ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

ভেড়ামারায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা

-প্রতীকী ছবি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় দুই পক্ষের  ৫জন আহত হয়েছে । দুজনের অবস্থা আশঙ্কজন। আহতরা কুষ্টিয়া ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
২৬ মার্চ  মঙ্গলবার রাত ৯টার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও মৃত সুন্নত আলীর ছেলে  মাশরেকুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর আহত। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
সন্ত্রাসী হামলায়  মাশরেকুলের পুত্র তরিকুল ইসলাম লিখন এবং হাফিজুর রহমানের পুত্র শাহানুর রহমান সৃজন গুরুতর আহত হয়েছে।
এলাকা সূত্রে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, মাশরেকুলের নাবালক পুত্র আশিকুর রহমান পাপন এবং সামাদের পুত্র মারুফ ২৬ মার্চ রাতে এশার নামাজের সময় মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে সামনে-পিছনে দাঁড়ানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে জনৈক  সামাদ শক্তি সঞ্চয় করে সদলবলে মাশরেকুলের উপরে চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষ বিপক্ষ অবলম্বন করা ও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষদের দমন এর উদ্দেশ্যে রামদা চাপাতি হাতকুড়াল হাতুড়ি লাঠিসোটা বাটামসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চিহ্নিত হামলাকারীরাসহ আরো অজ্ঞাত ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী রাতের বেলায় এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাশরেকুলের মাথায় সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। সন্ত্রাসী হামলার সময় চাপাতির আঘাতে মাশরেকুলের দুই চোখে আঘাত লাগে এবং চোখদুটো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। জখমীদের শোর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসলে আসামিরা জখমীদেরকে ভয়-ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এলাকাবাসী আহতদেরকে উদ্ধার করে সিএনজি যোগে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।  সেখানে জখমীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মাশরেকুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
গুরুতর জখমী মাশরেকুলকে চিকিৎসার জন্য গতরাতেই অ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজশাহী নেয়া হয়। অন্য ২ জখমী শাহানুর রহমান সৃজন ও তরিকুল ইসলাম লিখন গুরুতর আহত অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ‌ এদিকে এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে যান।
সংবাদ পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের পক্ষ থেকে এই মর্মে দাবি করা হয়েছে ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন এর হুকুমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।  ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভেড়ামারা- দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহসিন আল মুরাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোদালিয়া পাড়ার ঘটনার বিষয়ে সংবাদ পেয়েছেন বলে জানান। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সেখানে তৎপর রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অভিযোগ সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে গোপালগঞ্জে যোগদান করলেন উখিং মে

error: Content is protected !!

ভেড়ামারায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা

আপডেট টাইম : ০৫:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মার্চ ২০২৪
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় দুই পক্ষের  ৫জন আহত হয়েছে । দুজনের অবস্থা আশঙ্কজন। আহতরা কুষ্টিয়া ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
২৬ মার্চ  মঙ্গলবার রাত ৯টার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের কোদালিয়া পাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য ও মৃত সুন্নত আলীর ছেলে  মাশরেকুল ইসলাম (৪৫) গুরুতর আহত। বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
সন্ত্রাসী হামলায়  মাশরেকুলের পুত্র তরিকুল ইসলাম লিখন এবং হাফিজুর রহমানের পুত্র শাহানুর রহমান সৃজন গুরুতর আহত হয়েছে।
এলাকা সূত্রে প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, মাশরেকুলের নাবালক পুত্র আশিকুর রহমান পাপন এবং সামাদের পুত্র মারুফ ২৬ মার্চ রাতে এশার নামাজের সময় মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে সামনে-পিছনে দাঁড়ানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে জনৈক  সামাদ শক্তি সঞ্চয় করে সদলবলে মাশরেকুলের উপরে চড়াও হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষ বিপক্ষ অবলম্বন করা ও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষদের দমন এর উদ্দেশ্যে রামদা চাপাতি হাতকুড়াল হাতুড়ি লাঠিসোটা বাটামসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চিহ্নিত হামলাকারীরাসহ আরো অজ্ঞাত ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী রাতের বেলায় এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে মাশরেকুলের মাথায় সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। সন্ত্রাসী হামলার সময় চাপাতির আঘাতে মাশরেকুলের দুই চোখে আঘাত লাগে এবং চোখদুটো ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। জখমীদের শোর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে আসলে আসামিরা জখমীদেরকে ভয়-ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করে। এলাকাবাসী আহতদেরকে উদ্ধার করে সিএনজি যোগে দ্রুত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।  সেখানে জখমীদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর মাশরেকুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
গুরুতর জখমী মাশরেকুলকে চিকিৎসার জন্য গতরাতেই অ্যাম্বুলেন্স যোগে রাজশাহী নেয়া হয়। অন্য ২ জখমী শাহানুর রহমান সৃজন ও তরিকুল ইসলাম লিখন গুরুতর আহত অবস্থায় ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ‌ এদিকে এই ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে যান।
সংবাদ পেয়ে ভেড়ামারা থানা পুলিশও ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের পক্ষ থেকে এই মর্মে দাবি করা হয়েছে ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন এর হুকুমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।  ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভেড়ামারা- দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহসিন আল মুরাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোদালিয়া পাড়ার ঘটনার বিষয়ে সংবাদ পেয়েছেন বলে জানান। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সেখানে তৎপর রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, অভিযোগ সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।