ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উৎসব চলবে আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের বৈষম্যমূলক ও পরিচয়বাদী সংঘাত রুখে দিতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের শিক্ষা ও দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আগামী প্রজন্মের মননে লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা গড়ে তুলতে তাঁর দর্শন ও শিক্ষা বিদ্যালয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, কুষ্টিয়া একদিন লালন নগরী হবে। এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতিতে আবার নৌকা চলবে, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুল নবী।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন। সেখানে একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, লালন উদযাপনের জন্য কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক কোনো কার্যক্রম রয়েছে কি না। স্কুলের শিশুরা কীভাবে লালন সম্পর্কে জানতে পারবে, সে বিষয়েও জানতে চান তিনি। প্রধানমন্ত্রী চান, লালনের শিক্ষা বিদ্যালয়েও পৌঁছে যাক।
লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে লালনের দর্শন অত্যন্ত জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীতে নানা ধরনের পরিচয়ভিত্তিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। মানুষ সাদা না কালো, মুসলিম না হিন্দু কিংবা ইহুদি না মুসলিম, এ ধরনের পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। নিজের পরিচয়কে সামনে রেখে সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার এই প্রবণতার বিপরীতে লালনের দর্শন অনন্য।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আয়োজনে তিরোধান দিবসের এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় সাঁইজির বারাম খানার আখড়া বাড়ীতে যেন সাধূর হাট বসেছে। আখড়াবাড়ি পরিণত হয়েছে সাধূ-গুরু-বাউলদের মিলন মেলা।
লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে বসেছে সাধু-গুরু, বাউল ও ভক্তদের মিলনমেলা। ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—সাঁইজির এই সাধু বাণী ধারণ করে দেশ-বিদেশের সাধক ও ভক্তরা আধ্যাত্মিক সাধনা, মানবতার দীক্ষা এবং সত্যের সন্ধানে ছুটে এসেছেন তাঁর মাজারে।
প্রচলিত প্রথা ও লালন সাঁইয়ের সাধুরীতি অনুসরণ করে তিন দিনের এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠান শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেন বাউল সাধকরা। তাঁরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে গেয়ে চলেছেন লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক বাণী ও দর্শনভিত্তিক গান। তাঁদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে উঠেছে আখড়াবাড়ি। উৎসবকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া শহরেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
উৎসব নির্বিغ্নে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় প্রায় আট শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি এসআরবি ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় লালন মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা ও লালনসংগীত শিল্পী বিউটিসহ বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে লালনসংগীত শিল্পী সালমা ও লালন একাডেমির স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনের কথা রয়েছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 



























