ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মাগুরায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বেগম রোকেয়া দিবস ডাক অনুষ্ঠিত

মাগুরায় বেগম রোকেয়ার ১৪৩ তম জন্ম ও ৯১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সকাল ১১ টার সময় ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোকেয়া দিবস ডাক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী শম্পা বসুর সভাপতিত্বে আলোচনা করেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হাকিম বিশ্বাস, নাজির আহমেদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, সাবেক সহকারি অধ্যাপক আর্জুমান চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক সাগর হোসেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক গোলাম পারভেজ।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, সমাজে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, নারীর সামনে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার সাহস, যুক্তি ও আপন প্রত্যয় নিমার্ণের লক্ষ্যে আজীবন বেগম রোকেয়া সংগ্রাম করেছেন–লেখনী ধরেছেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে। সে সময় মেয়েদের লেখাপড়া ছিলো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ ও পাপতুল্য। অশিক্ষার অভিশাপ ও পুরুষতন্ত্রের অবরোধ প্রথার মধ্যেই তিনি বড় হন। ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসার কাছ থেকে কিছু বাংলা ও ইংরেজি শিখেছিলেন। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়তো তখন রোকেয়া মোমের আলোয় পড়ালেখা করতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে ও ২৯ বছর বয়সে বিধবা হয়ে রোকেয়া বুঝেছিলেন সমাজে নারীর অবস্থান কতটা নিগৃহীত এবং এর বিরুদ্ধে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাই স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে নিজ বাড়িতেই ৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এজন্য স্বামীর আত্মীয়স্বজন ও সমাজের নানা অংশের মানুষের কাছ থেকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও আঘাত সহ্য করতে হয়।
বক্তাগণ আরও বলেন, বেগম রোকেয়া সমাজে নারীর যে অবস্থান দেখতে চেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর ৯১ বছরেও আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। বাহ্যিকভাবে হয়তো অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে বোধ হবে; নারী এমনকি মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীও হচ্ছেন। কিন্তু সমাজ মননে আরও বেশি অবক্ষয় ঘটে গেছে। সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন-হত্যা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ, বন্দি করে রেখে গণধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন-হত্যা, বখাটেদের উৎপীড়ন, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি-ধর্ষণ, ইন্টারনেটে ব্লাকমেইলসহ ঘরে বাইরে নানা উৎপীড়ন, শারীরিক মানসিক নির্যাতন কত ভাবে যে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন! সমাজে নারীর প্রতি বিদ্বেষ বাড়ছে। আর সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্বের অধিকারসহ অসংখ্যক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন।
বক্তাগণ আরো বলেন, ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক শোষণমূলক পুঁজিবাদী আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় নারী দ্বিমুখী শোষণ নির্যাতনের শিকার। একদিকে অর্থনৈতিক শোষণ অন্যদিকে ভোগবাদী পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দ্বারা নির্যাতিত। ফলে এই শোষণমূলক ব্যক্তি মালিকানার সমাজ পরিবর্তন ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তনে, সমাজের সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, নারীমুক্তির আন্দোলনে বেগম রোকেয়া আজও প্রেরণার উৎস।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে

error: Content is protected !!

মাগুরায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বেগম রোকেয়া দিবস ডাক অনুষ্ঠিত

আপডেট টাইম : ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩
ফারুক আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা :
মাগুরায় বেগম রোকেয়ার ১৪৩ তম জন্ম ও ৯১ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার ৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সকাল ১১ টার সময় ৩ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোকেয়া দিবস ডাক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী শম্পা বসুর সভাপতিত্বে আলোচনা করেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হাকিম বিশ্বাস, নাজির আহমেদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, সাবেক সহকারি অধ্যাপক আর্জুমান চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক সাগর হোসেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক গোলাম পারভেজ।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, সমাজে নারীকে মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা, নারীর সামনে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার সাহস, যুক্তি ও আপন প্রত্যয় নিমার্ণের লক্ষ্যে আজীবন বেগম রোকেয়া সংগ্রাম করেছেন–লেখনী ধরেছেন, স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন, সংগঠন গড়ে তুলেছেন। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁর কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে। সে সময় মেয়েদের লেখাপড়া ছিলো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ ও পাপতুল্য। অশিক্ষার অভিশাপ ও পুরুষতন্ত্রের অবরোধ প্রথার মধ্যেই তিনি বড় হন। ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসার কাছ থেকে কিছু বাংলা ও ইংরেজি শিখেছিলেন। সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়তো তখন রোকেয়া মোমের আলোয় পড়ালেখা করতেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে ও ২৯ বছর বয়সে বিধবা হয়ে রোকেয়া বুঝেছিলেন সমাজে নারীর অবস্থান কতটা নিগৃহীত এবং এর বিরুদ্ধে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তাই স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯০৯ সালে ভাগলপুরে নিজ বাড়িতেই ৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এজন্য স্বামীর আত্মীয়স্বজন ও সমাজের নানা অংশের মানুষের কাছ থেকে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও আঘাত সহ্য করতে হয়।
বক্তাগণ আরও বলেন, বেগম রোকেয়া সমাজে নারীর যে অবস্থান দেখতে চেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর ৯১ বছরেও আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। বাহ্যিকভাবে হয়তো অনেক পরিবর্তন হয়েছে বলে বোধ হবে; নারী এমনকি মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীও হচ্ছেন। কিন্তু সমাজ মননে আরও বেশি অবক্ষয় ঘটে গেছে। সারাদেশে নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতন-হত্যা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, অপহরণ, বন্দি করে রেখে গণধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন-হত্যা, বখাটেদের উৎপীড়ন, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি-ধর্ষণ, ইন্টারনেটে ব্লাকমেইলসহ ঘরে বাইরে নানা উৎপীড়ন, শারীরিক মানসিক নির্যাতন কত ভাবে যে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন! সমাজে নারীর প্রতি বিদ্বেষ বাড়ছে। আর সম্পত্তির উত্তরাধিকার, বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্বের অধিকারসহ অসংখ্যক্ষেত্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকেন।
বক্তাগণ আরো বলেন, ব্যক্তি মালিকানা ভিত্তিক শোষণমূলক পুঁজিবাদী আর্থ সামাজিক ব্যবস্থায় নারী দ্বিমুখী শোষণ নির্যাতনের শিকার। একদিকে অর্থনৈতিক শোষণ অন্যদিকে ভোগবাদী পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দ্বারা নির্যাতিত। ফলে এই শোষণমূলক ব্যক্তি মালিকানার সমাজ পরিবর্তন ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পরিবর্তনে, সমাজের সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে, নারীমুক্তির আন্দোলনে বেগম রোকেয়া আজও প্রেরণার উৎস।