ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

আজ কুমারখালী মুক্ত দিবস

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার

আজ ৯ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিকামী মানুষেরা বিজয়ের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন।

 

দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রামের পর ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধ এবং অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করে কুমারখালী। ধলনগর, করিমপুর, প্রতাপপুর, কুসলীবাসা, বিল বরইচারা, ডাঁসা, ঘাসখাল, বংশীতলা, নন্দনালপুরসহ অন্যান্য এলাকার যুদ্ধের ফলে এই অঞ্চলে প্রায় ১৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শত শত নারী-পুরুষ শহিদ হন। পাকিস্তানি বাহিনীর বহু সৈন্যও নিহত হয়।

 

৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা কুমারখালী শহরে ঢুকে কুন্ডুপাড়া রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেন। রাজাকারদের সঙ্গে তাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। সেই সময় পাকিস্তানি সেনারা কুষ্টিয়া থেকে এসে শহরে ব্রাশ ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালানোর জন্য পৃথক পৃথক এলাকায় অবস্থান নেন।

 

৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা শহরের চারপাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প (বর্তমান কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন। দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ট্রেনযোগে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। হাতিসাঁকো এলাকায় পৌঁছানোর পর মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনটি লাইনচ্যুত করে দেয় এবং পাকিস্তানি সৈন্যরা পালিয়ে যায়।

 

এদিন রাজাকার কমান্ডার খুশি নিহত হন এবং অন্যান্য রাজাকাররা পালিয়ে যান। এর ফলে কুমারখালী হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা রাইফেল, এসএলআর হাতে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা এই দিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। কুমারখালী মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল শুরু করেন।

 

আরও পড়ুনঃ কালুখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আহত ৩

 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু জানান, “প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী মুক্ত দিবস পালন করা হয়, যেখানে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে

error: Content is protected !!

আজ কুমারখালী মুক্ত দিবস

আপডেট টাইম : ১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৪
ইসমাইল হােসেন বাবু, ষ্টাফ রিপােটার :

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার

আজ ৯ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে কুমারখালীর মুক্তিকামী মানুষেরা বিজয়ের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়েছিলেন।

 

দীর্ঘ ৯ মাসের সংগ্রামের পর ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা যুদ্ধ এবং অসংখ্য শহিদের রক্তের বিনিময়ে মুক্তি লাভ করে কুমারখালী। ধলনগর, করিমপুর, প্রতাপপুর, কুসলীবাসা, বিল বরইচারা, ডাঁসা, ঘাসখাল, বংশীতলা, নন্দনালপুরসহ অন্যান্য এলাকার যুদ্ধের ফলে এই অঞ্চলে প্রায় ১৪ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শত শত নারী-পুরুষ শহিদ হন। পাকিস্তানি বাহিনীর বহু সৈন্যও নিহত হয়।

 

৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা কুমারখালী শহরে ঢুকে কুন্ডুপাড়া রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ করেন। রাজাকারদের সঙ্গে তাদের তুমুল যুদ্ধ হয়। সেই সময় পাকিস্তানি সেনারা কুষ্টিয়া থেকে এসে শহরে ব্রাশ ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। ৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালানোর জন্য পৃথক পৃথক এলাকায় অবস্থান নেন।

 

৯ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা শহরের চারপাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প (বর্তমান কুমারখালী উপজেলা পরিষদ) আক্রমণ করেন। দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ট্রেনযোগে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায়। হাতিসাঁকো এলাকায় পৌঁছানোর পর মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনটি লাইনচ্যুত করে দেয় এবং পাকিস্তানি সৈন্যরা পালিয়ে যায়।

 

এদিন রাজাকার কমান্ডার খুশি নিহত হন এবং অন্যান্য রাজাকাররা পালিয়ে যান। এর ফলে কুমারখালী হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা রাইফেল, এসএলআর হাতে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম হান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা এই দিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। কুমারখালী মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে সর্বস্তরের জনগণ রাস্তায় নেমে আনন্দ মিছিল শুরু করেন।

 

আরও পড়ুনঃ কালুখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, আহত ৩

 

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু জানান, “প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর কুমারখালী মুক্ত দিবস পালন করা হয়, যেখানে সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।