ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রংপুরে সিজারের পর পেটে ‘গজ কাপড়’ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

মোঃ নাঈমুল ইসলাম:

 

সিজার করার পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ওষুধ খেয়েও রোগীর মিলছে না সুফল। অতঃপর সিটিস্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল, পেটে রয়েছে কাপড়জাতীয় বস্তু। প্রসূতির সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গেল ৪১ দিন ধরে পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবিবা জান্নাত বলেন, “গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে আমার সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও জটিলতায় ভুগছি। পরে ওই ডাক্তারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। আল্ট্রা করে নিয়ে গেলে তিনি দায় স্বীকার করেননি। এরপর আমি গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে যাই। তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষায় শরীরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।”

 

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, “বিষয়টি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানালেও তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সিটি স্ক্যান করলে পেটে কাপড়জাতীয় বস্তু ধরা পড়ে। আমরা সান ডায়াগনস্টিকে অপারেশন করতে গেলে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেও ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অসহায়ভাবে ঘুরেছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “অপেক্ষা না করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

রোগীর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার চেম্বারে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করলে একজন সহযোগী জানান, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর ফোন কেটে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “তদন্ত করে দেখতে হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন গাইনি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলফাডাঙ্গায় পূজামণ্ডপে নগদ অর্থ ও গেঞ্জি বিতরণ করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আল-আমিন

error: Content is protected !!

রংপুরে সিজারের পর পেটে ‘গজ কাপড়’ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ নাঈমুল ইসলাম, রংপুর (সদর) উপজেলা প্রতিনিধি :

মোঃ নাঈমুল ইসলাম:

 

সিজার করার পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ওষুধ খেয়েও রোগীর মিলছে না সুফল। অতঃপর সিটিস্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল, পেটে রয়েছে কাপড়জাতীয় বস্তু। প্রসূতির সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গেল ৪১ দিন ধরে পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবিবা জান্নাত বলেন, “গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে আমার সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও জটিলতায় ভুগছি। পরে ওই ডাক্তারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। আল্ট্রা করে নিয়ে গেলে তিনি দায় স্বীকার করেননি। এরপর আমি গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে যাই। তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষায় শরীরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।”

 

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, “বিষয়টি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানালেও তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সিটি স্ক্যান করলে পেটে কাপড়জাতীয় বস্তু ধরা পড়ে। আমরা সান ডায়াগনস্টিকে অপারেশন করতে গেলে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেও ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অসহায়ভাবে ঘুরেছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “অপেক্ষা না করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

রোগীর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার চেম্বারে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করলে একজন সহযোগী জানান, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর ফোন কেটে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “তদন্ত করে দেখতে হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন গাইনি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়।”