জাতীয় ডেস্ক: বরিশাল নগরে প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংসের প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সম্প্রতি নগরের বটতলাসংলগ্ন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আদম আলী হাজি গলিতে একটি পুকুর ভরাটের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয় একটি মসজিদের নির্মাণকাজের উদ্বৃত্ত বালু পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করে পুকুরটি দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইপ সরিয়ে ফেলে এবং অননুমোদিত এই ভরাটকাজ বন্ধ করে দেয়। চলতি বছরেই শুধু এই অঞ্চলে অন্তত ছয়টি পুকুর ও দিঘি ভরাটের ঘটনা ঘটেছে বা এমন অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, একের পর এক জলাশয় এভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া নগরীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সরকারি বরিশাল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুর ভরাট করে ফেলে। তবে দ্রুত বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসায় সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপে সেই কাজও স্থগিত করা হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সীতারামের দিঘি, নথুল্লাবাদ এলাকার আলী চেয়ারম্যানের দিঘি, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার সড়কের দিঘি এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোডের মা ও শিশুকল্যাণকেন্দ্রের পুকুরটিও ভরাটের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই নগরীতে অপরিকল্পিতভাবে জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কাও দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আদম আলী হাজি গলির পুকুরটি ইতোমধ্যে ভরাট করতে করতে অত্যন্ত সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। চারপাশের সুউচ্চ পাকা ভবনের মাঝখানে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকা এই জলাশয়ের পাড়ে সিটি করপোরেশনের একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, প্রায় ২০ শতাংশ আয়তনের এই ঐতিহাসিক জলাশয়ে একসময় নিয়মিত গোসলসহ দৈনন্দিন নানা কাজ চলত। এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবিরের অভিযোগ, মসজিদ নির্মাণের বালু ফেলার অজুহাতে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি মালিকানার দাবি তুলে কৌশলে পুকুরটি ভরাট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।
জলাশয়টির মালিকানা দাবিদার মো. আব্দুল হালিম অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সিএস ও আরএস রেকর্ড অনুযায়ী ওই জমিটি মূলত তাদের পৈতৃক সূত্রে কেনা। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তারা নিজেরা কোনো জলাশয় ভরাট করছেন না এবং কারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত সে বিষয়েও তাদের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান মো. লকিতুল্লাহ সিকদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী যেকোনো ধরনের পুকুর বা দিঘি ভরাট করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এর আগেও এই নির্দিষ্ট পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভবিষ্যতেও জলাশয় রক্ষায় তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়ক লিংকন বায়েন এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে এভাবে পুকুর বা দিঘি মাটির নিচে মিলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বেলার পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে বরিশালের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই অপরিকল্পিত নগরায়ণ নগরবাসীকে দীর্ঘমেয়াদে এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 




















