ঢাকা , রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা!

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে আগাম আলু চাষিরা ফের লোকসানের মুখে পড়েছেন।এবার আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো। তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতাশ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।

 

সম্প্রতি, তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই মলিন মুখে বসে আছে আলু চাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না চাষিরা।

 

গত মৌসুমে একইভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ঘুরে দাড়ানোর আশা নিয়ে বিলপাড়ের উঁচু জমিতে পুনরায় আগাম জাতের আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়েছেন। আলু চাষি ফিরোজ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলন যা হয়েছে তুলনামূলক ভালো।
বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ বস্তা (৭০ কেজি) করে। কিন্ত্ত বাজারে নতুন আলুর দাম নাই।

 

বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এক বস্তায় ৭০ কেজি আলু নিলেও ৬৫ কেজির দাম দেয়া হচ্ছে। সব মিলে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা আসছে। এতে বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

আলু চাষি রইচ উদ্দিন জানান,তিনি সাড়ে তিন বিঘা আলু উত্তোলন করে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।অপর কৃষক জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।তারা জানান বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় আছে। আবার ঢলন বাবদ ৫ কেজি করে বাড়তি দিতে হচ্ছে।

 

৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম পাচ্ছি। যে কারণে প্রতি বস্তায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই হিসেবে ঢলন বাবদ প্রতি বিঘায় ২৫০ কেজি করে বাড়তি আলু নিচ্ছে ব্যবসায়িরা। যার দাম লাগছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি করে ঢলন না দিলে তারা আলু কিনছে না। ঢলন টাই নাকি তাদের লাভ। কারণ আলুর দাম নাই। আবার এখান থেকে আলু ট্রাকে করে খুলনায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন। এখান থেকে খুলনা যাওয়া ও সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করার পর আলু বিক্রি করে। এজন্য জমির কাঁচা আলু নাকি অনেক শুকিয়ে যায়।

 

তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত হন ব্যবসায়ী আইনুল, তিনি জানান, এসব আলু সব যাবে খুলনা। সেখানে গিয়ে খুববেশি হলে কেজিতে এক টাকা থেকে দু’টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে। ঢলনের নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে আলু নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি থেকে একেবারেই কাঁচা আলু কিনা হচ্ছে। খুলনা মোকামে যেতেই অনেক ওজন কমে যায়। আবার কয়েকদিন বিক্রি করতে না পারলে বেশি পরিমান কমে। এ জন্য ঢলন নিতে হয়।

 

অপর ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন,গত বছরের মতো এবছরেও আলুতে ধরাশায়ী চাষিরা। কারণ বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করে পাচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

মুনসুর নামের এক আলু চাষি জানান, রাব্বানী ২৫ কাঠা জমির আলু তুলে সাড়ে ৯ টাকা কেজি করে বিক্রি করেছেন। গতবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ধরা খেয়ে এবার কমিয়ে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন।

 

চাষিরা জানান, পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি। যারা আগে আলু রোপন করেছিলেন তাদের আলু উঠতে শুরু করেছে। অবশ্য এবার জমি লীজ ও বীজ আলু কম দামে পাওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের কারনে অনেকটা বেড়েছে উৎপাদন খরচ।

 

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তুলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন করে ফলন হয়েছে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।

 

এবিষয়ো কৃষি বিপণন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শাহানা আখতার জাহানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই ভাই গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা!

আপডেট টাইম : ১৯ ঘন্টা আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

রাজশাহীর তানোরে আগাম আলু চাষিরা ফের লোকসানের মুখে পড়েছেন।এবার আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো। তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতাশ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।

 

সম্প্রতি, তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই মলিন মুখে বসে আছে আলু চাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না চাষিরা।

 

গত মৌসুমে একইভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ঘুরে দাড়ানোর আশা নিয়ে বিলপাড়ের উঁচু জমিতে পুনরায় আগাম জাতের আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়েছেন। আলু চাষি ফিরোজ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলন যা হয়েছে তুলনামূলক ভালো।
বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ বস্তা (৭০ কেজি) করে। কিন্ত্ত বাজারে নতুন আলুর দাম নাই।

 

বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এক বস্তায় ৭০ কেজি আলু নিলেও ৬৫ কেজির দাম দেয়া হচ্ছে। সব মিলে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা আসছে। এতে বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

আলু চাষি রইচ উদ্দিন জানান,তিনি সাড়ে তিন বিঘা আলু উত্তোলন করে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।অপর কৃষক জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।তারা জানান বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় আছে। আবার ঢলন বাবদ ৫ কেজি করে বাড়তি দিতে হচ্ছে।

 

৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম পাচ্ছি। যে কারণে প্রতি বস্তায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই হিসেবে ঢলন বাবদ প্রতি বিঘায় ২৫০ কেজি করে বাড়তি আলু নিচ্ছে ব্যবসায়িরা। যার দাম লাগছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি করে ঢলন না দিলে তারা আলু কিনছে না। ঢলন টাই নাকি তাদের লাভ। কারণ আলুর দাম নাই। আবার এখান থেকে আলু ট্রাকে করে খুলনায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন। এখান থেকে খুলনা যাওয়া ও সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করার পর আলু বিক্রি করে। এজন্য জমির কাঁচা আলু নাকি অনেক শুকিয়ে যায়।

 

তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত হন ব্যবসায়ী আইনুল, তিনি জানান, এসব আলু সব যাবে খুলনা। সেখানে গিয়ে খুববেশি হলে কেজিতে এক টাকা থেকে দু’টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে। ঢলনের নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে আলু নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি থেকে একেবারেই কাঁচা আলু কিনা হচ্ছে। খুলনা মোকামে যেতেই অনেক ওজন কমে যায়। আবার কয়েকদিন বিক্রি করতে না পারলে বেশি পরিমান কমে। এ জন্য ঢলন নিতে হয়।

 

অপর ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন,গত বছরের মতো এবছরেও আলুতে ধরাশায়ী চাষিরা। কারণ বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করে পাচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

মুনসুর নামের এক আলু চাষি জানান, রাব্বানী ২৫ কাঠা জমির আলু তুলে সাড়ে ৯ টাকা কেজি করে বিক্রি করেছেন। গতবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ধরা খেয়ে এবার কমিয়ে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন।

 

চাষিরা জানান, পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি। যারা আগে আলু রোপন করেছিলেন তাদের আলু উঠতে শুরু করেছে। অবশ্য এবার জমি লীজ ও বীজ আলু কম দামে পাওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের কারনে অনেকটা বেড়েছে উৎপাদন খরচ।

 

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তুলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন করে ফলন হয়েছে। দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।

 

এবিষয়ো কৃষি বিপণন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শাহানা আখতার জাহানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


প্রিন্ট