ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

অবৈধ ভাটা উচ্ছেদ অভিযানঃ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সদস্যের কে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। আজ বুধবার দুপুরে চরসাদিপুর ইউনিয়নের ভোমরার মোড়ে ঘটে এ ঘটনা। এ সময় তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যাওয়া পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের ৬০ সদস্যের দলটিকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ভাটার মালিকরা ‘আগামী বছর থেকে অবৈধভাবে ভাটা চালাবেন না’ মর্মে মুচলেকা দেন। সেটি নিয়েই কোনোমতে এলাকা ছাড়ে প্রশাসনের অভিযানিক দলটি।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে ২২ বর্গমাইল আয়তনের চরসাদিপুর ইউনিয়ন। এখানে বসবাস করেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ। আইন অমান্য করে এ ইউনিয়নের ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ৩৩টি অবৈধ ইটভাটা। এর মধ্যে অন্তত ১৯টিতে রয়েছে টিনের তৈরি ড্রাম চিমনি। এ ইউনিয়ন ঘেঁষে কুষ্টিয়া সদর ও পাবনা সদর ইউনিয়নের অংশেও পড়েছে আরও অন্তত সাতটি অবৈধ ভাটা। এসব ভাটায় দেদার পোড়ানো হচ্ছে নদী ও ফসলি জমির মাটি; আশপাশের গাছের কাঠ। ইট বহনে ব্যবহৃত ট্রাকের কারণে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ সড়ক। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

 

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চরসাদিপুর চরাঞ্চলটি দুর্গম। যে কারণে অতীতে অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যায়নি। বুধবার কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী; পাবনা সদর ও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযানে যায়। বেলা ১১টার দিকে দলটি ভোমরার মোড়ে পৌঁছলে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে ভাটার মালিক ও শ্রমিকদের নেতৃত্বে লোকজন তাদের ঘেরাও করে। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে চলে আসেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের এসিল্যান্ড রিফাতুল ইসলাম, কুমারখালীর এসিল্যান্ড মো. আমিরুল আরাফাত, পাবনা সদরের এসিল্যান্ড মুরাদ হোসেন ও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল বাসার।

 

ওই এলাকায় এবিসি ইটভাটাটি অবৈধভাবে নির্মাণ করেন সাখাওয়াত হোসেন। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ভাটা চালাচ্ছি আমরা। আশপাশের এলাকায় এমন অন্তত ৪০টি অবৈধ ভাটা রয়েছে। যার অন্তত ১৯টিতে ড্রাম চিমনি। কয়েক হাজার শ্রমিক ভাটাগুলোতে কাজ করেন। তাদের জীবিকার কথা চিন্তা করে সম্মিলিতভাবেই অভিযানে বাধা দেওয়া হয়েছে।

 

কুমারখালীর এসিল্যান্ড আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা পথেই অভিযান আটকে দিয়েছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও ভাটায় পৌঁছানো যায়নি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।

 

ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। আরও গুছিয়ে ভবিষ্যতে সেখানে অভিযান চালাবেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অভিযান থেকে ফেরার পর কর্মকর্তাদের বার্তা পাননি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে নতুন ‘আইডিয়া’ সংবিধান সংশোধন কমিটিতে

error: Content is protected !!

অবৈধ ভাটা উচ্ছেদ অভিযানঃ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার সদস্যের কে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

আপডেট টাইম : ১১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪
ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু, স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে ফিরতে হয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের। আজ বুধবার দুপুরে চরসাদিপুর ইউনিয়নের ভোমরার মোড়ে ঘটে এ ঘটনা। এ সময় তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যাওয়া পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের ৬০ সদস্যের দলটিকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে ভাটার মালিকরা ‘আগামী বছর থেকে অবৈধভাবে ভাটা চালাবেন না’ মর্মে মুচলেকা দেন। সেটি নিয়েই কোনোমতে এলাকা ছাড়ে প্রশাসনের অভিযানিক দলটি।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে ২২ বর্গমাইল আয়তনের চরসাদিপুর ইউনিয়ন। এখানে বসবাস করেন প্রায় ২৩ হাজার মানুষ। আইন অমান্য করে এ ইউনিয়নের ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে ৩৩টি অবৈধ ইটভাটা। এর মধ্যে অন্তত ১৯টিতে রয়েছে টিনের তৈরি ড্রাম চিমনি। এ ইউনিয়ন ঘেঁষে কুষ্টিয়া সদর ও পাবনা সদর ইউনিয়নের অংশেও পড়েছে আরও অন্তত সাতটি অবৈধ ভাটা। এসব ভাটায় দেদার পোড়ানো হচ্ছে নদী ও ফসলি জমির মাটি; আশপাশের গাছের কাঠ। ইট বহনে ব্যবহৃত ট্রাকের কারণে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ সড়ক। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

 

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চরসাদিপুর চরাঞ্চলটি দুর্গম। যে কারণে অতীতে অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো যায়নি। বুধবার কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী; পাবনা সদর ও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথভাবে অভিযানে যায়। বেলা ১১টার দিকে দলটি ভোমরার মোড়ে পৌঁছলে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়ে ভাটার মালিক ও শ্রমিকদের নেতৃত্বে লোকজন তাদের ঘেরাও করে। দুপুর প্রায় দেড়টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। পরে ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে চলে আসেন কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া সদরের এসিল্যান্ড রিফাতুল ইসলাম, কুমারখালীর এসিল্যান্ড মো. আমিরুল আরাফাত, পাবনা সদরের এসিল্যান্ড মুরাদ হোসেন ও কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবুল বাসার।

 

ওই এলাকায় এবিসি ইটভাটাটি অবৈধভাবে নির্মাণ করেন সাখাওয়াত হোসেন। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ভাটা চালাচ্ছি আমরা। আশপাশের এলাকায় এমন অন্তত ৪০টি অবৈধ ভাটা রয়েছে। যার অন্তত ১৯টিতে ড্রাম চিমনি। কয়েক হাজার শ্রমিক ভাটাগুলোতে কাজ করেন। তাদের জীবিকার কথা চিন্তা করে সম্মিলিতভাবেই অভিযানে বাধা দেওয়া হয়েছে।

 

কুমারখালীর এসিল্যান্ড আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাটার মালিক ও শ্রমিকরা পথেই অভিযান আটকে দিয়েছেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও ভাটায় পৌঁছানো যায়নি। জনগণের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।

 

ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা করা হয়েছে। আরও গুছিয়ে ভবিষ্যতে সেখানে অভিযান চালাবেন। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অভিযান থেকে ফেরার পর কর্মকর্তাদের বার্তা পাননি।