ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠি খেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড়

মোঃ রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি

ক্রিকেট-ফুটবলের আধুনিক জয়জয়াকারে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মাগুরার মহম্মদপুরে বসেছিল লাঠি খেলার এক জমজমাট আসর। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া ডি.সি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠি খেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।

শতবর্ষের পুরনো প্রথা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই শতবর্ষী ঐতিহ্য দেখতে মহম্মদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শালিখা, শ্রীপুর, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা থেকে ছুটে এসেছিলেন নানা বয়সের দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে নারী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসে আয়োজিত এই লাঠি খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আর হরেক রকমের পণ্যের পসরায় জমে ওঠে চারপাশ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, লাঠি খেলা গ্রামবাংলার অত্যন্ত প্রাচীন ও জনপ্রিয়। লাঠি, হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা ও নৌকা বাইচের মতো আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকঢোল আর বাঁশির তালে মাঠের লড়াই বর্ণিল সাজে ও রংবেরঙের পোশাকে মাঠে নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাঠিয়াল দলগুলো। ঢাকঢোল আর বাঁশির সুরের তালে তালে লাঠিয়ালদের কসরত এবং একে অপরকে ঘায়েল করার অভিনব দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শকদের। খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

বহুদিনের লাঠিয়াল দলের প্রধান মানিক সরদার বলেন, পূর্বপুরুষদের দেখেই এই খেলায় আগ্রহ জন্মেছিল। এখন সব জায়গায় এর আয়োজন হয় না, তবে কার্তিকের এই মেলায় এলে বুক জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা থেকে আসা কবি হাফিজ রহমান বলেন, ষাটের দশক থেকে আমাদের এই ঐতিহ্য চলে আসছে। ক্রিকেটের ভিড়ে আজ তা কোণঠাসা। এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, নতুন দল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়লেও পুরনো লাঠিয়ালদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার তীব্র আগ্রহ রয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এ দেশের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে

error: Content is protected !!

মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠি খেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড়

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

মোঃ রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি

ক্রিকেট-ফুটবলের আধুনিক জয়জয়াকারে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মাগুরার মহম্মদপুরে বসেছিল লাঠি খেলার এক জমজমাট আসর। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া ডি.সি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠি খেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।

শতবর্ষের পুরনো প্রথা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই শতবর্ষী ঐতিহ্য দেখতে মহম্মদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শালিখা, শ্রীপুর, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা থেকে ছুটে এসেছিলেন নানা বয়সের দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে নারী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসে আয়োজিত এই লাঠি খেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আর হরেক রকমের পণ্যের পসরায় জমে ওঠে চারপাশ।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, লাঠি খেলা গ্রামবাংলার অত্যন্ত প্রাচীন ও জনপ্রিয়। লাঠি, হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা ও নৌকা বাইচের মতো আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকঢোল আর বাঁশির তালে মাঠের লড়াই বর্ণিল সাজে ও রংবেরঙের পোশাকে মাঠে নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাঠিয়াল দলগুলো। ঢাকঢোল আর বাঁশির সুরের তালে তালে লাঠিয়ালদের কসরত এবং একে অপরকে ঘায়েল করার অভিনব দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শকদের। খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

বহুদিনের লাঠিয়াল দলের প্রধান মানিক সরদার বলেন, পূর্বপুরুষদের দেখেই এই খেলায় আগ্রহ জন্মেছিল। এখন সব জায়গায় এর আয়োজন হয় না, তবে কার্তিকের এই মেলায় এলে বুক জুড়িয়ে যায়।

ঢাকা থেকে আসা কবি হাফিজ রহমান বলেন, ষাটের দশক থেকে আমাদের এই ঐতিহ্য চলে আসছে। ক্রিকেটের ভিড়ে আজ তা কোণঠাসা। এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, নতুন দল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়লেও পুরনো লাঠিয়ালদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার তীব্র আগ্রহ রয়েছে।