ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিমতীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও নানা রকম কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জন্য জলপাই সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি চাষিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেল। সম্প্রতি নাবলুসের কাছাকাছি এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই তুলতে সরাসরি সহায়তা করেন ইসরায়েলের ছয় সাবেক জেনারেলসহ প্রায় ৩০ জন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। মূলত কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং চলমান নিপীড়নের প্রতিবাদ জানানোর জন্যই এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের সাবেক মেজর জেনারেল আইয়াল বেন-রুভেন কিছুদিন আগে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছিলেন। ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর চালানো সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে এই ঘটনাগুলো তাঁর কাছে অতীতে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নিপীড়নের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফিলিস্তিনি ভূমির মালিক নিমর নাজ্জাল জানিয়েছেন যে এই সাবেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণেই তিনি এমন কিছু গাছ থেকে জলপাই সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যেখানে একা যাওয়ার সাহস তাঁর ছিল না। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বা বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষপাতিত্ব করার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা ওই অঞ্চলে কেবল নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজ করছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন-এর হিসাব অনুযায়ী জলপাই সংগ্রহ মৌসুমের শুরুর দিককার দিনে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর শতাধিক শারীরিক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং এর অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের প্রতিবেদন থেকেও জলপাই চাষকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের প্রধান জীবিকার উৎস এই জলপাই চাষ হলেও নানা বিধিনিষেধের কারণে জমিতে প্রবেশ করা প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে।

সহযোগিতায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোনাথন ইয়োনি মনে করেন যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের পাশাপাশি পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার সরকারি নীতির বিরোধিতা করাই তাঁকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের সহিংস আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমতীরে বর্তমানে লক্ষাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন যাদের অধিকাংশ বসতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেআইনি বলে গণ্য করে। সাবেক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের এই অংশগ্রহণ দেশটির সমাজের ভেতর দখলদারত্ব ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্যকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

আকুর বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ নামল ৩০ বিলিয়নের নিচে

error: Content is protected !!

জলপাই সংগ্রহে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালেন ইসরায়েলের সাবেক জেনারেলরা

আপডেট টাইম : ৩ ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিমতীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও নানা রকম কঠোর বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি কৃষকদের জন্য জলপাই সংগ্রহ করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে। এমন এক প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি চাষিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেল। সম্প্রতি নাবলুসের কাছাকাছি এলাকায় ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই তুলতে সরাসরি সহায়তা করেন ইসরায়েলের ছয় সাবেক জেনারেলসহ প্রায় ৩০ জন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। মূলত কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং চলমান নিপীড়নের প্রতিবাদ জানানোর জন্যই এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের সাবেক মেজর জেনারেল আইয়াল বেন-রুভেন কিছুদিন আগে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছিলেন। ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের ওপর চালানো সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে এই ঘটনাগুলো তাঁর কাছে অতীতে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর চালানো নিপীড়নের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ফিলিস্তিনি ভূমির মালিক নিমর নাজ্জাল জানিয়েছেন যে এই সাবেক ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণেই তিনি এমন কিছু গাছ থেকে জলপাই সংগ্রহ করতে পেরেছেন, যেখানে একা যাওয়ার সাহস তাঁর ছিল না। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বা বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষপাতিত্ব করার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে তারা ওই অঞ্চলে কেবল নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজ করছে।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন-এর হিসাব অনুযায়ী জলপাই সংগ্রহ মৌসুমের শুরুর দিককার দিনে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর শতাধিক শারীরিক হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং এর অনেক ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এছাড়া জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের প্রতিবেদন থেকেও জলপাই চাষকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনিদের ওপর দফায় দফায় হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের প্রধান জীবিকার উৎস এই জলপাই চাষ হলেও নানা বিধিনিষেধের কারণে জমিতে প্রবেশ করা প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে।

সহযোগিতায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলের সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোনাথন ইয়োনি মনে করেন যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা লাঘবের পাশাপাশি পশ্চিমতীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার সরকারি নীতির বিরোধিতা করাই তাঁকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের এই ধরনের সহিংস আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমতীরে বর্তমানে লক্ষাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন যাদের অধিকাংশ বসতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেআইনি বলে গণ্য করে। সাবেক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তাদের এই অংশগ্রহণ দেশটির সমাজের ভেতর দখলদারত্ব ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্যকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।