ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

ভেড়ামারায় ১৮৬ বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

-গ্রেফতার ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জানবার আলী।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়  পুলিশের বাধায় বিএনপির সভা পন্ড,ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিএনপির অন্তত ১৮৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেছে ।  ভোড়ামারা থানার উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল এ মামলা করেন।

মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ তৌহিদুল ইসলামসহ ৩৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে।

ভোড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ভেড়ামারা শহরের নওদাপাড়ায় অস্থায়ী কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভা পুলিশের বাধায় পন্ড হয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একই সময় জাসদের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ওরফে ডাবলুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা। ককেটল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এসব ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ভাঙচুর করা ১০টি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নেয়। তবে পুলিশের দাবি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অনুষ্ঠানে বিরোধ দেখা দেয়। পরে তাঁরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সড়কে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজের বাধা সৃষ্টি করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে। এদিকে মামলার পর থেকে ভেড়ামারা শহরসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-২ আসনের (ভেড়ামারা-মিরপুর) বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে মিথ্যা মামলা করেছে। এটা পুলিশের পুরোনো অভ্যাস। এ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশেই আমাদের কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়েছে যাতে আমরা ভয় পাই। রাজপথে না থাকতে পারি। আমাদের আন্দোলন দমানো যাবে না। এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। রাজপথে এর জবাব দেওয়া হবে।

বিএনপির এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছেন। এর সঙ্গে জাসদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি বরাবরই আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি করে থাকে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

ভেড়ামারায় ১৮৬ বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট টাইম : ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জুন ২০২৩
ইসমাইল হোসেন বাবু, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ :

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়  পুলিশের বাধায় বিএনপির সভা পন্ড,ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বিএনপির অন্তত ১৮৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভেড়ামারা থানায় মামলা দায়ের করেছে ।  ভোড়ামারা থানার উপপরিদর্শক মহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল এ মামলা করেন।

মামলায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ তৌহিদুল ইসলামসহ ৩৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে।

ভোড়ামারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ভেড়ামারা শহরের নওদাপাড়ায় অস্থায়ী কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভা পুলিশের বাধায় পন্ড হয়ে যায়। পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। একই সময় জাসদের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ওরফে ডাবলুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা। ককেটল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এসব ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং ভাঙচুর করা ১০টি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নেয়। তবে পুলিশের দাবি, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অনুষ্ঠানে বিরোধ দেখা দেয়। পরে তাঁরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সড়কে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজের বাধা সৃষ্টি করেন বলে মামলায় বলা হয়েছে। এদিকে মামলার পর থেকে ভেড়ামারা শহরসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোর বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-২ আসনের (ভেড়ামারা-মিরপুর) বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম বলেন, পুলিশই আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে মিথ্যা মামলা করেছে। এটা পুলিশের পুরোনো অভ্যাস। এ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশেই আমাদের কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়েছে যাতে আমরা ভয় পাই। রাজপথে না থাকতে পারি। আমাদের আন্দোলন দমানো যাবে না। এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই। রাজপথে এর জবাব দেওয়া হবে।

বিএনপির এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করেছেন। এর সঙ্গে জাসদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি বরাবরই আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি করে থাকে।


প্রিন্ট