ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রংপুরে সিজারের পর পেটে ‘গজ কাপড়’ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

মোঃ নাঈমুল ইসলাম:

 

সিজার করার পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ওষুধ খেয়েও রোগীর মিলছে না সুফল। অতঃপর সিটিস্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল, পেটে রয়েছে কাপড়জাতীয় বস্তু। প্রসূতির সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গেল ৪১ দিন ধরে পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবিবা জান্নাত বলেন, “গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে আমার সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও জটিলতায় ভুগছি। পরে ওই ডাক্তারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। আল্ট্রা করে নিয়ে গেলে তিনি দায় স্বীকার করেননি। এরপর আমি গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে যাই। তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষায় শরীরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।”

 

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, “বিষয়টি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানালেও তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সিটি স্ক্যান করলে পেটে কাপড়জাতীয় বস্তু ধরা পড়ে। আমরা সান ডায়াগনস্টিকে অপারেশন করতে গেলে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেও ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অসহায়ভাবে ঘুরেছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “অপেক্ষা না করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

রোগীর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার চেম্বারে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করলে একজন সহযোগী জানান, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর ফোন কেটে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “তদন্ত করে দেখতে হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন গাইনি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়।”


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জাতীয় সংসদে একসাথে বাবা মেয়ে শ্বশুর

error: Content is protected !!

রংপুরে সিজারের পর পেটে ‘গজ কাপড়’ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ৫ ঘন্টা আগে
মোঃ নাঈমুল ইসলাম, রংপুর (সদর) উপজেলা প্রতিনিধি :

মোঃ নাঈমুল ইসলাম:

 

সিজার করার পর থেকেই পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। ওষুধ খেয়েও রোগীর মিলছে না সুফল। অতঃপর সিটিস্ক্যান রিপোর্টে জানা গেল, পেটে রয়েছে কাপড়জাতীয় বস্তু। প্রসূতির সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুরের এক গাইনি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

 

এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের দায়িত্বশীল আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবীবা জান্নাতের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামে। গেল ৪১ দিন ধরে পেটের অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাবিবা জান্নাত বলেন, “গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে আমার সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তা। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথা ও জটিলতায় ভুগছি। পরে ওই ডাক্তারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেন। আল্ট্রা করে নিয়ে গেলে তিনি দায় স্বীকার করেননি। এরপর আমি গাইনি চিকিৎসক মৌসুমী হাসানের কাছে যাই। তিনি সিটি স্ক্যান করার পরামর্শ দেন এবং পরীক্ষায় শরীরে গজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।”

 

ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া বলেন, “বিষয়টি ডাক্তার রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানালেও তিনি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। পরে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শে সিটি স্ক্যান করলে পেটে কাপড়জাতীয় বস্তু ধরা পড়ে। আমরা সান ডায়াগনস্টিকে অপারেশন করতে গেলে গাইনি চিকিৎসক রাজিয়া বেগম মুক্তার স্বামী আতিক আমাদের হুমকি দেন এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককেও ভয়ভীতি দেখান। এতে আমরা অসহায়ভাবে ঘুরেছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “অপেক্ষা না করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুনরায় অপারেশনের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

 

রোগীর দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার চেম্বারে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল করলে একজন সহযোগী জানান, ‘ম্যাডাম রোগী দেখছেন, পরে কথা বলবেন।’ এরপর ফোন কেটে দেওয়া হয়।

 

অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন।

 

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, “তদন্ত করে দেখতে হবে দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কিনা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন গাইনি চিকিৎসকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা কখনো কাম্য নয়।”


প্রিন্ট