ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই খাত। সম্প্রতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এই আন্দোলন ও সহিংসতার জেরে শত শত কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তব ও কঠিন পরিস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান আয়ে সংসার চালানো শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মালিকপক্ষের মুনাফা এবং শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জের কথা বললেও শ্রমিকদের এই বঞ্চনা ও কষ্টের বিষয়টি কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের নামে সড়কে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের মতো সহিংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে শিল্পের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের জীবিকাই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সুযোগসন্ধানীদের উসকানি থাকার অভিযোগ উঠলেও শুধু ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও বঞ্চনার প্রকৃত কারণগুলোও আমলে নিতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে রাস্তাঘাট শান্ত করা গেলেও শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক অসন্তোষ ও আস্থার সংকট দূর করা যাবে না। তাই সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

পোশাকশিল্পের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য মালিকপক্ষ, সরকার এবং শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত বেতন এবং জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান স্তম্ভটিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

৪৫তম বিসিএসে গেজেট বঞ্চিতদের রি-ভেরিফিকেশন চালু, সিদ্ধান্ত চলতি মাসে

error: Content is protected !!

পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ: সরকারের দায়িত্ব সমন্বয়ের পথ বের করা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই খাত। সম্প্রতি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে নতুন মজুরিকাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এই আন্দোলন ও সহিংসতার জেরে শত শত কারখানার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রপ্তানি আয়ের প্রধান এই খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতগুলোও স্থবির হয়ে পড়েছে।

পোশাকশ্রমিকদের এই আন্দোলনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে রয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তব ও কঠিন পরিস্থিতি। গত কয়েক বছর ধরে জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান আয়ে সংসার চালানো শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। মালিকপক্ষের মুনাফা এবং শিল্পের নানা চ্যালেঞ্জের কথা বললেও শ্রমিকদের এই বঞ্চনা ও কষ্টের বিষয়টি কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের নামে সড়কে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের মতো সহিংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে শিল্পের শৃঙ্খলা নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের নিজেদের জীবিকাই চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে।

এই সংকটের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বা সুযোগসন্ধানীদের উসকানি থাকার অভিযোগ উঠলেও শুধু ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ওপর নির্ভর করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও বঞ্চনার প্রকৃত কারণগুলোও আমলে নিতে হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করে সাময়িকভাবে রাস্তাঘাট শান্ত করা গেলেও শ্রমিকদের মনস্তাত্ত্বিক অসন্তোষ ও আস্থার সংকট দূর করা যাবে না। তাই সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।

পোশাকশিল্পের টেকসই ভবিষ্যতের জন্য মালিকপক্ষ, সরকার এবং শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত বেতন এবং জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি নিশ্চিত করতে না পারলে দেশের অর্থনীতির এই প্রধান স্তম্ভটিকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।