ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ ও ২০টি চায়না দুয়ারি উচ্ছেদ

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর বুকে অবৈধভাবে নির্মিত মাছ ধরার বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার ২০টি চায়না দুয়ারি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার চরশালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকার মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পদ্মা নদীর বুকে আড়াআড়িভাবে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকারের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীনির্ভর শত শত জেলে পরিবার জীবিকা সংকটে পড়ছিল।

জানা যায়, উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরশালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে বাঁশের খাঁচা ও সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল ব্যবহার করে মাছ আহরণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব ফাঁদে পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটকা পড়ছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় জেলেরা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য দ্রুত বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনার পরও দীর্ঘ ১৮ দিন বাঁধ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরে জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি ২০টি চায়না দুয়ারি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদী তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎস। নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। এতে নদীর মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে।

তাঁরা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এ দেশের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে

error: Content is protected !!

চরভদ্রাসনে পদ্মায় অবৈধ বাঁধ ও ২০টি চায়না দুয়ারি উচ্ছেদ

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর বুকে অবৈধভাবে নির্মিত মাছ ধরার বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই অভিযানে অবৈধ মাছ ধরার ২০টি চায়না দুয়ারি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার চরশালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকার মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস হোসেন সৌরভ।

স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পদ্মা নদীর বুকে আড়াআড়িভাবে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকারের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নদীনির্ভর শত শত জেলে পরিবার জীবিকা সংকটে পড়ছিল।

জানা যায়, উপজেলার চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরশালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী পদ্মা নদীতে বাঁশের খাঁচা ও সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল ব্যবহার করে মাছ আহরণের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব ফাঁদে পোনা মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আটকা পড়ছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা।

এ পরিস্থিতিতে অবৈধ বাঁধ অপসারণের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেন স্থানীয় জেলেরা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য দ্রুত বাঁধ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনার পরও দীর্ঘ ১৮ দিন বাঁধ অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

পরে জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় নদীর অবৈধ বাঁধ অপসারণের পাশাপাশি ২০টি চায়না দুয়ারি পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

স্থানীয় জেলেরা জানান, পদ্মা নদী তাঁদের জীবিকার প্রধান উৎস। নদীতে অবৈধ বাঁধ ও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। এতে নদীর মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকা আরও সংকটের মুখে পড়বে।

তাঁরা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।