ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সমবায় সমিতিগুলোর বেশিরভাগই দুর্বল হয়েছে দুর্নীতির কারণে: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সমবায় আন্দোলনকে পুনরায় সচল ও শক্তিশালী করতে দুর্নীতি রোধ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমবায় সমিতি আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে এসেছে। অথচ এই আন্দোলনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে, যা দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের সমবায় খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ষাটের দশকে সমবায় আন্দোলনের অগ্রপথিক ড. আখতার হামিদ খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যা সেই সময় আন্দোলনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও সমবায় খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় যথাযথ মনোযোগ ও গুরুত্বের অভাবে সেই সোনালী দিনগুলো ম্লান হয়ে গেছে এবং খাতটি তার আগের অবস্থানে নেই।

বর্তমান সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য সঠিক উপায়ে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তরকে যৌথভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে সমবায়ভিত্তিক বিশেষায়িত কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে সফল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সহায়তা করবে।

সমবায় খাতের বিদ্যমান আইনসমূহ বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য দ্রুত সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। সবশেষে, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সফল সমবায়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সমবায় সমিতিগুলোর বেশিরভাগই দুর্বল হয়েছে দুর্নীতির কারণে: রাষ্ট্রপতি

error: Content is protected !!

সমবায় সমিতিগুলোর বেশিরভাগই দুর্বল হয়েছে দুর্নীতির কারণে: রাষ্ট্রপতি

আপডেট টাইম : ১১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: দেশের সমবায় আন্দোলনকে পুনরায় সচল ও শক্তিশালী করতে দুর্নীতি রোধ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনি সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস উদযাপনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অধিকাংশ সমবায় সমিতি আজ দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে এসেছে। অথচ এই আন্দোলনের একটি দীর্ঘ ইতিহাস ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে, যা দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে দেশের সমবায় খাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। ষাটের দশকে সমবায় আন্দোলনের অগ্রপথিক ড. আখতার হামিদ খানকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল, যা সেই সময় আন্দোলনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও সমবায় খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় যথাযথ মনোযোগ ও গুরুত্বের অভাবে সেই সোনালী দিনগুলো ম্লান হয়ে গেছে এবং খাতটি তার আগের অবস্থানে নেই।

বর্তমান সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্য সঠিক উপায়ে বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এই সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সমবায় অধিদপ্তরকে যৌথভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে সমবায়ভিত্তিক বিশেষায়িত কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে সফল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সহায়তা করবে।

সমবায় খাতের বিদ্যমান আইনসমূহ বর্তমান যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য দ্রুত সংশোধনের ওপর জোর দেওয়া হয়। দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা। সবশেষে, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা সফল সমবায়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।