রংপুর প্রতিনিধি
প্রথমবারের মতো দুর্গোৎসব দেখতে রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে বরণ করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
ভালোবাসা, আবেগ আর উচ্ছ্বাসে চলছে নানা আয়োজন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষও। তার আগমন ঘিরে রংপুর নগরীসহ পুরো জেলায় এখন সাজ সাজ রব।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর মহানগর পর্যন্ত চলছে নানা প্রস্তুতি।
রাজধানীর বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শারদীয় দুর্গোৎসব দেখতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা, এই সফর রংপুরের মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।
রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রামজীবন কুণ্ড জানান, প্রধানমন্ত্রী রংপুর ধর্মসভা মন্দিরে প্রবেশ করলে শঙ্খ ও উলুধ্বনির মাধ্যমে তাকে বরণ করা হবে। এ সময় তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হবে।
পাশাপাশি সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) ও রংপুরের ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আগামীকাল (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর নগরীর প্রেস ক্লাব চত্বরে অবস্থিত ধর্মসভা মন্দিরের (রাধা-গোবিন্দ মন্দির) উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১১টার দিকে সেখানে পৌঁছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশলাদি জানবেন তিনি। পরে পায়ে হেঁটে পায়রা চত্বর হয়ে কালীবাড়ি মন্দিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। দুপুর ১২টার মধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক ও রোড ডিভাইডার পরিষ্কার করে রং করা হয়েছে। ডিভাইডারে লাগানো হচ্ছে ছোট ছোট ফুলের গাছ। প্রধান সড়কের ফুটপাতও দখলমুক্ত করে পরিষ্কার করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটি, সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদ এবং জেলা ও মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে টাঙানো ব্যানার। তার যাতায়াতের জন্য নির্ধারিত সড়কগুলোর সংস্কারকাজও শেষ হয়েছে।
ভাওয়াইয়া গানের সুরে পরিচিত রংপুরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরতে প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) মহানগর ও জেলা শাখার শিল্পীরা। গানে গানে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রস্তুতি নিয়েছে সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদও।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন রংপুর মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, ওলামা দল ও জিয়া সংসদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নানা কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। তার নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে ৫১ বিজিবির অধিনায়কসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন। তার সফর ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সফরকে ঘিরে তারাও আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এ ছাড়া রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের জন্য আরও ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ অঞ্চলের উন্নয়নে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 


















