ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

শুধু খরচের দাম ৭ লাখ হলেই বিক্রি করে দেব ৩০ মণের কালো পাহাড়কে

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বিলকাঠিয়া গ্রামের কৃষক টুটুল শেখ শেখ। গরুটি বিক্রি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লিটনের ছেলে সরুজ আলী শেখও। তিনি বলেন, এতো বড় গরু ঢাকায় নেওয়া মুশকিল। ডাকাতি, ছিনতাই ও মারা যাওয়ার ভয় আছে। তাই বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এখন আর লাভের চিন্তা করছি না। কোনোরকম খরচের দাম হলেই ছেড়ে দেব। ভবিষ্যতে আর বড় গরু পালন করবেন না বলে জানান তিনি।

–

টিনশেডের মেঝে পাকা ঘরে রাখা হয় কালো পাহাড়কে। দিনের বেলায় ঘরের সামনের বরইগাছে বেঁধে রাখা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবার খায় প্রায় এক হাজার টাকার। অতিরিক্ত গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাসও করতে হয় কালো রঙের এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিকে।

–

এভাবেই সাড়ে তিন বছর ধরে কালো পাহাড় নামের গরুটিকে সন্তানের মত লালনপালন করেছেন কৃষক টুটুল শেখ, তার স্ত্রী মিরানা খাতুন ও ছেলে সুরুজ আলী শেখ। তারা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বিলকাঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

–

গত বছর ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছিল ব্যাপারীরা। তবে ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দাম বলেনি কেউ। এদিকে কোরবানির আর ১ দিন বাকি। এ অবস্থায় গরুর প্রতিদিনের খরচ ও বেচাবিক্রি নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।

–

তাদের ভাষ্য, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বাড়ির গাভি থেকে জন্ম নেয় হলিস্তিন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি বাছুর। সেই বাছুরটিই আজকের বিশাল ষাঁড় কালো পাহাড়। যার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। লেজ থেকে মাথার দ্যৈর্ঘ প্রায় সাড়ে আট ফুট। গরুটির ওজন ধরা হয়েছে প্রায় ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। ১২ লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা ছিল।

–

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে গোয়ালঘর থেকে গরুটিকে বের করে উঠানের বরইগাছে বাধা হচ্ছে। বেশ লাফঝাঁপ করছে গরুটি। কুচকুচে কালো ও বিশাল দেহের অধিকারী গরুটি বেশ তরতাজা। তাকে দেখতে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

–

কৃষক লিটন শেখ বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। ঘোরপ্যাঁচ বুঝি না। খাবার হিসেবে গরুটি প্রতিদিনই কাঁচা ঘাস, খর, গম ও ছোলার ভুসিসহ প্রায় এক হাজার টাকার প্রাকৃতিক দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। সন্তানের মতোই লালন পালন করা বিশাল আকৃতির এই গরুটির গত বছর কোরবানির ঈদের সময় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত কেউ দাম বলেনি। প্রতিনিধি বিক্রির টাকা দিয়ে আবারো গরু কিনব ও চাষাবাদের জন্য একটু জমি কিনব।

–

তিনি আরও বলেন, এবার বড় গরু কেনার লোক নেই। দামও নেই। সেজন্য শুধু খরচের দাম ৭ লাখ হলেই বিক্রি করে দেব।

–

লিটনের স্ত্রী মিরানা খাতুন বলেন, প্রতিদিনই চার-পাঁচ বার গোসল করানো হয়। কারেন্ট চলে গেলে পাখা দিয়ে বাতাস করি। সারাক্ষণ গোয়ালঘরে পরে থাকি। বিক্রির কথা শুনে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কান্না পাচ্ছে।

–

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক আজিজ মোল্লা বলেন, এতো বড় গরু আগে কখনও এই এলাকায় হয়নি। পাহাড়ের মত বিশাল গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ছুটে আসে। আমিও প্রায় দিনই আসি। তবে কেনার লোক নাই এবার।

–

গরুটি বিক্রি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন টুটুলের ছেলে সরুজ আলী শেখ। তিনি বলেন, এতো বড় গরু ঢাকায় নেওয়া মুশকিল। ডাকাতি, ছিনতাই ও মারা যাওয়ার ভয় আছে। তাই বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এখন আর লাভের চিন্তা করছি না। কোনোরকম খরচের দাম হলেই ছেড়ে দেব। ভবিষ্যতে আর বড় গরু পালন করবেন না বলে জানান তিনি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের বিজয়, নাহিদ ইসলামের অভিনন্দন

error: Content is protected !!

শুধু খরচের দাম ৭ লাখ হলেই বিক্রি করে দেব ৩০ মণের কালো পাহাড়কে

আপডেট টাইম : ১২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জুন ২০২৫
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বিলকাঠিয়া গ্রামের কৃষক টুটুল শেখ শেখ। গরুটি বিক্রি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন লিটনের ছেলে সরুজ আলী শেখও। তিনি বলেন, এতো বড় গরু ঢাকায় নেওয়া মুশকিল। ডাকাতি, ছিনতাই ও মারা যাওয়ার ভয় আছে। তাই বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এখন আর লাভের চিন্তা করছি না। কোনোরকম খরচের দাম হলেই ছেড়ে দেব। ভবিষ্যতে আর বড় গরু পালন করবেন না বলে জানান তিনি।

–

টিনশেডের মেঝে পাকা ঘরে রাখা হয় কালো পাহাড়কে। দিনের বেলায় ঘরের সামনের বরইগাছে বেঁধে রাখা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবার খায় প্রায় এক হাজার টাকার। অতিরিক্ত গরমে হাতপাখা দিয়ে বাতাসও করতে হয় কালো রঙের এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিকে।

–

এভাবেই সাড়ে তিন বছর ধরে কালো পাহাড় নামের গরুটিকে সন্তানের মত লালনপালন করেছেন কৃষক টুটুল শেখ, তার স্ত্রী মিরানা খাতুন ও ছেলে সুরুজ আলী শেখ। তারা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বিলকাঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

–

গত বছর ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছিল ব্যাপারীরা। তবে ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দাম বলেনি কেউ। এদিকে কোরবানির আর ১ দিন বাকি। এ অবস্থায় গরুর প্রতিদিনের খরচ ও বেচাবিক্রি নিয়ে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা।

–

তাদের ভাষ্য, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বাড়ির গাভি থেকে জন্ম নেয় হলিস্তিন ফ্রিজিয়ান জাতের একটি বাছুর। সেই বাছুরটিই আজকের বিশাল ষাঁড় কালো পাহাড়। যার উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট। লেজ থেকে মাথার দ্যৈর্ঘ প্রায় সাড়ে আট ফুট। গরুটির ওজন ধরা হয়েছে প্রায় ১২০০ কেজি বা ৩০ মণ। ১২ লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা ছিল।

–

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে গোয়ালঘর থেকে গরুটিকে বের করে উঠানের বরইগাছে বাধা হচ্ছে। বেশ লাফঝাঁপ করছে গরুটি। কুচকুচে কালো ও বিশাল দেহের অধিকারী গরুটি বেশ তরতাজা। তাকে দেখতে ছুটে এসেছেন অনেকেই।

–

কৃষক লিটন শেখ বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। ঘোরপ্যাঁচ বুঝি না। খাবার হিসেবে গরুটি প্রতিদিনই কাঁচা ঘাস, খর, গম ও ছোলার ভুসিসহ প্রায় এক হাজার টাকার প্রাকৃতিক দানাদার খাবার খাওয়ানো হয়। সন্তানের মতোই লালন পালন করা বিশাল আকৃতির এই গরুটির গত বছর কোরবানির ঈদের সময় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম হয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত কেউ দাম বলেনি। প্রতিনিধি বিক্রির টাকা দিয়ে আবারো গরু কিনব ও চাষাবাদের জন্য একটু জমি কিনব।

–

তিনি আরও বলেন, এবার বড় গরু কেনার লোক নেই। দামও নেই। সেজন্য শুধু খরচের দাম ৭ লাখ হলেই বিক্রি করে দেব।

–

লিটনের স্ত্রী মিরানা খাতুন বলেন, প্রতিদিনই চার-পাঁচ বার গোসল করানো হয়। কারেন্ট চলে গেলে পাখা দিয়ে বাতাস করি। সারাক্ষণ গোয়ালঘরে পরে থাকি। বিক্রির কথা শুনে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কান্না পাচ্ছে।

–

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষক আজিজ মোল্লা বলেন, এতো বড় গরু আগে কখনও এই এলাকায় হয়নি। পাহাড়ের মত বিশাল গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই লোকজন ছুটে আসে। আমিও প্রায় দিনই আসি। তবে কেনার লোক নাই এবার।

–

গরুটি বিক্রি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন টুটুলের ছেলে সরুজ আলী শেখ। তিনি বলেন, এতো বড় গরু ঢাকায় নেওয়া মুশকিল। ডাকাতি, ছিনতাই ও মারা যাওয়ার ভয় আছে। তাই বাড়ি থেকেই বিক্রি করতে চাই। এখন আর লাভের চিন্তা করছি না। কোনোরকম খরচের দাম হলেই ছেড়ে দেব। ভবিষ্যতে আর বড় গরু পালন করবেন না বলে জানান তিনি।