ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দেশের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়: -প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটি কথা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের জনগণ যেন কখনো সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। কারণ, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই তো এই স্বাধীনতা।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে আজ রোববার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

খনই যে যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন, মানুষের কথা চিন্তা করবেন। যে এলাকায় কাজ করবেন, সেই এলাকা সম্পর্কে জানতে হবে, সেই এলাকার মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে জানতে হবে, জীবন-জীবিকা সম্পর্কে জানতে হবে। কীভাবে তাদের উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদেরই সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অল্পস্বল্প ভাগ্যবান মানুষ দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের চিন্তাভাবনা জনকল্যাণমুখী হতে হবে।’

কক্সবাজারে বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে আমরা একটি ভালো জায়গা নিচ্ছি। কারণ, কোর্স আরেকটু বেশি সময় নিয়েই করা উচিত। সুন্দর পরিবেশে হওয়া উচিত। সে জন্য কক্সবাজারে বড় জায়গা নিয়ে সুন্দর একাডেমি করে দেব, যাতে সেখানে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আর যারা প্রশিক্ষণ দেবেন, তারাও ভালো একটা পরিবেশ পাবেন। সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি। সেটার কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু করা হোক, সেটাই আমি চাই।’

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ

করোনাভাইরাসের কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় আমাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, বিশেষ জেলে থাকতে হয়েছে। সেগুলো ছিল সাবজেল, ছোট কারাগার। আর এখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বড় কারাগারে আছি, এইটুকু বলতে পারি। সেই জন্য সব জায়গায় যাতায়াতটা এত সীমিত, সীমাবদ্ধতা যে আপনাদের কাছে সরাসরি আসতে পারলাম না, নিজের হাতে সনদ দিতে পারলাম না। এটা দুঃখজনক।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তারা প্রচেষ্টা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এই দেশ এগিয়ে যাক।’

জাতির পিতা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে খাসজমি বিতরণ করে তাদের পুনর্বাসন শুরু করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেটাও সেইভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আশ্রয়ণ প্রকল্প-১-এর অধীনে ব্যারাক হাউস তৈরি এবং বর্তমান সরকারের সময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা আন্তরিকতার সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে গৃহহারা ও ভূমিহীন মানুষকে ঘরে দিয়ে দিচ্ছেন। ঘর পাওয়ার পরে মানুষের যে হাসিটা, এর চেয়ে জীবনে আর কিছু পাওয়ার থাকে না।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনীতি মজবুত হয়েছে। জাতিসংঘের চাহিদা মোতাবেক উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। শুধু মর্যাদা পেলেই হবে না, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে দেশকে। কারণ এই বাংলাদেশে একটি মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে না, একটি মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবে, শিক্ষার সুযোগ পাবে, উন্নত জীবন পাবে—এটাই তো জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য ছিল।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম প্রমুখ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় এক কক্ষে পর্দা টাঙিয়ে চলছে দুই শ্রেণির পাঠদান

error: Content is protected !!

দেশের মানুষ যেন সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়: -প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ এপ্রিল ২০২২
ডেস্ক রিপোর্টঃ :

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটি কথা মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের জনগণ যেন কখনো সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। কারণ, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই তো এই স্বাধীনতা।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আইন ও প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সসমূহের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে আজ রোববার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর শাহবাগের বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

খনই যে যেখানে দায়িত্ব পালন করবেন, মানুষের কথা চিন্তা করবেন। যে এলাকায় কাজ করবেন, সেই এলাকা সম্পর্কে জানতে হবে, সেই এলাকার মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে জানতে হবে, জীবন-জীবিকা সম্পর্কে জানতে হবে। কীভাবে তাদের উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে আপনাদেরই সবচেয়ে ভালো সুযোগ রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অল্পস্বল্প ভাগ্যবান মানুষ দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের চিন্তাভাবনা জনকল্যাণমুখী হতে হবে।’

কক্সবাজারে বিসিএস প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে আমরা একটি ভালো জায়গা নিচ্ছি। কারণ, কোর্স আরেকটু বেশি সময় নিয়েই করা উচিত। সুন্দর পরিবেশে হওয়া উচিত। সে জন্য কক্সবাজারে বড় জায়গা নিয়ে সুন্দর একাডেমি করে দেব, যাতে সেখানে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। আর যারা প্রশিক্ষণ দেবেন, তারাও ভালো একটা পরিবেশ পাবেন। সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি। সেটার কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু করা হোক, সেটাই আমি চাই।’

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ

করোনাভাইরাসের কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় আমাকে গ্রেপ্তার হতে হয়েছে, বিশেষ জেলে থাকতে হয়েছে। সেগুলো ছিল সাবজেল, ছোট কারাগার। আর এখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে বড় কারাগারে আছি, এইটুকু বলতে পারি। সেই জন্য সব জায়গায় যাতায়াতটা এত সীমিত, সীমাবদ্ধতা যে আপনাদের কাছে সরাসরি আসতে পারলাম না, নিজের হাতে সনদ দিতে পারলাম না। এটা দুঃখজনক।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তারা প্রচেষ্টা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, এই দেশ এগিয়ে যাক।’

জাতির পিতা ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে খাসজমি বিতরণ করে তাদের পুনর্বাসন শুরু করেছিলেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেটাও সেইভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, ঠিকানাবিহীন থাকবে না।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আশ্রয়ণ প্রকল্প-১-এর অধীনে ব্যারাক হাউস তৈরি এবং বর্তমান সরকারের সময়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা আন্তরিকতার সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে গৃহহারা ও ভূমিহীন মানুষকে ঘরে দিয়ে দিচ্ছেন। ঘর পাওয়ার পরে মানুষের যে হাসিটা, এর চেয়ে জীবনে আর কিছু পাওয়ার থাকে না।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, অর্থনীতি মজবুত হয়েছে। জাতিসংঘের চাহিদা মোতাবেক উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। শুধু মর্যাদা পেলেই হবে না, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে দেশকে। কারণ এই বাংলাদেশে একটি মানুষ ক্ষুধার্ত থাকবে না, একটি মানুষ গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবে, শিক্ষার সুযোগ পাবে, উন্নত জীবন পাবে—এটাই তো জাতির পিতার একমাত্র লক্ষ্য ছিল।’

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম প্রমুখ।