ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তানোরের কচুয়া কলেজে ৩৪ শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে এইচএসসিতে পাস মাত্র ২ জন

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের আলোচিত কচুয়া আইডিয়াল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এতে অভিভাবক মহল বিক্ষুব্ধ হয়ে কলেজটির এমপিও স্থগিত বা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কলেজটির এমন চিত্র উঠে আসে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ১৯৯৮ সালে কচুয়া গ্রামে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতার ইচ্ছে পূরণে কচুয়া আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। কলেজে শিক্ষক ২২ জন ও কর্মচারী ১২ জন রয়েছেন। বিপরীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ৫৭ জন। অথচ এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২ জন এবং কোনো জিপিএ-৫ নেই। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের এমন বিপর্যয়কর ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে কলেজের এমপিও বন্ধ বা স্থগিতের।

এদিকে কলেজে কাগজ-কলমে ১১২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরেজমিন কলেজে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা গেছে। কলেজে আইসিটি শিক্ষক ও প্রদর্শক থাকলেও নেই কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। অথচ তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। নেই কোনো বিজ্ঞানাগার, এমনকি মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের কোনো শিক্ষাপোকরণ। নামে কলেজ হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সুযোগ-সুবিধাও নেই।

স্থানীয় একাধিক অভিভাবক বলেন, আইসিটি শিক্ষক হাসনা বানু, প্রদর্শক জিয়াউর রহমান আওয়ামী মতাদর্শী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা নিয়োগ পেয়ে কখনো নিয়মিত কলেজে আসেননি। আবার মাঝে মাঝে কলেজে আসলেও উপকরণ না থাকায় তারা কোনো শিক্ষা দিতে পারেন না। অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বিজ্ঞান শিক্ষক মরিয়মের বিরুদ্ধেও কলেজ ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কলেজটির এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ততা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষাপোকরণের অভাব, অদক্ষ শিক্ষক এবং নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্থানীয় অভিভাবক লুৎফর, সোনা ও খোকন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এরপরও ২২ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারীর একটি কলেজে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কিংবা শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নিয়মিত ক্লাস করে না। অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় কিংবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন ক্লাস করলেও দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীও নিয়মিত উপস্থিত থাকে না। অভিভাবকদের জানিয়েও তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। মূলত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণেই ফলাফল খারাপ হয়েছে। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, সরকার কম্পিউটার দিক দিলেই কম্পিউটার ক্লাস হবে, না দিলে তো আমরা বেতনের টাকা দিয়ে কম্পিউটার কিনতে পারি না।

অন্যদিকে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কলেজটির এমন ফলাফলের পেছনের প্রকৃত কারণ কী, শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম কতটা নিয়মিত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এ দেশের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে

error: Content is protected !!

তানোরের কচুয়া কলেজে ৩৪ শিক্ষক-কর্মচারীর বিপরীতে এইচএসসিতে পাস মাত্র ২ জন

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের আলোচিত কচুয়া আইডিয়াল কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এতে অভিভাবক মহল বিক্ষুব্ধ হয়ে কলেজটির এমপিও স্থগিত বা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে কলেজটির এমন চিত্র উঠে আসে।

স্থানীয়রা জানান, বিগত ১৯৯৮ সালে কচুয়া গ্রামে রাজনৈতিক বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতার ইচ্ছে পূরণে কচুয়া আইডিয়াল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। কলেজে শিক্ষক ২২ জন ও কর্মচারী ১২ জন রয়েছেন। বিপরীতে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ৫৭ জন। অথচ এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র ২ জন এবং কোনো জিপিএ-৫ নেই। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষার্থীদের এমন বিপর্যয়কর ফলাফল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দাবি উঠেছে কলেজের এমপিও বন্ধ বা স্থগিতের।

এদিকে কলেজে কাগজ-কলমে ১১২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও সরেজমিন কলেজে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা গেছে। কলেজে আইসিটি শিক্ষক ও প্রদর্শক থাকলেও নেই কোনো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। অথচ তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। নেই কোনো বিজ্ঞানাগার, এমনকি মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের কোনো শিক্ষাপোকরণ। নামে কলেজ হলেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সুযোগ-সুবিধাও নেই।

স্থানীয় একাধিক অভিভাবক বলেন, আইসিটি শিক্ষক হাসনা বানু, প্রদর্শক জিয়াউর রহমান আওয়ামী মতাদর্শী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তারা নিয়োগ পেয়ে কখনো নিয়মিত কলেজে আসেননি। আবার মাঝে মাঝে কলেজে আসলেও উপকরণ না থাকায় তারা কোনো শিক্ষা দিতে পারেন না। অন্যদিকে ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বিজ্ঞান শিক্ষক মরিয়মের বিরুদ্ধেও কলেজ ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে কলেজটির এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার চেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ততা, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষাপোকরণের অভাব, অদক্ষ শিক্ষক এবং নানা অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

স্থানীয় অভিভাবক লুৎফর, সোনা ও খোকন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এরপরও ২২ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারীর একটি কলেজে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী পাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কিংবা শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই নিয়মিত ক্লাস করে না। অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় কিংবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। একাদশ শ্রেণিতে কিছুদিন ক্লাস করলেও দ্বাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীও নিয়মিত উপস্থিত থাকে না। অভিভাবকদের জানিয়েও তেমন সাড়া পাওয়া যায় না। মূলত শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণেই ফলাফল খারাপ হয়েছে। আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, সরকার কম্পিউটার দিক দিলেই কম্পিউটার ক্লাস হবে, না দিলে তো আমরা বেতনের টাকা দিয়ে কম্পিউটার কিনতে পারি না।

অন্যদিকে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও কলেজটির এমন ফলাফলের পেছনের প্রকৃত কারণ কী, শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম কতটা নিয়মিত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।