হুমায়ন আহমেদঃ
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ দুইজনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ হওয়া ঝড়-বৃষ্টির সময় এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। ঘটনায় দুই এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের মাঠপাড়া এলাকায় কৃষিকাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারান রাসেল আলী (২৫)। তিনি স্থানীয় রেজাউল ইসলামের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেলে বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় বজ্রপাত। এ সময় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করছিলেন রাসেল। বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের পারকৃষ্ণপুর গ্রামে বজ্রপাতে প্রাণ যায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিমুল ইসলাম (১৪)-এর। সে তাজিমুল ইসলামের ছেলে। জানা যায়, বাবার জন্য খাবার নিয়ে মাঠে যাওয়ার পথে হঠাৎ ঝড় ও বজ্রপাত শুরু হলে সে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই দুই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিক্ষার্থী আজিমুলের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর বিষাদের ছায়া।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, খোলা মাঠে অবস্থানের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা সবাইকে ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশাখ মাসে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি থাকে। তাই এ সময় সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।
সবশেষে বলা যায়, এই দুইটি হৃদয়বিদারক ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়।
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
হুমায়ুন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 


















