ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মামলা তুলে নেওয়ার চাপে সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-২০,বাড়িঘর ভাঙচুর

ফরিদপুরের সালথায় মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসাপতালে ভর্তি করা হয়েছে। বরিবার (০৪ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এই সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলমপুর গ্রামের গ্রাম্যদল নেতা মো. নজরুল ইসলামের সমর্থকদের সাথে প্রতিপক্ষের দলনেতা মিরান শেখের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে মিরানের সমর্থকরা নজরুলের সমর্থকদের স্থানীয় কুমারকান্দা বাজারে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে নজরুলের কয়েকজন সমর্থক বাজারে এলে তাদের বাধা দেয় মিরানের সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায় উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।

এতে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মকিম শেখ, মিলু শেখ, নজলু শেখ, লিটন খা, আকাশ শেখ, আমির শেখ, হান্নান শেখ, সোরাপ শেখ, আল আমিন শেখ, ওমর শেখ, টিটু মোল্যা, রুস্তম মোল্যা, আনোয়ার মোল্যা, বাবলু মোল্যা ও আব্দুল্লাহ শেখকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নগরকান্দা ও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের দলনেতা একের অপরের ওপর দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছেন। একপক্ষের দলনেতা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি মামলা ওয়ারেন্ট থাকায় দুই দিন আগে মিরানের সমর্থক নাজমুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে নাজমুলকে আমার সমর্থকরা পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মিরানের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। একপর্যায় রবিবার সকালে আমার সমর্থক কুমারকান্দা বাজারের চায়ের দোকানদার স্বাধীন শেখ তার দোকানে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করে মিরানের সমর্থকরা। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

প্রতিপক্ষের দলনেতা মিরান শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত দুই মাস আগে আমার সমর্থক লিটন খা বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের নজরুলের সমর্থক তারিকুল মোল্যাসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় তারিকুল দীর্ঘদিন জেল খেটে দুই দিন আগে জামিনে রেবিয়ে আসে। রবিবার সকালে তারিকুল বাদী লিটনকে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায় এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে ঝাপিয়ে পড়ে।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ওজন কমানোর ওষুধে কমছে কসমেটিক সার্জারির চাহিদা

error: Content is protected !!

মামলা তুলে নেওয়ার চাপে সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-২০,বাড়িঘর ভাঙচুর

আপডেট টাইম : ১১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩
এফ.এম.আজিজুর রহমান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের সালথায় মামলা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসাপতালে ভর্তি করা হয়েছে। বরিবার (০৪ জুন) দুপুরের দিকে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে এই সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, মামলা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলমপুর গ্রামের গ্রাম্যদল নেতা মো. নজরুল ইসলামের সমর্থকদের সাথে প্রতিপক্ষের দলনেতা মিরান শেখের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে মিরানের সমর্থকরা নজরুলের সমর্থকদের স্থানীয় কুমারকান্দা বাজারে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার সকালে নজরুলের কয়েকজন সমর্থক বাজারে এলে তাদের বাধা দেয় মিরানের সমর্থকরা। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায় উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।

এতে উভয়পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে মকিম শেখ, মিলু শেখ, নজলু শেখ, লিটন খা, আকাশ শেখ, আমির শেখ, হান্নান শেখ, সোরাপ শেখ, আল আমিন শেখ, ওমর শেখ, টিটু মোল্যা, রুস্তম মোল্যা, আনোয়ার মোল্যা, বাবলু মোল্যা ও আব্দুল্লাহ শেখকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নগরকান্দা ও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের দলনেতা একের অপরের ওপর দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছেন। একপক্ষের দলনেতা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, একটি মামলা ওয়ারেন্ট থাকায় দুই দিন আগে মিরানের সমর্থক নাজমুল শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে নাজমুলকে আমার সমর্থকরা পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মিরানের সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে উঠে। একপর্যায় রবিবার সকালে আমার সমর্থক কুমারকান্দা বাজারের চায়ের দোকানদার স্বাধীন শেখ তার দোকানে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করে মিরানের সমর্থকরা। পরে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

প্রতিপক্ষের দলনেতা মিরান শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত দুই মাস আগে আমার সমর্থক লিটন খা বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের নজরুলের সমর্থক তারিকুল মোল্যাসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা করেন। ওই মামলায় তারিকুল দীর্ঘদিন জেল খেটে দুই দিন আগে জামিনে রেবিয়ে আসে। রবিবার সকালে তারিকুল বাদী লিটনকে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। একপর্যায় এই নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে ঝাপিয়ে পড়ে।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শেখ সাদিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।