ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মুকসুদপুরে ১৪ শিক্ষকের এক শিক্ষার্থীর কলেজ থেকে ফলাফল শূন্য

মুকসুদপুর প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ১৪ জন শিক্ষক আছেন স্কুল বিভাগে। আর কলেজ থেকে এ বছর মাত্র একজন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে শূন্য পাসের তালিকায় উঠেছে কলেজটির নাম।

কলেজ সূত্রে জানাজায়, ২০২৬ সালে ১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সেই একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ শিক্ষকদের দায়ী করেছেন।

জানাগেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজ ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত, বেতন ভাতা পান। পরে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে স্কুল বিভাগের ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়ে আসছেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মাত্র মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না।

এ বিষয়ে স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রাম এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই।’ তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি।

প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিল। এমপি না হওয়ায় তারা চলে গেছে। এটা বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।

সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো আমি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম বলেন, আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায়ে দেখাশোনা করা। এটা আমাদের দায়িত্ব না তবে কলেজ বিভাগ দেখা শোনা করেন ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক তারা ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

১৯তম বিজেএস প্রিলির ফলে চমক: ২৫০ পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা দেবেন মাত্র ৩৪৩ প্রার্থী

error: Content is protected !!

মুকসুদপুরে ১৪ শিক্ষকের এক শিক্ষার্থীর কলেজ থেকে ফলাফল শূন্য

আপডেট টাইম : ৪৬ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

মুকসুদপুর প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ১৪ জন শিক্ষক আছেন স্কুল বিভাগে। আর কলেজ থেকে এ বছর মাত্র একজন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ঢাকা বোর্ডে শূন্য পাসের তালিকায় উঠেছে কলেজটির নাম।

কলেজ সূত্রে জানাজায়, ২০২৬ সালে ১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সেই একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, সেই শিক্ষার্থীও ফেল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই বলছেন, প্রতিষ্ঠানটির এমন করুণ অবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা পর্ষদ ও প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ শিক্ষকদের দায়ী করেছেন।

জানাগেছে দুর্বাশুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এন্ড কলেজ ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্কুলের ১৪ জন শিক্ষকই এমপিওভুক্ত, বেতন ভাতা পান। পরে ২০০৯ সালে কলেজ শাখা চালু করা হয়। কলেজটিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে স্কুল বিভাগের ১৪ জন শিক্ষক দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়ে আসছেন। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় শুধু মাত্র মানবিক বিভাগ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বাকি দুই বিভাগে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল না।

এ বিষয়ে স্কুল শাখার প্রধান শিক্ষক স্বর্ণা রানি বিশ্বাস বলেন, ‘কলেজটি গ্রাম এলাকায় হওয়ায় ছাত্র তেমন পাওয়া যায় না। এজন্য শিক্ষকরাও কলেজে আসেন না। শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারেও তাদের কোনো উৎসাহ নেই।’ তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জানিয়ে বলেন, প্রতিবছর নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করছি।

প্রতিষ্ঠাতা পরিতোষ সরকার জানান, অনুমোদন নেওয়ার সময় শিক্ষক ছিল। এমপি না হওয়ায় তারা চলে গেছে। এটা বন্ধ হয়ে গেলেই ভালো।

সভাপতি পরিমল কীর্তন বলেন, আমি এক সপ্তাহ হলো সভাপতির চিঠি পেয়েছি। এখনো আমি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মিটিং করতে পারিনি। এসব বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহফুজা বেগম বলেন, আমাদের দায়িত্ব স্কুল পর্যায়ে দেখাশোনা করা। এটা আমাদের দায়িত্ব না তবে কলেজ বিভাগ দেখা শোনা করেন ঢাকা অঞ্চলের একজন পরিচালক তারা ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।