ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযانের নামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার একশটিরও বেশি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং মুসলিমরা যে ভারতেরই বৈধ নাগরিক, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারিভাবে বনভূমি ও সরকারি জমি উদ্ধারের অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানে কেবল বসতভিটেই ধ্বংস করা হয়নি, বরং এর পাশাপাশি দশটিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি অন্তত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের এই অঞ্চলের সঙ্গে বহু দশকের পুরনো নাড়ির টান রয়েছে এবং তারা দেশটির স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। অথচ কোনো ধরনের যথাযথ পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই এসব অসহায় মানুষকে হঠাৎ করে গৃহহীন করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক আটককেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের ওপর যে ধারাবাহিক বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান তারই একটি অংশমাত্র এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। বিগত এক দশকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় উনিশ হাজার পরিবারকে এভাবেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। বছরের পর বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যত্রে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার মতো নানা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার শিকার হয়ে আসছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আসামের এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার তুলনা টেনে তিনি বলেন যে, এই ধরনের উগ্র কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথকে আরও প্রশস্ত করছে। বর্তমান হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের অধীনে কেবল মুসলিমরাই নয়, বরং খ্রিষ্টান ও শিখসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দলিত বা নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাষ্ট্র তাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। ভারত সরকারকে এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে তিনি দাবি জানান। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগকে সামনে রেখে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের মাটিতে বসবাসরত মুসলিমরাও ওই দেশের সমান অংশীদার এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ

error: Content is protected !!

আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

আপডেট টাইম : ৪১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযانের নামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার একশটিরও বেশি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং মুসলিমরা যে ভারতেরই বৈধ নাগরিক, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারিভাবে বনভূমি ও সরকারি জমি উদ্ধারের অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানে কেবল বসতভিটেই ধ্বংস করা হয়নি, বরং এর পাশাপাশি দশটিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি অন্তত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের এই অঞ্চলের সঙ্গে বহু দশকের পুরনো নাড়ির টান রয়েছে এবং তারা দেশটির স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। অথচ কোনো ধরনের যথাযথ পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই এসব অসহায় মানুষকে হঠাৎ করে গৃহহীন করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক আটককেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের ওপর যে ধারাবাহিক বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান তারই একটি অংশমাত্র এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। বিগত এক দশকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় উনিশ হাজার পরিবারকে এভাবেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। বছরের পর বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যত্রে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার মতো নানা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার শিকার হয়ে আসছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আসামের এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার তুলনা টেনে তিনি বলেন যে, এই ধরনের উগ্র কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথকে আরও প্রশস্ত করছে। বর্তমান হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের অধীনে কেবল মুসলিমরাই নয়, বরং খ্রিষ্টান ও শিখসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দলিত বা নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাষ্ট্র তাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। ভারত সরকারকে এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে তিনি দাবি জানান। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগকে সামনে রেখে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের মাটিতে বসবাসরত মুসলিমরাও ওই দেশের সমান অংশীদার এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।