ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বদর প্রতিরক্ষা চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিদ্যমান নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই চার দেশের কৌশলগত ঐক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। বিশেষ করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং বহুমুখী হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নীতিগবেষণা কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রশিদ আল-মোহান্নাদি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তার মতে, চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বর্তমানে যেসব সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতেই এই সামরিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন তিনি।

নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এই উদ্যোগের অর্থনৈতিক সুফল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই বিশ্লেষক। যেসব দেশের নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে, তারা মূলত একই মানের সামরিক সরঞ্জাম তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারে। এর ফলে যেসব দেশের নিজস্ব বড় সামরিক শিল্প নেই, তারাও কম ব্যয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জনের সুযোগ লাভ করে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক দিক থেকেও বেশ লাভজনক।

প্রতিরক্ষা খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে যুক্তরাজ্য কিংবা ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা শক্তির মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের অঞ্চলের ভেতরেই সামরিক চাহিদা মেটানোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে

error: Content is protected !!

‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’

আপডেট টাইম : ৩৩ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বদর প্রতিরক্ষা চুক্তির নেপথ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বিদ্যমান নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই চার দেশের কৌশলগত ঐক্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। বিশেষ করে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং বহুমুখী হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করতে এই যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নীতিগবেষণা কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রশিদ আল-মোহান্নাদি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। তার মতে, চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বর্তমানে যেসব সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতেই এই সামরিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন তিনি।

নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি এই উদ্যোগের অর্থনৈতিক সুফল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন এই বিশ্লেষক। যেসব দেশের নিজস্ব শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে, তারা মূলত একই মানের সামরিক সরঞ্জাম তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করতে পারে। এর ফলে যেসব দেশের নিজস্ব বড় সামরিক শিল্প নেই, তারাও কম ব্যয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জনের সুযোগ লাভ করে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক দিক থেকেও বেশ লাভজনক।

প্রতিরক্ষা খাতে বৈচিত্র্য আনা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ক্ষেত্রেও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে যুক্তরাজ্য কিংবা ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা শক্তির মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেদের অঞ্চলের ভেতরেই সামরিক চাহিদা মেটানোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আরও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।