ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার মানুষের আস্থার প্রতীক অধ্যাপক ডা. মোসাম্মাৎ নার্গিস শামীমা স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন। তিনি স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা গাইনি বিভাগের উপদেষ্টা, দিকনির্দেশক ও দক্ষ সুপরামর্শদাতা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি নিয়মিত প্রতি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভেড়ামারা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র গোডাউন মোড় দি-পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ডক্টরস পয়েন্ট-এ সুচিকিৎসা প্রদান করে আসছেন। তিনি অন্যান্য দিন রাজশাহী শহরের প্রাণকেন্দ্র লক্ষ্মীপুর-এ হাই-টেক বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ডলফিন ক্লিনিক-এ নিয়মিত রোগী দেখেন।
অধ্যাপক ডা. মোসাম্মাৎ নার্গিস শামীমা রাজশাহী অঞ্চলের একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং দক্ষ স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের বিভিন্ন জটিল রোগ এবং প্রসূতিসেবা দিয়ে আসছেন। তিনি কেবল রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের চার দেওয়ালে রোগী দেখেই তাঁর দায়িত্ব শেষ করেননি, বরং আগামী দিনের যোগ্য চিকিৎসক গড়ার কারিগর হিসেবেও কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। অধ্যাপক ডা. মোসাম্মাৎ নার্গিস শামীমা একজন অত্যন্ত গুণী এবং নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক।
তিনি বন্ধ্যাত্ব, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা, জরায়ুর টিউমার, সিজারিয়ান ও নরমাল ডেলিভারি এবং মহিলাদের বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যার সুচিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। সাধারণ গাইনি সমস্যা থেকে শুরু করে অত্যন্ত জটিল গাইনি রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন করে থাকেন তিনি। কুষ্টিয়ার আশেপাশের ভেড়ামারা উপজেলার মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য চিকিৎসক। চিকিৎসা সেবায় তাঁর দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাঁকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁর চিকিৎসা সেবা নিতে এতদাঞ্চলের নারীরা প্রতি শুক্রবার ভেড়ামারা দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভিড় করে থাকেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি একজন অত্যন্ত জনপ্রিয়, সুদক্ষ স্নেহময়ী ও আদর্শ শিক্ষক। জটিল ও কঠিন মেডিকেল টার্মগুলো অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দেওয়ার অনন্য ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। তাঁর ক্লাসরুমে তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি এমবিবিএস, ডিজিও, এমএস (গাইনি অ্যান্ড অবস) স্ত্রীরোগ, প্রসূতিবিদ্যা, ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান।
একজন সফল মেন্টর বা দিকনির্দেশক হিসেবে তরুণ চিকিৎসকদের হৃদয়ে তাঁর স্থান অনেক উঁচুতে। বিশেষ করে যারা গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ট্রেইনি বা শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করছেন, তাদের তিনি সার্বক্ষণিক গাইড করেন। অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড রাউন্ড প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি জুনিয়র ডাক্তারদের হাতে-কলমে কাজ শেখান। কঠিন ও জটিল কেসগুলোতে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সেই নেতৃত্বগুণ তিনি তরুণ চিকিৎসকদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন। সহকর্মী ও জুনিয়র চিকিৎসকদের মতে, অধ্যাপক ডা. নার্গিস শামীমা একজন মেন্টর হিসেবে অত্যন্ত উদার। তিনি সবসময় নতুনদের গবেষণামূলক কাজে উৎসাহিত করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে পেপার প্রেজেন্টেশনের জন্য তৈরি করে দেন। তাঁর এই দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা পেয়ে বহু তরুণ চিকিৎসক আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুনামের সাথে কাজ করছেন।
আজকের তরুণ চিকিৎসকেরা যাতে শুধু প্রযুক্তনির্ভর না হয়ে রোগীর প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল হতে পারেন, সেই নৈতিক শিক্ষাই তিনি প্রতিনিয়ত দিয়ে যাচ্ছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক ও যোগ্য মেন্টর হিসেবে চিকিৎসা শিক্ষায় তাঁর এই অবদান চিকিৎসা খাতের জন্য এক বিশাল অর্জন। অধ্যাপক ডা. মোসাম্মাৎ নার্গিস শামীমার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও গুণী চিকিৎসকেরা আমাদের আশার আলো দেখান। নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এবং মানবসেবায় তাঁর এই অবদান চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 


















