ঢাকা , বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

এফএওর প্রতিবেদন

চালের উৎপাদন বেশি বাড়ছে বাংলাদেশে

এক বছরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে চালের উৎপাদন বাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বিদায়ী বছরের (২০২২-২৩) চেয়ে নতুন বছরে (২০২৩-২৪) উৎপাদন বাড়তে পারে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর মোট চালের উৎপাদনে চীন ও ভারতের পর তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে প্রকাশ করা গ্লোবাল ফুড আউটলুক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বাভাসের তুলনায় কম হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত ও পাকিস্তান এ বছর রপ্তানি কমাতে বাধ্য হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রপ্তানি করতে হবে। ভারত গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৪০ লাখ টন চাল কম রপ্তানি করবে।

অন্যদিকে উৎপাদন কম হওয়ায় বাংলাদেশকে দুই বছর আগেও ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল। কিন্তু এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ কমে আট লাখ টনে নেমে এসেছে। জুলাই থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের এই সংস্থা প্রতি ছয় মাসের জন্য একবার করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশে গমের উৎপাদনও এক লাখ টন বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ফুড আউটলুক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চীন চাল উৎপাদনে এখনো শীর্ষে রয়েছে। গত বছর দেশটিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন। আগামী বছরে (২০২৩-২৪) উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে ভারত। গত বছর দেশটির উৎপাদিত হয়েছে ১৩ কোটি ৮ লাখ টন। আগামী বছরে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৩ কোটি ১০ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে দশমিক ১ শতাংশ। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। বিদায়ী বছরে দেশটির উৎপাদন ৩ কোটি ৮৩ লাখ টন। আগামী বছরে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন বাড়তে পারে ১ শতাংশ। ভিয়েতনামে যা হতে পারে দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ থেকে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গ্রেইন: ওয়ার্ল্ড মার্কেট অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যগুলোর উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে একই চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে চালের উৎপাদন মোট সাড়ে সাত লাখ টন বেড়েছে। ফলে চালের আমদানি কমেছে। ২০২০-২১ সালে যেখানে বাংলাদেশ ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছে, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আট লাখ টনে নেমে এসেছে। ডলার-সংকটসহ নানা অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তিতে আছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাংলাদেশ খাদ্য নিয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ধান কাটার ক্ষেত্রে সরকার যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে এবং নতুন উদ্ভাবন করা প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু জাতগুলো জনপ্রিয় হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে সরকারের ভর্তুকি অব্যাহত থাকায় উৎপাদন খরচ আমরা খুব একটা বাড়তে দিইনি। যার সুফল এখন পাচ্ছি।’

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধান

error: Content is protected !!

এফএওর প্রতিবেদন

চালের উৎপাদন বেশি বাড়ছে বাংলাদেশে

আপডেট টাইম : ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জুন ২০২৩
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক :

এক বছরে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি হারে চালের উৎপাদন বাড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বিদায়ী বছরের (২০২২-২৩) চেয়ে নতুন বছরে (২০২৩-২৪) উৎপাদন বাড়তে পারে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আর মোট চালের উৎপাদনে চীন ও ভারতের পর তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) থেকে প্রকাশ করা গ্লোবাল ফুড আউটলুক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বাভাসের তুলনায় কম হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত ও পাকিস্তান এ বছর রপ্তানি কমাতে বাধ্য হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রপ্তানি করতে হবে। ভারত গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৪০ লাখ টন চাল কম রপ্তানি করবে।

অন্যদিকে উৎপাদন কম হওয়ায় বাংলাদেশকে দুই বছর আগেও ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল। কিন্তু এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ কমে আট লাখ টনে নেমে এসেছে। জুলাই থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রকাশ করা ওই প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের এই সংস্থা প্রতি ছয় মাসের জন্য একবার করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশে গমের উৎপাদনও এক লাখ টন বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ফুড আউটলুক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চীন চাল উৎপাদনে এখনো শীর্ষে রয়েছে। গত বছর দেশটিতে উৎপাদিত হয়েছে ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন। আগামী বছরে (২০২৩-২৪) উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর রয়েছে ভারত। গত বছর দেশটির উৎপাদিত হয়েছে ১৩ কোটি ৮ লাখ টন। আগামী বছরে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৩ কোটি ১০ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে দশমিক ১ শতাংশ। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। বিদায়ী বছরে দেশটির উৎপাদন ৩ কোটি ৮৩ লাখ টন। আগামী বছরে উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৮৯ লাখ টন। উৎপাদন বৃদ্ধি হতে পারে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন বাড়তে পারে ১ শতাংশ। ভিয়েতনামে যা হতে পারে দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি ও খাদ্যবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ থেকে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গ্রেইন: ওয়ার্ল্ড মার্কেট অ্যান্ড ট্রেড’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যগুলোর উৎপাদন বেড়ে যাওয়া নিয়ে একই চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে চালের উৎপাদন মোট সাড়ে সাত লাখ টন বেড়েছে। ফলে চালের আমদানি কমেছে। ২০২০-২১ সালে যেখানে বাংলাদেশ ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছে, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা আট লাখ টনে নেমে এসেছে। ডলার-সংকটসহ নানা অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে বাংলাদেশ এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তিতে আছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাংলাদেশ খাদ্য নিয়ে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ধান কাটার ক্ষেত্রে সরকার যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে এবং নতুন উদ্ভাবন করা প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু জাতগুলো জনপ্রিয় হওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে সরকারের ভর্তুকি অব্যাহত থাকায় উৎপাদন খরচ আমরা খুব একটা বাড়তে দিইনি। যার সুফল এখন পাচ্ছি।’