রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন ব্যবসায়ী শাহীন আলমের মা রেহানা খাতুন (৫৫)। তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার বেরিলাবাড়ী গ্রামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী শাহীন আলম। তিনি জানান, ঘটনার দিনই ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে লালপুর থানায় মামলা করেছেন তিনি। তবে ঘটনার ১৭ দিন পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি তাঁর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহীন আলম বলেন, বেরিলাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা তাঁর চাচা ফারুক হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এর জেরে গত ৪ অক্টোবর ফারুক হোসেন ও মহিবুর আলী প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় লালপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শাহীন।
শাহীন আলমের অভিযোগ, এর কয়েক দিন পর গত ৮ অক্টোবর সকালে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে বাড়ির বাইরে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বেরিলাবাড়ী জামতলা মোড়ে অবস্থিত তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স জামতলা স্টোর’ ও বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। হামলাকারীরা বাড়ির বাক্স ও দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্টফোন নিয়ে যায়। এ সময় তাঁর মা রেহানা খাতুন বাধা দিতে গেলে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাসুয়া ও লোহার শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর মামলা করা হলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলা তুলে নিতে তাঁকে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ অবস্থায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শাহীন আলম।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 


















