বাদশাহ মিয়াঃ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে নিলু মুন্সির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কমলাপুর স্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত নিলু মুন্সির পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কমলাপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা খুনিদের ছবিসহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড বহন করে হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিলু মুন্সিকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নিহতের ছেলে রবিন মুন্সী বলেন, “আমার বাবা কোনো রাজনীতি করেন না। খুনিরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ অতর্কিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
নিহতের স্ত্রী জোবায়দা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের যেন কঠোর শাস্তি হয়—এটাই আমার একমাত্র দাবি।”
এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে নিহতের বাবা আনোয়ার মুন্সী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বৃদ্ধ মানুষ। আমার ছেলেকে আমার সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কিছু হতে পারে না। আমি সরকারের কাছে বিচার চাই। আমার ছেলের হত্যাকারীদের যেন ফাঁসি দেওয়া হয়।”
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন মুন্সীর বাড়িতে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়। এ ঘটনায় আনোয়ার মুন্সীর ছেলে নিলু মুন্সী গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত নিলু মুন্সিকে ফরিদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া মোট চারজন আহত হয়েছেন—মিলন মুন্সী (৫২), দুলাল মুন্সী (৪০) ও রুপা বেগম (৪০)।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার ওসি (তদন্ত) মতিয়ার রহমান বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”
প্রিন্ট

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল 
বাদশাহ মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি 











