ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুরে পেঁয়াজ পচন রোধে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা

নুরুল ইসলামঃ

বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলা এবং পেঁয়াজের পচন ও অপচয় রোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটি)-এর সহযোগিতায় একটি বছরব্যাপী অভিযোজন প্রকল্প চালু হয়েছে। ফরিদপুরে এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সকাল ১১টায় ডিএই-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ৬০ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক কৌশল, বিশেষ করে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ২৭,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এই অর্থ দিয়ে কৃষকরা এয়ার ফ্লো মেশিন ক্রয় এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ইটের দেয়াল নির্মাণ করতে পারবেন।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, কিন্তু উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। আমাদের এই নতুন প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে পেঁয়াজের পচন ও অপচয় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তি সংরক্ষণকালে পেঁয়াজের ওজন হ্রাস ৩০% পর্যন্ত কমাবে, যা কৃষকদের আর্থিক লাভের পাশাপাশি দেশের পেঁয়াজ আমদানিনির্ভরতা কমাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগের ফলে আমরা কেবল দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হব না, বরং বিদেশেও পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারব।

এই প্রকল্প দেশের ১৬টি জেলায় ৩,৭০০ জন কৃষকের কাছে পৌঁছাবে। ফরিদপুরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দীন মোল্লা এবং ডিডি মো. সাহাদুজ্জামান। এ সময় জেলা ও উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সরকারের এই পদক্ষেপে আমরা খুব খুশি হইছি। এত টাকা দিয়া মেশিন কেনার কথা আমরা কোনোদিন ভাবি নাই। এইবার আমাদের পেঁয়াজ আর পচব না। ফলনও ভালো হবে, টাকাও বেশি পাবো।

এইডায় আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ কইরা দিব।” তাঁরা আরও বলেন, “এই প্রকল্পটা জলবায়ু পরিবর্তনের লগে লড়াই করার আর আমাদের গেরামের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য একখান বড় পদক্ষেপ।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় জয়ে এল ক্লাসিকোর প্রস্তুতি সারল রিয়াল মাদ্রিদ

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে পেঁয়াজ পচন রোধে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা

আপডেট টাইম : ০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

নুরুল ইসলামঃ

বাংলাদেশের পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলা এবং পেঁয়াজের পচন ও অপচয় রোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটি)-এর সহযোগিতায় একটি বছরব্যাপী অভিযোজন প্রকল্প চালু হয়েছে। ফরিদপুরে এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ সকাল ১১টায় ডিএই-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ৬০ জন কৃষককে পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক কৌশল, বিশেষ করে এয়ার ফ্লো মেশিন ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে ২৭,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এই অর্থ দিয়ে কৃষকরা এয়ার ফ্লো মেশিন ক্রয় এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ইটের দেয়াল নির্মাণ করতে পারবেন।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, কিন্তু উপযুক্ত প্রযুক্তির অভাবে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। আমাদের এই নতুন প্রযুক্তি বাস্তবায়িত হলে পেঁয়াজের পচন ও অপচয় প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তি সংরক্ষণকালে পেঁয়াজের ওজন হ্রাস ৩০% পর্যন্ত কমাবে, যা কৃষকদের আর্থিক লাভের পাশাপাশি দেশের পেঁয়াজ আমদানিনির্ভরতা কমাবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই উদ্যোগের ফলে আমরা কেবল দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম হব না, বরং বিদেশেও পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারব।

এই প্রকল্প দেশের ১৬টি জেলায় ৩,৭০০ জন কৃষকের কাছে পৌঁছাবে। ফরিদপুরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দীন মোল্লা এবং ডিডি মো. সাহাদুজ্জামান। এ সময় জেলা ও উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “সরকারের এই পদক্ষেপে আমরা খুব খুশি হইছি। এত টাকা দিয়া মেশিন কেনার কথা আমরা কোনোদিন ভাবি নাই। এইবার আমাদের পেঁয়াজ আর পচব না। ফলনও ভালো হবে, টাকাও বেশি পাবো।

এইডায় আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ কইরা দিব।” তাঁরা আরও বলেন, “এই প্রকল্পটা জলবায়ু পরিবর্তনের লগে লড়াই করার আর আমাদের গেরামের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য একখান বড় পদক্ষেপ।”