশের ক্রান্তিলগ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে তাঁরা সাধুবাদ জানালেও বিদায়ের আগে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে যেভাবে এই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, তা ভবিষ্যতে নির্বাচিত সংসদকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অপচেষ্টা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্‌সান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান ও গবেষক মাহমুদা হাবীবা।