ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রামানুজনের একটি সূত্র থেকে মিলল অসীমসংখ্যক নতুন সূত্রের সন্ধান

ডেস্ক রিপোর্ট: গণিতশাস্ত্রের ইতিহাসে শ্রীনিবাস রামানুজনের অবদান এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যুগ যুগ ধরে তাঁর রেখে যাওয়া বিভিন্ন সূত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচনে কাজ করে চলেছেন বিশ্বের নামী-দামি গবেষকেরা। সম্প্রতি তেমনই এক শতাব্দীপ্রাচীন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে অসীমসংখ্যক নতুন গাণিতিক সূত্রের সন্ধান পেয়েছেন গণিতবিদেরা। শতাব্দী আগে ভারতীয় এই স্বশিক্ষিত গণিতবিদের করা অভেদের সূত্রগুলো আধুনিক গণিতের নানা জটিল শাখার সঙ্গে জ্যামিতি এবং গিঁটের ধারণাকে যুক্ত করেছে।

বিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ গণিতবিদ জি এইচ হার্ডির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রামানুজনের প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল। তাঁর পাঠানো গাণিতিক সূত্রগুলোর মধ্যে বিশেষ কিছু অভেদ ছিল, যা পরবর্তীতে রজার্স–রামানুজন অভেদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই অভেদগুলোর মূল বিষয়বস্তু হলো সংখ্যার বিভাজন বা পার্টিশন, যেখানে দুটি আলাদা নিয়মে পূর্ণসংখ্যার যোগফল লেখার উপায়গুলোর মধ্যে অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘকাল ধরে এই সূত্রগুলোকে গণিতের একটি বিচ্ছিন্ন রত্ন মনে করা হলেও এর পেছনে আরও বড় কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নিয়ে কৌতূহল ছিল গবেষকদের।

সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ইফেং হুয়াং, আলেক্সেই ওব্লোমকভ এবং কেন ওনোসহ অন্যান্য গণিতবিদেরা এই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাঁরা ম্যাট্রিক্সের সমাধান ও বিশেষ ধরনের বক্ররেখা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখতে পান যে, এগুলোর সঙ্গে রামানুজনের সূত্রের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে, বক্ররেখার তীক্ষ্ণ বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি এবং জ্যামিতিক গিঁটের ধারণার সঙ্গে এই অভেদগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে গবেষকেরা একটি নতুন অনুমান দাঁড় করান, যা হুয়াং–জিয়াং–ওব্লোমকভ অনুমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এই জটিল ও দীর্ঘ গবেষণার প্রমাণ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। গবেষক দলটি প্রায় সাত মাস ধরে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও এআইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রমাণটির বিভিন্ন ধাপ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি এই অনুমানের পূর্ণাঙ্গ গাণিতিক প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পর গণিত মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গবেষকেরা এখন বিশ্বাস করেন যে, রামানুজনের সূত্র ধরে উন্মোচিত এই নতুন গাণিতিক কাঠামো গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের আরও বহু অজানা রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে ফ্লাইট চলাচলে সীমাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

error: Content is protected !!

রামানুজনের একটি সূত্র থেকে মিলল অসীমসংখ্যক নতুন সূত্রের সন্ধান

আপডেট টাইম : ৫৬ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ডেস্ক রিপোর্ট: গণিতশাস্ত্রের ইতিহাসে শ্রীনিবাস রামানুজনের অবদান এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। যুগ যুগ ধরে তাঁর রেখে যাওয়া বিভিন্ন সূত্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচনে কাজ করে চলেছেন বিশ্বের নামী-দামি গবেষকেরা। সম্প্রতি তেমনই এক শতাব্দীপ্রাচীন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে অসীমসংখ্যক নতুন গাণিতিক সূত্রের সন্ধান পেয়েছেন গণিতবিদেরা। শতাব্দী আগে ভারতীয় এই স্বশিক্ষিত গণিতবিদের করা অভেদের সূত্রগুলো আধুনিক গণিতের নানা জটিল শাখার সঙ্গে জ্যামিতি এবং গিঁটের ধারণাকে যুক্ত করেছে।

বিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রিটিশ গণিতবিদ জি এইচ হার্ডির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রামানুজনের প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল। তাঁর পাঠানো গাণিতিক সূত্রগুলোর মধ্যে বিশেষ কিছু অভেদ ছিল, যা পরবর্তীতে রজার্স–রামানুজন অভেদ নামে পরিচিতি লাভ করে। এই অভেদগুলোর মূল বিষয়বস্তু হলো সংখ্যার বিভাজন বা পার্টিশন, যেখানে দুটি আলাদা নিয়মে পূর্ণসংখ্যার যোগফল লেখার উপায়গুলোর মধ্যে অদ্ভুত এক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। দীর্ঘকাল ধরে এই সূত্রগুলোকে গণিতের একটি বিচ্ছিন্ন রত্ন মনে করা হলেও এর পেছনে আরও বড় কোনো কাঠামোর অস্তিত্ব নিয়ে কৌতূহল ছিল গবেষকদের।

সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক ইফেং হুয়াং, আলেক্সেই ওব্লোমকভ এবং কেন ওনোসহ অন্যান্য গণিতবিদেরা এই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তাঁরা ম্যাট্রিক্সের সমাধান ও বিশেষ ধরনের বক্ররেখা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখতে পান যে, এগুলোর সঙ্গে রামানুজনের সূত্রের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে, বক্ররেখার তীক্ষ্ণ বিন্দু বা সিঙ্গুলারিটি এবং জ্যামিতিক গিঁটের ধারণার সঙ্গে এই অভেদগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এই আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে গবেষকেরা একটি নতুন অনুমান দাঁড় করান, যা হুয়াং–জিয়াং–ওব্লোমকভ অনুমান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

এই জটিল ও দীর্ঘ গবেষণার প্রমাণ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। গবেষক দলটি প্রায় সাত মাস ধরে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও এআইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রমাণটির বিভিন্ন ধাপ নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করেন। সম্প্রতি এই অনুমানের পূর্ণাঙ্গ গাণিতিক প্রমাণ প্রকাশিত হওয়ার পর গণিত মহলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গবেষকেরা এখন বিশ্বাস করেন যে, রামানুজনের সূত্র ধরে উন্মোচিত এই নতুন গাণিতিক কাঠামো গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের আরও বহু অজানা রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।