ঢাকা , বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

সন্তানের প্রতি মা বাবার ভুল

পিতা-মাতাকে শুধু সন্তান জন্মদান ও জীবনোপকরণের ব্যয় নির্বাহ করলেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায় না। সন্তানকে সঠিক উপায়ে পরিচর্যা ও লালন-পালন করে প্রকৃত মানুষ করাও বাবা-মায়ের অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সাধারণ কিছু ভুলভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। এর কয়েকটি হলো

বন্ধুসুলভ আচরণ না করা

বাচ্চাদের সব সময় কড়াকড়ির মধ্যে রাখলে বাচ্চা অভিভাবকদের ভয় পেতে শুরু করবে। যার ফলে লুকিয়ে লুকিয়ে এমন অনেক কিছুই শুরু করতে পারে, যা বিপদ ডেকে আনবে। তা ছাড়া সন্তানের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হবে। তাই উত্তম হলো, সন্তানের বন্ধু হয়ে তার পাশে থাকা।

পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলে তিরস্কার

পড়াশোনায় খারাপ ফলাফল মানেই জীবনের পূর্ণ ব্যর্থতা নয়। অনেক বিখ্যাত মনীষী পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফলাফল না করেও জগৎ উজ্জ্বল করেছেন। আপনার ছেলে-মেয়ে পারেনি পাস করতে। ঠিক আছে, পরেরবার ভালো করবে। আরেকটা সুযোগ দিয়ে দেখুন, তার প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। সে নিশ্চয়ই সামাজিক কাজে, লেখালেখিতে, ক্যালিগ্রাফিতে, রান্নাবান্নায় কিংবা অন্য যেকোনো কিছুতে অবশ্যই ভালো। সেটা তার ক্যারিয়ার হতে পারে। অতএব অযথা পড়াশোনার চাপ দেওয়া ভুল।

অসম্পূর্ণ ইচ্ছে বাচ্চাদের ঘাড়ে চাপানো

সন্তানকে আমার মতো বুদ্ধিমান হতে হবে, সবকিছুতে সে সেরা হবে। কিন্তু বাস্তবে সন্তান আপনার মতো নাও হতে পারে। তাই আগেভাগে কোনো কিছু কল্পনা না করাই ভালো। বাবা ডাক্তার হতে পারেনি তাই ছেলেকে ডাক্তার হতে হবে! কেন? ছেলের ইচ্ছে বলতে কিছু নেই? কে কী হতে চায় জীবনে এটা সম্পূর্ণ তাকে ডিসাইড করতে দেওয়া উচিত। হ্যাঁ, গুরুজনের পরামর্শের মূল্য আছে, তবে তাদের কথাই শেষ কথা হওয়া উচিত নয়। তবে প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়াটা আবশ্যক।

ভালো করে না জেনে জ্ঞান দেওয়া

অভিভাবক হচ্ছে বাচ্চাদের গুরু। তারা তাদের গুরুজনদের অনুসরণ করে। তাই কোনো বিষয়ে জ্ঞান দেওয়ার আগে, শেখানোর আগে নিজেই ভালো করে শিখে নেওয়া উচিত। আমিই ঠিক, আমি সব জানি এমন মানসিকতা থাকলে বাচ্চারাও তাই করবে। ভুল জানবে, ভুল শিখবে এবং অন্যদের সামনে বোকা বা অহংকারী হওয়ার পরিচয় পাবে।

মাতৃভাষা ভালোভাবে না শেখানো

নিজের মাতৃভাষা না জানার মধ্যে কোনো স্মার্টনেস নেই, সেটা ছোটদের ভালোভাবে বোঝানো উচিত। নিজের মাতৃভাষা সবার আগে লিখিয়ে পড়িয়ে আত্মস্থ করে দিতে হবে, এরপর অন্যান্য ভাষার প্রতি মনোযোগ দিতে পারে।

অন্যের সঙ্গে তুলনা

প্রত্যেক শিশুই আলাদা প্রতিভার হয়, তাদের আলাদা গুণ-দোষ থাকে। তাই অন্যের সন্তান কতটা ভালো আর নিজেরটা কত বড় আহাম্মক তা রেগে গেলেও বলা উচিত না।

অন্ধের মতো সাপোর্ট করা

সন্তান সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা শুনতে চান না অনেক মা-বাবা। তারা মনে করেন, তাদের সন্তান কোনো ভুল করতে পারে না। এভাবে অন্ধের মতো সাপোর্ট করা ঠিক না। সে ভুল করলে তার ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলা দরকার। নইলে সে সঠিক আর ভুল বিবেচনা করতেই শিখবে না।

সময় না দিয়ে, দামি উপহার দেওয়া

অনেকে সন্তানদের সময় দিতে পারেন না তাই এ ঘাটতি পূরণ করতে সন্তানের সব বায়না মেটাতে চান, ফলে সন্তানরাও বিগড়ে যায়। তাই নিজের যতটুকু সময় হয় সেটা বাচ্চাটিকে দিন, এর বিকল্প হতে পারে না।

দত্তক সন্তানদের পরিচয় গোপন করা

অসহায় বাচ্চাকে দত্তক নেওয়া সওয়াবের কাজ। তবে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার আসল সত্যটি তাকে জানানো উচিত। বড় হলে যদি অন্য কারও থেকে তার গোপন সত্যটি জানে, তখন সে আরও দুঃখ পাবে। তাই নিজেরাই যদি যতেœর সঙ্গে তাকে বুকে টেনে নিয়ে সত্য বলে দেওয়া যায়, তাহলে সেটাই শ্রেয়।

অতিরিক্ত আদর করা

মা-বাবা সন্তানকে ভালোবাসবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত ভালোবাসা সন্তানের ক্ষতির কারণও হতে পারে। সন্তানের সব কথা মানা অথবা সব জিদ পূরণ করলে ভবিষ্যতে তাকে আয়ত্তে আনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।

শৈশব হারিয়ে ফেলা

শিশুর কাছ থেকে তাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া ঠিক নয়। বাবা বা মায়েরা মাঝেমধ্যে সন্তানকে এমন পড়ালেখার চাপের মধ্যে রাখেন যে বাচ্চারা অনেক সময় খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বা আত্মীয়দের বাড়ি বেড়ানোর সুযোগ পায় না। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শৈশব।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

সন্তানের প্রতি মা বাবার ভুল

আপডেট টাইম : ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

পিতা-মাতাকে শুধু সন্তান জন্মদান ও জীবনোপকরণের ব্যয় নির্বাহ করলেই দায়িত্ব পালন হয়ে যায় না। সন্তানকে সঠিক উপায়ে পরিচর্যা ও লালন-পালন করে প্রকৃত মানুষ করাও বাবা-মায়ের অতীব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সাধারণ কিছু ভুলভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। এর কয়েকটি হলো

বন্ধুসুলভ আচরণ না করা

বাচ্চাদের সব সময় কড়াকড়ির মধ্যে রাখলে বাচ্চা অভিভাবকদের ভয় পেতে শুরু করবে। যার ফলে লুকিয়ে লুকিয়ে এমন অনেক কিছুই শুরু করতে পারে, যা বিপদ ডেকে আনবে। তা ছাড়া সন্তানের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হবে। তাই উত্তম হলো, সন্তানের বন্ধু হয়ে তার পাশে থাকা।

পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলে তিরস্কার

পড়াশোনায় খারাপ ফলাফল মানেই জীবনের পূর্ণ ব্যর্থতা নয়। অনেক বিখ্যাত মনীষী পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফলাফল না করেও জগৎ উজ্জ্বল করেছেন। আপনার ছেলে-মেয়ে পারেনি পাস করতে। ঠিক আছে, পরেরবার ভালো করবে। আরেকটা সুযোগ দিয়ে দেখুন, তার প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করুন। সে নিশ্চয়ই সামাজিক কাজে, লেখালেখিতে, ক্যালিগ্রাফিতে, রান্নাবান্নায় কিংবা অন্য যেকোনো কিছুতে অবশ্যই ভালো। সেটা তার ক্যারিয়ার হতে পারে। অতএব অযথা পড়াশোনার চাপ দেওয়া ভুল।

অসম্পূর্ণ ইচ্ছে বাচ্চাদের ঘাড়ে চাপানো

সন্তানকে আমার মতো বুদ্ধিমান হতে হবে, সবকিছুতে সে সেরা হবে। কিন্তু বাস্তবে সন্তান আপনার মতো নাও হতে পারে। তাই আগেভাগে কোনো কিছু কল্পনা না করাই ভালো। বাবা ডাক্তার হতে পারেনি তাই ছেলেকে ডাক্তার হতে হবে! কেন? ছেলের ইচ্ছে বলতে কিছু নেই? কে কী হতে চায় জীবনে এটা সম্পূর্ণ তাকে ডিসাইড করতে দেওয়া উচিত। হ্যাঁ, গুরুজনের পরামর্শের মূল্য আছে, তবে তাদের কথাই শেষ কথা হওয়া উচিত নয়। তবে প্রয়োজন পরিমাণ দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়াটা আবশ্যক।

ভালো করে না জেনে জ্ঞান দেওয়া

অভিভাবক হচ্ছে বাচ্চাদের গুরু। তারা তাদের গুরুজনদের অনুসরণ করে। তাই কোনো বিষয়ে জ্ঞান দেওয়ার আগে, শেখানোর আগে নিজেই ভালো করে শিখে নেওয়া উচিত। আমিই ঠিক, আমি সব জানি এমন মানসিকতা থাকলে বাচ্চারাও তাই করবে। ভুল জানবে, ভুল শিখবে এবং অন্যদের সামনে বোকা বা অহংকারী হওয়ার পরিচয় পাবে।

মাতৃভাষা ভালোভাবে না শেখানো

নিজের মাতৃভাষা না জানার মধ্যে কোনো স্মার্টনেস নেই, সেটা ছোটদের ভালোভাবে বোঝানো উচিত। নিজের মাতৃভাষা সবার আগে লিখিয়ে পড়িয়ে আত্মস্থ করে দিতে হবে, এরপর অন্যান্য ভাষার প্রতি মনোযোগ দিতে পারে।

অন্যের সঙ্গে তুলনা

প্রত্যেক শিশুই আলাদা প্রতিভার হয়, তাদের আলাদা গুণ-দোষ থাকে। তাই অন্যের সন্তান কতটা ভালো আর নিজেরটা কত বড় আহাম্মক তা রেগে গেলেও বলা উচিত না।

অন্ধের মতো সাপোর্ট করা

সন্তান সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক কথা শুনতে চান না অনেক মা-বাবা। তারা মনে করেন, তাদের সন্তান কোনো ভুল করতে পারে না। এভাবে অন্ধের মতো সাপোর্ট করা ঠিক না। সে ভুল করলে তার ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে তাকে বুঝিয়ে বলা দরকার। নইলে সে সঠিক আর ভুল বিবেচনা করতেই শিখবে না।

সময় না দিয়ে, দামি উপহার দেওয়া

অনেকে সন্তানদের সময় দিতে পারেন না তাই এ ঘাটতি পূরণ করতে সন্তানের সব বায়না মেটাতে চান, ফলে সন্তানরাও বিগড়ে যায়। তাই নিজের যতটুকু সময় হয় সেটা বাচ্চাটিকে দিন, এর বিকল্প হতে পারে না।

দত্তক সন্তানদের পরিচয় গোপন করা

অসহায় বাচ্চাকে দত্তক নেওয়া সওয়াবের কাজ। তবে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার আসল সত্যটি তাকে জানানো উচিত। বড় হলে যদি অন্য কারও থেকে তার গোপন সত্যটি জানে, তখন সে আরও দুঃখ পাবে। তাই নিজেরাই যদি যতেœর সঙ্গে তাকে বুকে টেনে নিয়ে সত্য বলে দেওয়া যায়, তাহলে সেটাই শ্রেয়।

অতিরিক্ত আদর করা

মা-বাবা সন্তানকে ভালোবাসবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত ভালোবাসা সন্তানের ক্ষতির কারণও হতে পারে। সন্তানের সব কথা মানা অথবা সব জিদ পূরণ করলে ভবিষ্যতে তাকে আয়ত্তে আনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।

শৈশব হারিয়ে ফেলা

শিশুর কাছ থেকে তাদের শৈশব কেড়ে নেওয়া ঠিক নয়। বাবা বা মায়েরা মাঝেমধ্যে সন্তানকে এমন পড়ালেখার চাপের মধ্যে রাখেন যে বাচ্চারা অনেক সময় খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বা আত্মীয়দের বাড়ি বেড়ানোর সুযোগ পায় না। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার শৈশব।