ঢাকা , শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত Logo সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশছাড়ার হুমকি Logo নগরকান্দায় ৯৫০ পিচ ইয়াবাসহ আটক ১
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ঠাকুরগাঁওয়ে বুড়িরবাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা উৎসব

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব । হাতে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে পানিতে নেমেছেন কয়েক হাজার মানুষ। কেউ ভেলায়, কেউ ছোট নৌকায় করে চলছে মাছ ধরার এক প্রতিযোগিতা। এ যেন মাছ ধরার ধুম চলছে ৷ এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটি ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধ এলাকার । ১৪ অক্টোবর সোমবার বিকেলে ছেড়ে দেয়া হয় বাঁধের পানি । তখন থেকে শুরু হয়ে জেলেদের আগমন । উৎসবটি চলবে ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দিনব্যাপী ।

 

 

উৎসবে যোগ দিয়ে অসংখ্য মানুষ মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পারছেন। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। বাদ যাননি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও। কারও হাতে পলো, কারও হাতে চাবিজাল, খেয়াজাল, টানাজাল বা ছেঁকাজাল। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও বসে নেই। খালি হাত দিয়েই কাঁদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন। অনেকে আবার ভিড় জমিয়েছে মাছ ধরা দেখতে। এই মাছ উৎসব ঘিরে বাঁধ এলাকায় বসানো হয়ে বিভিন্ন খাবারের দোকান।

 

যানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচ সুবিধার জন্য এলাকায় একটি জলকপাট (সুইসগেইট) নির্মাণ করা হয়। জলকপাটে আটকে থাকা সেই পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়া হয়। আর এ পোনাগুলোর দেখভাল করে আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। ৫০ একর এলাকাজুড়ে সুক নদীর ওপর নির্মিত বুড়ির বাঁধ মৎস্য অভয়াশ্রম। সারা বছর কাউকে এখানে মাছ ধরতে দেওয়া হয় না। শুধু জমানো পানি ছেড়ে দেওয়ার পর এ সময়ই মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়।

 

হরিপুর উপজেলার গেদুড়া থেকে মাছ ধরতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে মাছ ধরার জন্য এসেছি৷ গতবারে এতক্ষণে ভালো মাছ পেয়েছিলাম। এবারে কারেন্ট জালের ব্যবহার বেশি হবার কারণে মাছ মিলছে না৷ প্রতিবারে বলা হয়ে থেকে কারেন্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না৷ অথচ প্রশাসন কোনোভাবে আটকাতে পারছে না।

 

 

উৎসব দেখতে আসা স্কুল শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম বলেন, মাছ কেনার জন্য এসেছি। তবে এবারে মাছের দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। এবারে নানা প্রজাতির মাছ ও পাওয়া যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম যাকারিয়া বলেন, বুড়ি বাঁধটি খুলে দেয়ার পরে মাছ ধরার ধুম পড়েছে। নানা প্রজাতির মাছ ধরছেন এ উৎসবে৷ কৃষিতে সেচ দিতে সুবিধা হবার জন্য এ জলকপাট নির্মাণ করা হয়েছে৷ প্রতিবারে গেট খোলা হলে মাছ ধরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ৷

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুকসুদপুরে নার্সারি মালিকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ

error: Content is protected !!

ঠাকুরগাঁওয়ে বুড়িরবাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা উৎসব

আপডেট টাইম : ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় শুরু হয়েছে মাছ ধরার উৎসব । হাতে জাল নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে পানিতে নেমেছেন কয়েক হাজার মানুষ। কেউ ভেলায়, কেউ ছোট নৌকায় করে চলছে মাছ ধরার এক প্রতিযোগিতা। এ যেন মাছ ধরার ধুম চলছে ৷ এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যটি ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধ এলাকার । ১৪ অক্টোবর সোমবার বিকেলে ছেড়ে দেয়া হয় বাঁধের পানি । তখন থেকে শুরু হয়ে জেলেদের আগমন । উৎসবটি চলবে ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার দিনব্যাপী ।

 

 

উৎসবে যোগ দিয়ে অসংখ্য মানুষ মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পারছেন। এদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। বাদ যাননি বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও। কারও হাতে পলো, কারও হাতে চাবিজাল, খেয়াজাল, টানাজাল বা ছেঁকাজাল। যাদের মাছ ধরার সরঞ্জাম নেই তারাও বসে নেই। খালি হাত দিয়েই কাঁদার মধ্যে মাছ খুঁজছেন। অনেকে আবার ভিড় জমিয়েছে মাছ ধরা দেখতে। এই মাছ উৎসব ঘিরে বাঁধ এলাকায় বসানো হয়ে বিভিন্ন খাবারের দোকান।

 

যানা যায়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৯৫১-৫২ সালের দিকে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের কৃষি জমির সেচ সুবিধার জন্য এলাকায় একটি জলকপাট (সুইসগেইট) নির্মাণ করা হয়। জলকপাটে আটকে থাকা সেই পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়া হয়। আর এ পোনাগুলোর দেখভাল করে আকচা ও চিলারং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)। ৫০ একর এলাকাজুড়ে সুক নদীর ওপর নির্মিত বুড়ির বাঁধ মৎস্য অভয়াশ্রম। সারা বছর কাউকে এখানে মাছ ধরতে দেওয়া হয় না। শুধু জমানো পানি ছেড়ে দেওয়ার পর এ সময়ই মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়।

 

হরিপুর উপজেলার গেদুড়া থেকে মাছ ধরতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোর রাতে মাছ ধরার জন্য এসেছি৷ গতবারে এতক্ষণে ভালো মাছ পেয়েছিলাম। এবারে কারেন্ট জালের ব্যবহার বেশি হবার কারণে মাছ মিলছে না৷ প্রতিবারে বলা হয়ে থেকে কারেন্ট জাল ব্যবহার করা যাবে না৷ অথচ প্রশাসন কোনোভাবে আটকাতে পারছে না।

 

 

উৎসব দেখতে আসা স্কুল শিক্ষক খাদেমুল ইসলাম বলেন, মাছ কেনার জন্য এসেছি। তবে এবারে মাছের দাম অনেক বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা। এবারে নানা প্রজাতির মাছ ও পাওয়া যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম যাকারিয়া বলেন, বুড়ি বাঁধটি খুলে দেয়ার পরে মাছ ধরার ধুম পড়েছে। নানা প্রজাতির মাছ ধরছেন এ উৎসবে৷ কৃষিতে সেচ দিতে সুবিধা হবার জন্য এ জলকপাট নির্মাণ করা হয়েছে৷ প্রতিবারে গেট খোলা হলে মাছ ধরে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ৷