ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সিডনিতে কাল চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ আট দশকের প্রতীক্ষা ও নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ডানা মেলছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিডনির কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ব্যাজেরিস ক্রিকে নবনির্মিত ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল ইতিহাসে পাঁচ দশকের বেশি সময় পর সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রধান বিমানবন্দর চালুর এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই নতুন বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যার ফলে সিডনির মূল বিমানবন্দরের মতো এখানে কোনো ধরনের নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা বা কার্ফিউ থাকছে না। প্রথম পর্যায়ে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সমন্বিত টার্মিনাল নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারে। বর্তমানে বার্ষিক এক কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও, ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণ এবং টার্মিনাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধারণক্ষমতা আট কোটিতে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৪৬ সালে প্রথমবার সিডনিতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পটি বহুবার হোঁচট খেয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয় এবং সম্প্রতি কার্গো ফ্লাইটের পর এবার নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হলো। বিমানবন্দরটির অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত চমক হলো এর প্রথাগত কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার না থাকা, যার পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রিমোট ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

শুরুতে স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা জেটস্টার অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতজেটসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। নতুন এই বিমানবন্দরটি চালু হওয়ায় পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসকারী বিশাল প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও দ্রুতগতির রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও এই বিশাল প্রকল্প অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে

error: Content is protected !!

সিডনিতে কাল চালু হচ্ছে নতুন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ আট দশকের প্রতীক্ষা ও নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ডানা মেলছে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সিডনির কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার পশ্চিমে ব্যাজেরিস ক্রিকে নবনির্মিত ‘ওয়েস্টার্ন সিডনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। দেশটির বিমান চলাচল ইতিহাসে পাঁচ দশকের বেশি সময় পর সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রধান বিমানবন্দর চালুর এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই নতুন বিমানবন্দরটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যার ফলে সিডনির মূল বিমানবন্দরের মতো এখানে কোনো ধরনের নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা বা কার্ফিউ থাকছে না। প্রথম পর্যায়ে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সমন্বিত টার্মিনাল নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ এয়ারবাস এ৩৮০ অনায়াসে ওঠানামা করতে পারে। বর্তমানে বার্ষিক এক কোটি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা থাকলেও, ভবিষ্যতে দ্বিতীয় রানওয়ে নির্মাণ এবং টার্মিনাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধারণক্ষমতা আট কোটিতে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৪৬ সালে প্রথমবার সিডনিতে দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হলেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রকল্পটি বহুবার হোঁচট খেয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এর নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হয় এবং সম্প্রতি কার্গো ফ্লাইটের পর এবার নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হলো। বিমানবন্দরটির অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত চমক হলো এর প্রথাগত কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার না থাকা, যার পরিবর্তে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রিমোট ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

শুরুতে স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা জেটস্টার অভ্যন্তরীণ রুটে সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, এয়ার নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতজেটসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও কার্যক্রম শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। নতুন এই বিমানবন্দরটি চালু হওয়ায় পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম সিডনিতে বসবাসকারী বিশাল প্রবাসী বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে। যদিও দ্রুতগতির রেলসংযোগ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াত ব্যবস্থার কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও এই বিশাল প্রকল্প অস্ট্রেলিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করছেন।