মো. কামরুল হাসানঃ
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার অধিকাংশ সড়ক এখন মৌসুমি ফসল মাড়াইয়ের স্থানে পরিণত হয়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
মহম্মদপুর উপজেলার সাথে সংযুক্ত জেলা শহরে যাওয়ার প্রধান সড়কসহ গ্রামের অধিকাংশ সড়কে কৃষকেরা ফসল মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার কৃষকরা ডাল, গম, ধনিয়া, ছোলা, রাই, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল প্রতিদিন সড়কের ওপর ছড়িয়ে শুকালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়কে গ্রামের মানুষ ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ করছেন। বাড়ির আঙিনার বদলে সড়ককেই এ কাজে ব্যবহার করছেন তারা। সড়কের ওপর ফসল ছড়িয়ে রাখায় একদিকে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন যানবাহন ও মোটরসাইকেল আরোহীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
মহম্মদপুর-মাগুরা সড়ক, মহম্মদপুর-নাহাটা সড়ক, বাবুখালী-মহম্মদপুর সড়ক, রাজাপুর-মহম্মদপুর ও বিনোদপুর-রাজাপুর সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের প্রায় সব সড়কই এখন ফসল মাড়াইয়ের স্থানে পরিণত হয়েছে।
গত বছর মহম্মদপুর উপজেলা প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ নিলেও এ বছর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সড়কে ফসল মাড়াইয়ের ফলে ধুলাবালিতে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
মোটরসাইকেল আরোহী মান্নান শিকদার জানান, সড়কে ফসল মাড়াইয়ের কারণে মোটরসাইকেল চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অটোচালক রহিম মোল্লা বলেন, “এই সড়ক দিয়ে অটো চালানোই কঠিন হয়ে গেছে। চাকায় ফসল জড়িয়ে আটকে যাচ্ছে।”
বাবুখালী থেকে মহম্মদপুরগামী এক বাইসাইকেল আরোহী আব্দুল হোসেন নামে এক বৃদ্ধ বলেন, “গম হচ্ছে সড়কের জমি। প্রতিদিন পিচ্ছিল গমের ওপর দিয়ে চলতে গিয়ে কয়েকবার পড়ে গেছি। কার কাছে বলব? কেউ কোনো কথা শোনে না।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিব জানান, বাড়ির উঠানের মতো সড়কেও মানুষ ফসল মাড়াই করছেন। এতে চলাচল অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি চান এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহানুর জামান বলেন, “খুব শিগগিরই জনসচেতনতামূলক একটি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপরও কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
মো. কামরুল হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি 



















