ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে কর্মহীন থাকার প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ একই সময়ে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতগুলো দক্ষ জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে। এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে যুবসমাজ হতাশায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বহুমুখী ত্রুটি এবং যুগের সাথে তাল মেলাতে না পারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণার সুযোগের অভাব এবং মানসম্মত ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এর ফলে ডিগ্রি অর্জন করলেও একজন তরুণ পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

বর্তমান কর্মবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের কোনো মিল নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতের প্রকৃত চাহিদা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলস্বরূপ, সনদধারী বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর্মীর অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাত্ত্বিক পড়াশোনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা গেলে শিক্ষিত বেকারের হার কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক খাতগুলো উপকৃত হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষাগুরু শাহনাজ পারভীন | একজন শিক্ষক: প্রজন্মের কারিগর

error: Content is protected !!

শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, দক্ষ কর্মীর অভাব শিল্পে

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: দেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশের মধ্যে কর্মহীন থাকার প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ একই সময়ে দেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতগুলো দক্ষ জনবলের তীব্র সংকটে ভুগছে। এই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির কারণে একদিকে যেমন বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে যুবসমাজ হতাশায় দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ কর্মীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বহুমুখী ত্রুটি এবং যুগের সাথে তাল মেলাতে না পারা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক গবেষণার সুযোগের অভাব এবং মানসম্মত ল্যাব না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করছে, যা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এর ফলে ডিগ্রি অর্জন করলেও একজন তরুণ পেশাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন।

বর্তমান কর্মবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে একাডেমিক পাঠ্যক্রমের কোনো মিল নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রতি বছর যে পরিমাণ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতের প্রকৃত চাহিদা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলস্বরূপ, সনদধারী বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কারিগরি ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর্মীর অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাত্ত্বিক পড়াশোনার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা গেলে শিক্ষিত বেকারের হার কমানো সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক খাতগুলো উপকৃত হবে।