ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

এমপিদের খুশি করতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০০ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রায় সমাপ্তির পথে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ইতিমধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশের কোঠায় পৌঁছেছে। শত শত রাস্তাঘাট ও সেতুর কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে এসে প্রকল্পের ব্যয় চার হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরনের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অভ্যন্তরীণ মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ভোটার ও নেতাকর্মীদের চাহিদার চাপ সামাল দিতেই এই অভিনব কৌশল নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান কোনো নতুন উন্নয়ন কাজ দেখাতে না পারায় অনেক জনপ্রতিনিধি চাপে রয়েছেন। নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হওয়ায়, তারা পুরোনো প্রকল্পের মেয়াদ ও পরিধি বাড়িয়ে দ্রুত কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই রাজনৈতিক চাপে পড়ে স্থানীয় সরকার বিভাগও শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পথ বেছে নিয়েছে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সাম্প্রতিক সভায় এই বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ। সংস্থাটির মতে, যে প্রকল্পের প্রায় পুরো কাজই শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে সড়ক ও সেতু নির্মাণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগে একই ধরনের পৃথক প্রকল্প চালুর প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, চলমান প্রকল্পের পরিধি অপ্রয়োজনে বাড়ানোর কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করছে তারা।

পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় সাত বছর আগে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পে শেষের দিকে এসে এ ধরনের বড় অঙ্কের অর্থ সংযোজন আইনি ও অর্থনৈতিক নিয়মের পরিপন্থী। নিয়মানুযায়ী নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে গেলে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নানা শর্ত পূরণ করতে হয়, যা এ ক্ষেত্রে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রভাবে এই ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের সার্বিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

এমপিদের খুশি করতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০০ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ৫০ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: প্রায় সমাপ্তির পথে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন করে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ইতিমধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশের কোঠায় পৌঁছেছে। শত শত রাস্তাঘাট ও সেতুর কাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে এসে প্রকল্পের ব্যয় চার হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ধরনের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অভ্যন্তরীণ মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ভোটার ও নেতাকর্মীদের চাহিদার চাপ সামাল দিতেই এই অভিনব কৌশল নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পর এলাকায় দৃশ্যমান কোনো নতুন উন্নয়ন কাজ দেখাতে না পারায় অনেক জনপ্রতিনিধি চাপে রয়েছেন। নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হওয়ায়, তারা পুরোনো প্রকল্পের মেয়াদ ও পরিধি বাড়িয়ে দ্রুত কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই রাজনৈতিক চাপে পড়ে স্থানীয় সরকার বিভাগও শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পথ বেছে নিয়েছে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সাম্প্রতিক সভায় এই বিপুল ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলেও এর তীব্র বিরোধিতা করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ। সংস্থাটির মতে, যে প্রকল্পের প্রায় পুরো কাজই শেষ হয়ে গেছে, সেখানে নতুন করে সড়ক ও সেতু নির্মাণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢালা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন বিভাগে একই ধরনের পৃথক প্রকল্প চালুর প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, চলমান প্রকল্পের পরিধি অপ্রয়োজনে বাড়ানোর কোনো অবকাশ নেই বলে মনে করছে তারা।

পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় সাত বছর আগে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পে শেষের দিকে এসে এ ধরনের বড় অঙ্কের অর্থ সংযোজন আইনি ও অর্থনৈতিক নিয়মের পরিপন্থী। নিয়মানুযায়ী নতুন কোনো উদ্যোগ নিতে গেলে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ নানা শর্ত পূরণ করতে হয়, যা এ ক্ষেত্রে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক প্রভাবে এই ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের সার্বিক পরিকল্পনা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।