ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ইউরোস্ট্যাটের আগস্ট প্রতিবেদন: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইইউর বাজার

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মূলত মোট রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের একক মূল্যও হ্রাস পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের মোট রপ্তানির সিংহভাগ এই বাজারে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ায় স্থানীয় রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। এক বছরের ব্যবধানে এই বাজারে রপ্তানি আয় হ্রাসের হার প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু আর্থিক পরিমাণই নয়, বরং প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর ফলে সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

রপ্তানি আয় হ্রাসের এই নিম্নমুখী ধারার পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। ফ্রান্স ও ইতালিদ্‌সহ বিভিন্ন প্রধান দেশে হঠাৎ শুরু হওয়া বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অস্থিরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথগতি তৈরি করছে। এর ফলে স্থানীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি পোশাকের নতুন চাহিদা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের বাজার ধরে রাখা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের ভেতরেও উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কারখানাসমূহে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট ও উচ্চ মূল্য পরিশোধের চাপের সঙ্গে সম্প্রতি ফ্যাব্রিকসের সুতা আমদানিতে সরকারের নতুন বিধিনিষেধ খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের বাড়তি দাম দিতে নারাজ, বরং তারা আরও কমে পোশাক সরবরাহ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে দুই দিক থেকে তৈরি হওয়া এই তীব্র চাপের মুখে দেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

পড়াশোনার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি কাজ করেন যেসব দেশের শিক্ষার্থীরা

error: Content is protected !!

ইউরোস্ট্যাটের আগস্ট প্রতিবেদন: উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইইউর বাজার

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে এই বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মূলত মোট রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি পোশাকের একক মূল্যও হ্রাস পাওয়ার কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের মোট রপ্তানির সিংহভাগ এই বাজারে যাওয়ার কারণে দীর্ঘদিনের এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ায় স্থানীয় রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর বাজারে পোশাক রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ইউরো, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩৫০ কোটি ইউরো। এক বছরের ব্যবধানে এই বাজারে রপ্তানি আয় হ্রাসের হার প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। শুধু আর্থিক পরিমাণই নয়, বরং প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এর ফলে সার্বিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।

রপ্তানি আয় হ্রাসের এই নিম্নমুখী ধারার পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি। ফ্রান্স ও ইতালিদ্‌সহ বিভিন্ন প্রধান দেশে হঠাৎ শুরু হওয়া বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অস্থিরতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথগতি তৈরি করছে। এর ফলে স্থানীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি পোশাকের নতুন চাহিদা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের বাজার ধরে রাখা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার পাশাপাশি দেশের ভেতরেও উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। কারখানাসমূহে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট ও উচ্চ মূল্য পরিশোধের চাপের সঙ্গে সম্প্রতি ফ্যাব্রিকসের সুতা আমদানিতে সরকারের নতুন বিধিনিষেধ খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল জানিয়েছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ইউরোপীয় ক্রেতারা পণ্যের বাড়তি দাম দিতে নারাজ, বরং তারা আরও কমে পোশাক সরবরাহ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে দুই দিক থেকে তৈরি হওয়া এই তীব্র চাপের মুখে দেশের পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।