ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ায় তামাক কারখানার সামনে ২২ দফা দাবি আদায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) একদল শ্রমিক ২২ দফা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

শ্রমিকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে কোম্পানির পাওনা মুনাফা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, নিয়োগপত্রসহ ২২ দফা দাবি পূরণ করতে হবে। এ জন্য তারা আন্দোলন করছেন।

 

আজ ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের চৌড়হাস মোড় এলাকায় কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

 

শ্রমিকদের হাতে দাবি আদায়ের ব্যানারসহ বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ছিল। ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা কারখানার প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তারা ‘শ্রম দিলাম, টাকা কই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’–সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

 

শ্রমিকেরা সাংবাদিকদের বলেন, বিএটিবির মৌসুমি শ্রমিকেরা তাঁদের ২২ দফা দাবি আদায়ে অনেক আগে থেকে আন্দোলন করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

 

শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এভাবে তাদের সঙ্গে বছরের পর বছর প্রতারণা করে যাচ্ছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। বিএটিবি বিদেশি ভালো কোম্পানি হলেও কুষ্টিয়ায় কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে এখানে শ্রমিকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী নয় বলে কর্মকর্তারা তাদের ইচ্ছেমতো চাকরি থেকে বের করে দেন।

 

এ বিষয়ে বিএটিবি কুষ্টিয়া কারখানার প্লান্ট ম্যানেজার মুকিত আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিশিয়ালি তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারেন না।

 

শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র লিখিত বক্তব্যে জানান, একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে, বিএটি বাংলাদেশ দেশের প্রযোজ্য সব আইন, বিধি-বিধান ও নীতিমালা মেনে চলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিছু মৌসুমি শ্রমিক বিএটি বাংলাদেশের কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনেছে এবং পর্যালোচনা করেছে। একটি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএটি এ দেশে ১১৫ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের আইনি কাঠামোর আওতায় সব কর্মী যেন যথাযথভাবে তাদের প্রাপ্য সুবিধা লাভ করেন, তা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠান অঙ্গীকারবদ্ধ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় তামাক কারখানার সামনে ২২ দফা দাবি আদায়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপােটার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) একদল শ্রমিক ২২ দফা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

 

শ্রমিকদের ভাষ্য, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে কোম্পানির পাওনা মুনাফা, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, নিয়োগপত্রসহ ২২ দফা দাবি পূরণ করতে হবে। এ জন্য তারা আন্দোলন করছেন।

 

আজ ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের চৌড়হাস মোড় এলাকায় কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

 

শ্রমিকদের হাতে দাবি আদায়ের ব্যানারসহ বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ছিল। ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা কারখানার প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। তারা ‘শ্রম দিলাম, টাকা কই’, ‘দিয়েছি তো রক্ত, আরও দেব রক্ত’–সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেন।

 

শ্রমিকেরা সাংবাদিকদের বলেন, বিএটিবির মৌসুমি শ্রমিকেরা তাঁদের ২২ দফা দাবি আদায়ে অনেক আগে থেকে আন্দোলন করে আসছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

 

শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এভাবে তাদের সঙ্গে বছরের পর বছর প্রতারণা করে যাচ্ছেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। বিএটিবি বিদেশি ভালো কোম্পানি হলেও কুষ্টিয়ায় কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে এখানে শ্রমিকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী নয় বলে কর্মকর্তারা তাদের ইচ্ছেমতো চাকরি থেকে বের করে দেন।

 

এ বিষয়ে বিএটিবি কুষ্টিয়া কারখানার প্লান্ট ম্যানেজার মুকিত আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিশিয়ালি তিনি কোনো বক্তব্য দিতে পারেন না।

 

শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে বিএটি বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র লিখিত বক্তব্যে জানান, একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে, বিএটি বাংলাদেশ দেশের প্রযোজ্য সব আইন, বিধি-বিধান ও নীতিমালা মেনে চলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিছু মৌসুমি শ্রমিক বিএটি বাংলাদেশের কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেছেন। প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে শুনেছে এবং পর্যালোচনা করেছে। একটি দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএটি এ দেশে ১১৫ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের আইনি কাঠামোর আওতায় সব কর্মী যেন যথাযথভাবে তাদের প্রাপ্য সুবিধা লাভ করেন, তা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠান অঙ্গীকারবদ্ধ।