ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

‘ফেরিটিন ফেস’ কি? চেহারা দেখে কি রক্তশূন্যতা শনাক্ত করা যায়?

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি নতুন স্বাস্থ্যবিষয়ক ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা কেবল নিজেদের মুখাবয়ব ও চেহারার পরিবর্তন দেখে শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা শনাক্ত করার দাবি করছেন। এ ধরনের ভিডিওগুলোতে টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ ভিউ এবং প্রতিক্রিয়া জমা হচ্ছে। ভিডিও নির্মাতারা দাবি করছেন যে, চোখের নিচের বর্ণ, ত্বকের ফ্যাকাশে ভাব কিংবা মুখের বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখে সহজেই বলে দেওয়া সম্ভব কার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র খালি চোখে মানুষের মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করে রক্তশূন্যতা বা আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত করা কদাচিৎ সম্ভব এবং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, রক্তশূন্যতার কারণে ত্বকে ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু ক্লান্তি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণেও চেহারায় একই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে কেবল বাহ্যিক রূপ দেখে সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা অবৈজ্ঞানিক এবং তা ভুল চিকিৎসার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, রক্তশূন্যতা শনাক্তকরণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো চিকিৎসকের পরামর্শে ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা বা সিবিআই টেস্ট করানো। রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক মাত্রা এবং সিরাম ফেরিটিনের পরিমাণ না জেনে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা বা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে গেলে তা লিভারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যে কোনো শারীরিক সমস্যায় সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফেরিটিন ফেস’ কি? চেহারা দেখে কি রক্তশূন্যতা শনাক্ত করা যায়?

error: Content is protected !!

‘ফেরিটিন ফেস’ কি? চেহারা দেখে কি রক্তশূন্যতা শনাক্ত করা যায়?

আপডেট টাইম : ৯ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

স্বাস্থ্য ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি নতুন স্বাস্থ্যবিষয়ক ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা কেবল নিজেদের মুখাবয়ব ও চেহারার পরিবর্তন দেখে শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা শনাক্ত করার দাবি করছেন। এ ধরনের ভিডিওগুলোতে টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে লাখ লাখ ভিউ এবং প্রতিক্রিয়া জমা হচ্ছে। ভিডিও নির্মাতারা দাবি করছেন যে, চোখের নিচের বর্ণ, ত্বকের ফ্যাকাশে ভাব কিংবা মুখের বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখে সহজেই বলে দেওয়া সম্ভব কার রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ফলে স্বাস্থ্যসচেতন মহলে নানা ধরনের আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধুমাত্র খালি চোখে মানুষের মুখাবয়ব পর্যবেক্ষণ করে রক্তশূন্যতা বা আয়রনের ঘাটতি নিশ্চিত করা কদাচিৎ সম্ভব এবং এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, রক্তশূন্যতার কারণে ত্বকে ফ্যাকাশে ভাব দেখা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু ক্লান্তি, জিনগত বৈশিষ্ট্য বা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণেও চেহারায় একই ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে কেবল বাহ্যিক রূপ দেখে সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করা অবৈজ্ঞানিক এবং তা ভুল চিকিৎসার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন যে, রক্তশূন্যতা শনাক্তকরণের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো চিকিৎসকের পরামর্শে ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা বা সিবিআই টেস্ট করানো। রক্তে হিমোগ্লোবিনের সঠিক মাত্রা এবং সিরাম ফেরিটিনের পরিমাণ না জেনে কেবল অনুমানের ওপর ভিত্তি করে আয়রন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা বা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে গেলে তা লিভারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যে কোনো শারীরিক সমস্যায় সরাসরি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।