ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বাড়তি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং এই সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হলে আগামী তিন বছর দেশের নীতিনির্ধাতকদের ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এখন এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয় বা আমলাতন্ত্রের রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একসাথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা ভেঙে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের বাস্তব রূপায়ণই এই মুহূর্তে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত এজেন্ডায় বিষয়টি রাখা, সংসদীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি সর্বজনীন ড্যাশবোর্ড চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংসদ সদস্য, বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমকে এক সাথে যুক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি না করলে এই বাড়তি সময়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, কেবল পুরোনো বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখার পেছনে সময় না দিয়ে বরং উত্তরণ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানদণ্ড যেমন কার্বন কর, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলডিসি উত্তরণের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষও ভোগ করতে পারবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

বাড়তি সময়ের বড় পরীক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

আপডেট টাইম : ৪৭ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ হিসেবে দেখছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি। সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ও মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বাড়তি সময় বাংলাদেশের অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে কেবল পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেই চলবে না, বরং এই সুযোগের সঠিক সদ্ব্যবহার করতে হলে আগামী তিন বছর দেশের নীতিনির্ধাতকদের ব্যতিক্রমী সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে হবে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে সরকারের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর এখন এই প্রস্তুতি পর্বের লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু মন্ত্রণালয় বা আমলাতন্ত্রের রুটিন কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একসাথে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বেসরকারি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ত্বরান্বিত করা।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার কমানো, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খাত, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি সংস্কার খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। অতীতের ধারাবাহিকতা ভেঙে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কাজের বাস্তব রূপায়ণই এই মুহূর্তে দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা বলে মনে করে সিপিডি।

সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত এজেন্ডায় বিষয়টি রাখা, সংসদীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি ট্র্যাক করার জন্য একটি সর্বজনীন ড্যাশবোর্ড চালুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, সংসদ সদস্য, বেসরকারি খাত এবং গণমাধ্যমকে এক সাথে যুক্ত করে একটি অংশগ্রহণমূলক রূপরেখা তৈরি না করলে এই বাড়তি সময়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

সিপিডির আরেক বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, কেবল পুরোনো বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখার পেছনে সময় না দিয়ে বরং উত্তরণ-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির নতুন মানদণ্ড যেমন কার্বন কর, শ্রম অধিকার ও পরিবেশগত শর্ত পূরণের প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, এলডিসি উত্তরণের মূল লক্ষ্য কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া নয়, বরং একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা, যার সুফল দেশের সাধারণ মানুষও ভোগ করতে পারবে।