ঢাকা , মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বোয়ালমারীতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, শহর-গ্রাম সর্বত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

বোয়ালমারীতে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বর্তমানে প্রতিদিনই ৫/৭ জন করে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাসা/বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। পৌর সদরের পাশাপাশি গ্রামেও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে ভীড় বাড়ছে ডেঙ্গু পরিক্ষার্থীদের। সামান্য জ্বর-জ্বারীতেও ডেঙ্গু পরিক্ষা করাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিক্ষা কেন্দ্রের কর্মীরা।

 

বেসরকারী ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮০/১০০ জন জ্বরের রোগীর রক্ত পরিক্ষা করছেন তারা। এর মধ্যে প্রায় ৩০/৩৫ পার্সেন্ট রোগীর শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ বেলাল হুসাইন বলেন, খরচ কম হওয়ায় ডেঙ্গু শনাক্তে বেশী পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানকার ভিড় টপকে রোগীর স্রোত আসছে ক্লিনিক গুলোতেও।

 

তার ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৩০/৪০ জন জ্বরের রোগীর রক্ত পরিক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে শতকরা ৪০/৫০ পার্সেন্টই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে বেলাল হুসাইন দাবী করেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম এম নাহিদ আল রাকিব বলেন, একটি উপজেলা শহরে যে হারে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। শুধু পৌর শহর নয় গ্রাম থেকেও প্রচুর রোগী আসছে। তিনি জানান, জানুয়ারীতে এ উপজেলায় প্রথম ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

 

এ মাসে দুজন রোগীর শরীরে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের হার স্বভাবিক মাত্রায় থাকলেও সেপ্টেম্বরে এসে তা হঠাৎ উর্ধমূখী হতে শুরু করে। গত ৬ মাসে দু’শতাধিক রোগী তার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৩৮ জন। দু’দিন পর অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। হু-হু করে বাড়ছে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। যাদের অবস্থা একটু বেশী খারাপ কেবল তাদেরকেই হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। বেড সংকুলান না হওয়ায় ফ্লোরে রোগী রাখতে হচ্ছে। এর বাইরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্রে নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন বিপুল সংখ্যাক রোগী।

 

বেসরকারি সেবাখাত থেকেও অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাহিদ আল রাকিব আরো বলেন, বোয়ালমারীতে যে হারে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে সে তুলনায় মশক নিধন কার্যক্রমে তেমন কোনো সাড়া দেখতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনেকটাই নির্বিকার। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য পৌর মেয়র সহ সকল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

 

এ বিষয়ে পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে সভা করা হচ্ছে ।

 

পৌর এলাকাজুড়ে প্রচুর মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মশা দমনে পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনগুলো সহ মশার অন্যান্য উৎসস্থলে ঔষধ ছিটানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পৌর কাউন্সিলরদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়ছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএম সেবা পদক পেলেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবীবুল্লাহ

error: Content is protected !!

বোয়ালমারীতে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, শহর-গ্রাম সর্বত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

আপডেট টাইম : ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

বোয়ালমারীতে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। বর্তমানে প্রতিদিনই ৫/৭ জন করে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাসা/বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অসংখ্য রোগী। পৌর সদরের পাশাপাশি গ্রামেও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে ভীড় বাড়ছে ডেঙ্গু পরিক্ষার্থীদের। সামান্য জ্বর-জ্বারীতেও ডেঙ্গু পরিক্ষা করাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। ফলে চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিক্ষা কেন্দ্রের কর্মীরা।

 

বেসরকারী ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮০/১০০ জন জ্বরের রোগীর রক্ত পরিক্ষা করছেন তারা। এর মধ্যে প্রায় ৩০/৩৫ পার্সেন্ট রোগীর শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোঃ বেলাল হুসাইন বলেন, খরচ কম হওয়ায় ডেঙ্গু শনাক্তে বেশী পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানকার ভিড় টপকে রোগীর স্রোত আসছে ক্লিনিক গুলোতেও।

 

তার ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ৩০/৪০ জন জ্বরের রোগীর রক্ত পরিক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে শতকরা ৪০/৫০ পার্সেন্টই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে বেলাল হুসাইন দাবী করেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম এম নাহিদ আল রাকিব বলেন, একটি উপজেলা শহরে যে হারে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে তা অবশ্যই উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ। শুধু পৌর শহর নয় গ্রাম থেকেও প্রচুর রোগী আসছে। তিনি জানান, জানুয়ারীতে এ উপজেলায় প্রথম ডেঙ্গু ধরা পড়ে।

 

এ মাসে দুজন রোগীর শরীরে ডেঙ্গুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এরপর আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের হার স্বভাবিক মাত্রায় থাকলেও সেপ্টেম্বরে এসে তা হঠাৎ উর্ধমূখী হতে শুরু করে। গত ৬ মাসে দু’শতাধিক রোগী তার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৩৮ জন। দু’দিন পর অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ সংখ্যা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। হু-হু করে বাড়ছে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। যাদের অবস্থা একটু বেশী খারাপ কেবল তাদেরকেই হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। বেড সংকুলান না হওয়ায় ফ্লোরে রোগী রাখতে হচ্ছে। এর বাইরে হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্রে নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন বিপুল সংখ্যাক রোগী।

 

বেসরকারি সেবাখাত থেকেও অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

 

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাহিদ আল রাকিব আরো বলেন, বোয়ালমারীতে যে হারে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে সে তুলনায় মশক নিধন কার্যক্রমে তেমন কোনো সাড়া দেখতে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনেকটাই নির্বিকার। পরিস্থিতি সামলাতে তিনি দ্রুত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য পৌর মেয়র সহ সকল জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

 

 

এ বিষয়ে পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে সভা করা হচ্ছে ।

 

পৌর এলাকাজুড়ে প্রচুর মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। মশা দমনে পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনগুলো সহ মশার অন্যান্য উৎসস্থলে ঔষধ ছিটানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পৌর কাউন্সিলরদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়ছে।