ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, ‘ভালো না কি বাজে’ উপায়ে জয়—কঠোর সিদ্ধান্তের মুখে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এই দ্বন্দ্বে ভালো উপায়ে জয়ী হতে চান নাকি কঠোর কোনো পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে ভাবছেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখতে এই সংকট নিরসন করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বিষয়ে ইউরোপীয় নেতাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হলেও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে হস্তান্তরের আন্তর্জাতিক প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় চারশ কেজি পারমাণবিক উপাদান রাশিয়ার জিম্মায় দেওয়ার বিষয়টি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন করে কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অতীত আচরণের ভুল শুধরে বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ইতিপূর্বে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই মার্কিন হামলার তিক্ত স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তেহরান জানিয়েছে, তাদের পেশ করা সুনির্দিষ্ট সাত দফা প্রস্তাবের বাইরে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না।

চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতা জোরদার করতে সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছেন। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যে তিনটি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে কোনো বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেই বলে জানানো হলেও এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভীতি ও সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, বর্তমান ইরানি সরকারের পতন নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে আলোচনা করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং অন্যদিকে চরম সামরিক চাপ ও সরকার পতনের সুদূরপ্রসারী কৌশল—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক গভীর ও বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আত্মবিশ্বাস বাড়াবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

error: Content is protected !!

ইউরেনিয়াম ছাড়বে না ইরান, ‘ভালো না কি বাজে’ উপায়ে জয়—কঠোর সিদ্ধান্তের মুখে ট্রাম্প

আপডেট টাইম : ৫৬ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, তারা এই দ্বন্দ্বে ভালো উপায়ে জয়ী হতে চান নাকি কঠোর কোনো পথ বেছে নেবেন, তা নিয়ে ভাবছেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখতে এই সংকট নিরসন করা অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বিষয়ে ইউরোপীয় নেতাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হলেও তারা কোনো ধরনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি বলে অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, নিজেদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে হস্তান্তরের আন্তর্জাতিক প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক চুক্তির অংশ হিসেবে প্রায় চারশ কেজি পারমাণবিক উপাদান রাশিয়ার জিম্মায় দেওয়ার বিষয়টি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নতুন করে কোনো আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অতীত আচরণের ভুল শুধরে বিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ইতিপূর্বে কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই মার্কিন হামলার তিক্ত স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তেহরান জানিয়েছে, তাদের পেশ করা সুনির্দিষ্ট সাত দফা প্রস্তাবের বাইরে তারা কোনো ধরনের আপস করবে না।

চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ মেটাতে এবং কূটনৈতিক মধ্যস্থতা জোরদার করতে সম্প্রতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছেন। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে ইতিমধ্যে তিনটি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে কোনো বড় সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নেই বলে জানানো হলেও এই সামরিক শক্তি প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভীতি ও সংশয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, বর্তমান ইরানি সরকারের পতন নিশ্চিত করার গুরুত্ব নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে আলোচনা করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং অন্যদিকে চরম সামরিক চাপ ও সরকার পতনের সুদূরপ্রসারী কৌশল—সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক গভীর ও বিপজ্জনক অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।